ধারাবাহিক থ্রিলার

সাইকোপ্যাথ (পর্ব ৫)

আপডেট : ০৫ জুন ২০২০, ১৩:১৮

চার. 
অলোকেশ ও উর্বী সঙ্গে সঙ্গে তাদের ডেরায় ফিরল না। টুকটাক কিছু বাজার করার ছিল। এখানে রান্নাবান্না ঘর গোছানো সব নিজেদেরই করতে হবে, নো ছুটাবুয়া, নো কাজের মাসি। বাইরে খাবারও জো নেই। খাবারের দাম অনেক, তাছাড়া কাছেপিঠে কোথাও ইন্ডিয়ান ফুডশপ পাওয়া যাচ্ছে না।

অস্টিন হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে কিছুদূর হাঁটলে র‌্যাপিড ট্রেন স্টেশন। হাইডেলবার্গ ইস্ট স্টেশন থেকে ওরা দুজন ট্রেন ধরল। এখানে নগদ ডলারে ভাড়া মেটানোর নিয়ম নেই। যাত্রা শুরুর আগেই স্টেশন থেকে ‘মাই-কি’ কিনে নাও, তারপর সেই কার্ড সোঅ্যাপ করে ভাড়া মেটাও। মাই-কি একরকম কার্ড, যাতে ইচ্ছেমতো ডলার টপ-আপ করা যায়। ফুরিয়ে গেলে আবারও ডলার ঢোকাও। ক্যাশ পেমেন্টের ঝক্কি নেই। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার অন্য স্টেটে মাই-কি চলবে না। যেমন সিডনিতে চলে ওপাল কার্ড। নাম ভিন্ন হলেও ‘কাম’ একই। আলাদিনের চেরাগের মতো ঘষে ভাড়া পরিশোধ করতে হয়।

র‌্যাপিড ট্রেনে চেপে শহরের মাঝখানে ফ্লিন্ডার্স স্ট্রিটে নামল ওরা দুজন। ভিক্টোরিয়া স্টেটের রাজধানী মেলবোর্ন শহরের সবচেয়ে জনবহুল জায়গা এটি। ফ্লিন্ডার্স স্ট্রিট স্টেশন থেকে দূরপাল্লার সব ট্রেন ও বাস ছেড়ে যায়। এই শহরে বিমানবন্দর আছে মোট তিনটি। মেলবোর্ন, এসেনডন ও অ্যাভালন এয়ারপোর্ট। তাছাড়া ‘পোর্ট অব মেলবোর্ন’ থেকে নানান গন্তব্যে জাহাজ ছেড়ে যায়। প্রচুর সংখ্যক পর্যটক এখান থেকে সমুদ্রপথে তাসমানিয়া বেড়াতে যায়।

‘দ্য রিজেক্টস’ বলে একটা দোকান আছে। ফ্লিন্ডার্স স্ট্রিট থেকে পায়েহাঁটা দূরত্বে এর অবস্থান। নাম শুনে উর্বী ঠোঁট ওল্টালেও গিয়ে দেখে বাহারি সব জিনিসপত্রে ঠাসা এই সুপার ব্র্যান্ডশপ। নামের সাথে কামেরও বেশ মিল আছে। কারণ এখানে পোশাকাদি খুব সস্তা দামে বিকোয়। রিজেক্ট বলে জামাপোশাক কিন্তু পুরোনো বা অচল মাল নয়। 

উর্বী ঝটপটাপট চারখানা টপস আর তিনখানা ডিভাইডারস কিনে ফেলল। অলোকেশ কিনলেন পোলো টি-শার্ট। বে-সাইজ কিনা, তাই দামে কম। দেখেশুনে কিনলে আর ঠকতে হয় না। দামের তুলনায় পণ্যের মান অনেক ভালো। 

পাশেই অস্ট্রেলিয়ার সুবিখ্যাত মুদিখানা কোলস। এখানে বড়শি থেকে শুরু করে খানাদানা, চটি-জুতো সব পাওয়া যায়। সবজির বেশ দাম, কিন্তু তুলনামূলক কম দামে মাছ-মাংস অঢেল মেলে। উর্বী বলল, সে ক্যাঙ্গারুর মাংস খাবে। ওরা দেখেশুনে মাছ-মাংসের সেক্টরে গেল। গিয়ে দেখে সারি সারি চামড়া ছাড়ানো ক্যাঙ্গারু সাজানো আছে। বড়ো, ছোটো, মাঝারি—সবরকম আছে। আট কিলো সাইজ মাত্র পঞ্চাশ ডলার। কিন্তু পাশেই ছোটো একটা, তার দাম অনেক বেশি। তেরো ডলার প্রতি কেজি।

এটা কী হলো? অলোক ও উর্বী দুজনেই কিছুটা ধন্ধে পড়ল। সেইম জিনিস, ছোটো হলে বেশি দাম। কেসটা কী!  

