রেশন কার্ড জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতার কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামাল মৃধা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, যে লিয়াকত আলীর মামলায় ঈদের আগের দিন জামাল মৃধাকে কারাগারে যেতে হয়; সেই লিয়াকতই বর্তমানে পলাতক। এলাকার সাবেক মেম্বার মাহাতাবের আশ্রয়প্রশ্রয়েই পলাতক রয়েছেন লিয়াকত আলী।
জানা গেছে, চাটুকারিতা ও দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি ওএমএস কার্ড সংগ্রহ করে নিজের অধীনে রাখেন লিয়াকত আলী। এই কার্ড যাচাই বাছাইয়ের কাজ করতে গিয়েই গত ২৩ মে সন্ধ্যা রাতে লিয়াকতের বাড়িতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হন জামাল মৃধা। কার্ড চাওয়ায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করা হয় জামাল মেম্বারকে। একপর্যায়ে জামাল মৃধা লিয়াকতকে একটি চড় মারলে সেই উছিলায় শুরু হয় মেম্বার বিরোধী ষড়যন্ত্র। ঘটনা ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কাছে। তারই জের ধরে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে গ্রেফতার হন জামাল মৃধা। মিথ্যা মামলায় ঈদের তিনদিন কারাগারে কাটানোর পর জামিনে মুক্তি পান জামাল মেম্বার। এদিকে প্রিয় নেতাকে কারাগারে থাকায় ঈদ থেকে বিরত থাকেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভক্ত-অনুসারীরা। পরে ঈদের চতুর্থদিন ঈদ পালন করেন তারা।
সরেজমিনে লিয়াকতের বাড়ি হাজির হয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই পলাতক লিয়াকত। স্থানীয়রা জানান, লিয়াকত ও তার সহযোগী কয়েক জনের কাছে জিম্মি হয়ে আছে গোটা এলাকা । কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়রানির শিকার হতে হয়। লিয়াকত নিয়মিত মাদক সেবন করে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তার প্রকাশ্য কোনো আয়ের উৎস নেই। এলাকার ভিতর অন্যতম মাদক ব্যবসায়ী সে, সংঘবদ্ধ চক্রের সহযোগিতা পেয়ে লিয়াকত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন।
ইত্তেফাক/এএম