পরে ওরা লক্ষ করল, দেখতে ক্যাঙ্গারুর মতো হলেও ছোটোটা আদতে ওয়ালাবি, ক্যাঙ্গারু নয়। লোকাল যারা তারা বলে ‘ওলাবি’ বা ‘ওলিব’। মাঝখান থেকে জলজ্যান্ত একটা ‘আ’ বাদ দিয়ে দেয়।

নাহ্, আজ তাহলে ক্যাঙ্গারু বাদ থাক। ওলাবি কী জিনিস জানি না, আগে দেখেশুনে নিই, তারপর ক্যাঙ্গারু খাবো। উর্বী বলল।

অলোকেশের অবশ্য আপত্তি ছিল না কিছু। সে জানে ক্যাঙ্গারুর মাংস খেতে অনেকটা হরিণশাবকের মতো। নট সো ব্যাড।

দিন সাতেক চলবে এমন কিছু কাঁচাবাজার করে ওরা বাসার পথ ধরল। চাইলে ওরা বাসে করেও ফিরতে পারে। ভি-লাইন বলে একটা কোম্পানি এই শহরে বাসসার্ভিস পরিচালনা করে। আমাদের দেশের মতো দাগি রাজনীতিক বা ক্ষমতাধর কেউ পুরো শহরের বাসকোম্পানির ইজারা নিয়ে রাখেনি। এখানে আইন আছে, নিয়ম-কানুন মেনে তবে বাস চালাতে হয়। যার-তার হাতে স্টিয়ারিং তুলে দেবার সুযোগ নেই।

একটা ব্যাপার লক্ষ করেছ অলোক? উর্বী বলল।

কী ব্যাপার বলো তো?

এখানে প্রতিটি বাড়ির চারপাশে কাঠের বেড়া দেওয়া, আর বাড়ির সামনে কিছু না কিছু ফুলগাছ থাকবেই। তার মানে এরা সৌন্দর্যের কদর বোঝে। মেলবোর্নবাসী শান্তিপ্রিয় মানুষ।

হুম। তা-ই তো দেখছি।

ফিরতিপথে ওরা বেলফিল্ড নেমে পড়ল। এটা রোজানা মিউনিসিপালিটির মধ্যে পড়েছে। হাতে স্ট্রিটম্যাপ আছে, তাই ওরা হেঁটেই চেরি স্ট্রিট পৌঁছে যাবে। কিছুদূর গিয়ে দেখে একটা কুকুর শুয়ে আছে কাঠের বেড়ার ফাঁকে। বড়ো করুণ ওর দৃষ্টি।

কেসটা কী উর্বী? কুকুরটার কেউ নেই নাকি! অলোকেশ বললেন।

হয়তো আছে। মালিক কাজে গেছে, কুকুরটা তাই মনিবের জন্যে এখানে অপেক্ষা করছে।

ওরা আরেকটু কাছে যেতে কুকুরটা একবার চোখ তুলে তাকাল। ভ্রু কোঁচকাল কুকুরটা। অর্থাৎ সে বুঝতে পারছে এরা তার চেনা বা পরিচিত কেউ নয়, ভিনদেশি অতিথি।

দেখেছো উর্বী, মানুষের জন্যে কুকুরের কত মায়া! অথচ আমরা মানুষ হয়েও মানুষ খুন করছি। ড্রাগ খাইয়ে কারো নাক কেটে নিচ্ছি। সত্যি, আমরা কুকুরের চেয়েও অধম! মনখারাপ করা গলায় বললেন অলোকেশ। অস্টিন হাসপাতালের সেই নাককাটার জন্য নিশ্চয়ই তার মন খারাপ হচ্ছে। প্রোজ্যাক খাইয়ে যার নাক কেটে নিয়েছে খুনিটা।

এখানে জনঘনত্ব বেশ কম। অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের একেবারে দক্ষিণ-পুবে অবস্থিত মেলবোর্ন শহরের আয়তন দশ হাজার বর্গ কিলোমিটার। অথচ শহরের লোকসংখ্যা মাত্র লাখ পঞ্চাশেক। শহরতলিতে এই হার আরো কম। একেকটা বাড়ি যেন দ্বীপের মতো, অনেক দূর থেকে শুধু চূড়া দেখা যায়। কুকুরটার কথা মন থেকে সরাতে পারে না উর্বী। বড়োই নিঃসঙ্গ কুকুরটা মূলত মানুষেরই প্রতিরূপ। একটা সময় মানুষও অমন নিঃসঙ্গ ও অদরকারি হয়ে পড়ে। ছেলেমেয়েরাও তখন তাকে বাড়তি মনে করে, মোটেও সময় দেয় না বা খোঁজখবরও করে না। আহা নিয়তি!  

দেখো অলোকেশ, কী সুন্দর ফুল! রাস্তার পাশে চওড়া ফুটপাত বরাবর হাঁটতে হাঁটতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে উর্বী।  

কিছু কিছু ফুলের নাম লেখা আছে। সাদা বোতামের মতো একরকম ফুল, পিটুনিয়া। হঠাৎ দেখলে মনে হবে কোটের বোতাম। ডেইজি আছে কিছু। ক্যাঙ্গারুর পায়ের মতো দেখতে লাল টকটকে একরকম ফুল, নামও ঠিক তাই, ক্যাঙ্গারু-পা। আরো আছে জারবেরা, ডালিয়া, সিলভিয়া, কসমস ইত্যাদি। মেলবোর্নবাসীর পুষ্পপ্রীতি ওদের মুগ্ধ করে।

বাসায় ফিরে উর্বী ফ্রেশ হয়ে রান্নার জোগাড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ওদের বাড়ি ভিন্ন, কিন্তু খানাদানা পড়ালেখা সব অলোকের ডেরায়।

কোলস সুপারশপ থেকে ওরা একরকম সুগন্ধি চাল কিনে এনেছে। উর্বী বলল, আজ তাহলে পোলাও হোক। ডিম-পোলাও! এগ পোলাও উইথ এগপ্লান্টস।

দুটোই তো ডিম হয়ে গেল। এগ অ্যান্ড এগপ্লান্টস মানে বেগুন! মজা করে বলল ডিটেকটিভ অলোকেশ।

হোক না, তাতে কী! বেগুন আমার বেজায় পছন্দ। উর্বী বলল। ভর্তা-ভাজি-রান্না বা পোড়া, সবরকমভাবে চলে। 

জো হুকুম, জাঁহাপনা। ঘাড় নাড়লেন অলোকেশ। 

রান্না চাপিয়ে উর্বী অলোকেশের পড়ার টেবিলে এসে বসল। তারপর..? কী ভাবছো ডিটেকটিভ! কেসটা আসলে কী?

কী আবার! এটা নিশ্চয়ই কোনো আধপাগলের কাণ্ড! নইলে কেউ কাউকে ভুলিয়েভালিয়ে প্রোজ্যাক ইনজেক্ট করে তারপর তার নাক কেটে দেয়! ওর নির্ঘাত মস্তিষ্কে প্রবলেম আছে।

তা তো আছেই। কিন্তু আসামি কে, তাকে ধরতে হবে না!

হুম। কণ্ঠে নাসিক্য ধ্বনি মিলিয়ে একরকম শব্দ করলেন অলোকেশ। তারপর একটু ভেবে নিয়ে বললেন, দুটো বিষয় আমাকে খুব ভাবাচ্ছে, বুঝলে উর্বী।

কী বিষয়?

নাককাটা লোকটা কিছু বলছে না কেন! আততায়ী কি তাকে হুমকি দিয়ে রেখেছে যে কিছু ফাঁস করলে তাকে জানে মেরে দেবে!

হতে পারে, আবার না-ও পারে। উর্বী বলল। দেখলে না ডক্টর বললেন, ওষুধের প্রভাবে ওর ‘অ্যামনেজিয়া’ হয়েছে। অর্থাৎ স্বল্পকালীন স্মৃতিবিভ্রাট। নাককাটা লোকটা কিচ্ছু মনে করতে পারছে না।

অস্টিন হাসপাতালের ডাক্তার আরো বললেন, ওর নাকটা খুব মিহি করে কেটে নেওয়া হয়েছে। হতে পারে ওটা সার্জিক্যাল নাইফ। কী বুঝলে, উর্বী?

তার মানে তুমি বলতে চাইছো যে, সেই বদ লোকটা ডাক্তারি পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে?

অলোকেশ সমর্থন করে বললেন, এগজাক্টলি।   

কিন্তু একজন ডাক্তার এই কাজ কেন করবেন! তার কি প্রফেশনাল কমিটমেন্ট নেই! ঠিক মানতে পারে না উর্বী।

পাগলের আবার কমিটমেন্ট! শ্রাগ করলেন অলোকেশ।

কিচেন থেকে ইলেক্ট্রিক কুকার সিটি দেয়, যেন সে বলতে চায় ‘আমাকে বন্ধ করো এবং খাদ্যখানা নামাও’। ফলে উর্বী কিচেনে ফিরে গেল। পোলাও পুড়ছে কি না কে জানে! 

ল্যাপটপ নিয়ে বসলেন ডিটেকটিভ অলোকেশ। ‘দ্য এজ’ পত্রিকার রিপোর্টার মিস রিনি সেনের সঙ্গে একবার কথা বলতে পারলে হতো। প্রফেসর কিম বলেছেন তিনি ব্যবস্থা করবেন।

গুগল সার্চ ইঞ্জিনে ঢুকে টাইপ করলেন, ‘সিরিয়াল কিলার অ্যান্ড অ্যা ডক্টর’। নাহ্ খুব বেশি লিংক কিন্তু এলো না।

সাম্প্রতিক সময়ের একজনকে পাওয়া গেল। তার নাম হ্যারন্ড ফ্রেডরিক শিপম্যান। সিরিয়াল কিলার। ২০০০ সালের ৩১ জানুয়ারি জুরিবোর্ড তাকে খুনি সাব্যস্ত করে রায় দেন। তার বিরুদ্ধে অন্তত ২১৫ জনকে খুনের অভিযোগ ছিল। হ্যারন্ড শিপম্যানকে তখন ‘ডক্টর ডেথ’ বলে নামকরণ করা হয়। তার জন্ম ইংল্যান্ডে, জিপি বা জেনারেল প্র্যাকটিশনার হিসেবে কাজ করত এই খুনি ডাক্তার শিপম্যান।

এইটুকু পড়ে খুব বিপন্ন বোধ করেন ডিটেকটিভ অলোকেশ। গলা চড়ালেন তিনি, উর্বী, জলদি এদিকে আসো তো। পারলে কড়া করে এক মগ কফি নিয়ে এসো। 

কী হলো অলোকেশ, অমন চেঁচাচ্ছ কেন?

এই দেখো কাণ্ড। দেখো, দেখো, হ্যারল্ড শিপম্যান ওরফে ডক্টর ডেথ, মানুষ খুন করাই যার কাজ। জন্ম নটিংহ্যামে, ১৯৪৬ সালে। ডাক্তারির আড়ালে মানুষ খুন করাই ছিল তার পেশা। ভাবতে পারো, কী সাংঘাতিক ব্যাপার! রোগীই কিনা তার মস্তিষ্ক বিকৃতির শিকার!

উইকিপিডিয়ায় ছবিসহ সব তথ্যাদি উঠে এসেছে। তার লালচে মুখ, সাদাকালো চুল, চোখে চশমা, দেখে মনে হয় ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না। এই লোকটি অন্তত আড়াই শ’ মানুষ খুন করেছে, যাদের বয়স একটু বেশি, অর্থাৎ ষাটের ওপরে।

অদ্ভুত তো! বেছে বেছে কেবল অসহায় বুড়োদেরকেই মেরেছে লোকটা! উর্বী বিস্ময় প্রকাশ করে।

রান্না রেখে উর্বী ঝটপট দু মগ কফি বানিয়ে আনল। এই সিরিয়াল কিলার সম্পর্কে আরো কিছু চমকপ্রদ তথ্য খুঁজে বের করলেন অলোকেশ রয়।

লোকটা ইংলিশ। ছোটোবেলায় একবার সে কুকুরের কামড় খেয়ে জলাতংক রোগ বাঁধিয়েছিল। এর বাপ ছিল ম্যাজন মানে রাজমিস্ত্রী। মা ফ্রুটসেলার। শিপম্যানের বয়স যখন সতেরো, তখন তার মা ল্যারি জোনস লাং ক্যানসারে মারা যান। শেষদিকে খুব কষ্ট হতো ল্যারির। শিপম্যান দেখেছে যে মরফিন ইনজেকশন দিলে মায়ের কষ্টটা একটু কমত। সেই থেকে হয়তো ‘মোডাস অপারেন্ডি’ হিসেবে এই খুনে ডাক্তার বেছে নেয় মরফিন অ্যামপুল। মরফিনের ওভারডোজ হলে নির্ঘাত মৃত্যু, অথচ সাদাচোখে দেখলে মনে হবে নিছক হার্ট ফেইলিওরে মারা গেছে পেশেন্ট। 

বাহ্! খুব চালাক দেখছি। কিন্তু সে কেন এই কাজ করেছে! এতগুলো বুড়োবুড়িকে মেরে তার কী লাভ হলো! উর্বী ঠিক বুঝতে পারে না।

পাগলের বুদ্ধি-বিবেচনা এমনই হয় উর্বী। এদের কাজ-কারবারের কি আর গাছপাথর থাকে! পাগল তো পাগলই। তেতো গলায় অলোকেশ বললেন। 

শিপম্যান ১৯৭০ সালে লিডস স্কুল অব মেডিসিন থেকে চিকিৎবিদ্যায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে। ইয়র্কশায়ারের ওয়েস্ট রিডিং-এ তার ডাক্তারি শুরু। প্রথম খুনটা সে করে ১৯৭৫ সালে, এক পূর্বপরিচিত রোগী তার প্রথম শিকার। আবাসিক সার্জন হিসেবে শিপম্যানের সুনাম ছিল, আর সেটাই সে কাজে লাগিয়েছে। বয়স্ক কেউ মারা গেলেও তাকে সন্দেহ করা হতো না, কারণ ডাক্তার হিসেবে তার খুব হাতযশ ছিল। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে লেখা হতো, ‘ডেথ বাই হার্ট ফেইলিওর’। ব্যস, সবকিছু মিটে গেল।

লোকটা কী করে ধরা খেল বলো তো? উত্সুক চোখে তাকায় উর্বী।

বলছি, দাঁড়াও। নেহাতই তার কপাল খারাপ, বুঝলে উর্বী। প্রায় শ’ দেড়েক রোগী মারা যাবার পর হঠাৎ একদিন গুঞ্জন ওঠে যে ডক্টর হ্যারল্ড শিপম্যান ঠিকঠাক রোগী দেখছেন না। অন্য জিপি’র তুলনায় তার হাতে রোগী মারা যাবার হার অনেক বেশি। শুধু তা-ই নয়, তিনি উল্টোপাল্টা ওষুধ দিচ্ছেন রোগীকে।

এর পেছনেও কারণ ছিল। হঠাৎ এক রিটায়ার্ড আর্মি অফিসারের মা মারা যান হ্যারল্ডের হাতে। ওই আর্মি অফিসার নিজেও একজন ডক্টর ছিলেন। তিনি জানতেন, তার মায়ের সমস্যাটা আসলে কী! তাকে মরফিন পুশ করবার কোনো দরকারই ছিল না। সেই কেসেই ফেঁসে যায় হ্যারল্ড শিপম্যান। তার বিরুদ্ধে ইনকোয়ারি হয়, জুরিবোর্ড বসে। তারপর...!

এই কেসে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় ছাড়া পায় সে, কিন্তু তারপরও বসে থাকেনি শিপম্যান। সে খেপা কুকুরের মতোন খুঁজে খুঁজে রোগী মারতে থাকে। আবার এক কেসে ধরা খায় শিপম্যান। জেলে যায় সে। অবশেষে ২০০৪ সালে জেলে বসে সে নিজেই ফাঁস লাগিয়ে মরে।

হুম! নেচার নেভার পেজ। অপরাধ করলে তার শাস্তি তো পেতেই হয়। উর্বী পেশাদার পাদ্রিদের মতো করে বলল। 

চলবে . . .

সাইকোপ্যাথ (পর্ব ১)

সাইকোপ্যাথ (পর্ব ২)

সাইকোপ্যাথ (পর্ব ৩)

সাইকোপ্যাথ (পর্ব ৪)

সাইকোপ্যাথ (পর্ব ৬)

ইত্তেফাক/আরএ