রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসের ৩ বছর, এখনও ঝুঁকি নিয়ে বসবাস

আপডেট : ১৩ জুন ২০২০, ১৮:৫৬

রাঙ্গামাটির ভয়াবহ পাহাড় ধসের মর্মান্তিক ঘটনার তিন বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৭ সালের ১৩ জুনের রাতে প্রচণ্ড বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে মাটি চাপায় প্রাণ হারান নারী ও শিশুসহ ১২০ জন। এর মধ্যে মানিকছড়িতে একটি সেনা ক্যাম্পের নিচে রাস্তায় মাটি অপসারণ করতে গিয়ে পাহাড় ধসের ঘটনায় নিহত হন দুই কর্মকর্তাসহ ৫ সেনা সদস্য।

একটানা বৃষ্টিতে রাঙ্গামাটির এত লোকের প্রাণহানি, ঘরবাড়ি, সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুতের এত ক্ষতি হবে সেদিন কেউ ভাবতেও পারেনি। মুহূর্তেই সব দিক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে রাঙ্গামাটি। বছর ঘুরে দিনটি এলে রাঙ্গামাটিবাসীর মনে দেখা দেয় আতঙ্কের সেই ভয়াল স্মৃতি।

উল্লেখ্য, ১৩ জুন রাত থেকেই রাঙ্গামাটি জেলায় শুরু হয় প্রচণ্ড বজ্রপাতসহ ভারি বৃষ্টি। রাঙ্গামাটি শহরের ভেদভেদি, মোনতলা, রাঙ্গাপানি, শিমুলতলি, সদর উপজেলার মগবান ও সাপছড়ি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে রাঙ্গামাটিতে। এছাড়া রাঙ্গামাটি সদরে ৬৬ জন, কাউখালীতে ২৩ জন, কাপ্তাইয়ে ১৮ জন, জুড়াছড়িতে ৬ জন ও বিলাইছড়িতে ২ জন নিহত হন। পাহাড় ধসের কারণে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাঙ্গামাটি শহরের ৩ দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। সেনা বাহিনী ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের দ্রুত প্রচেষ্টায় তিন দিনের মাথায় বিদ্যুৎ ও দশ দিনের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ পুন স্থাপিত হয়।

আরও পড়ুন: মায়ের সামনেই শিশুদের নির্যাতন, নাড়িয়ে দিলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

এদিকে পাহাড় ধ্বসের তিন বছর পার হলেও এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। নিরাপদ সড়ে আসা আশ্রয়হীন মানুষগুলো আজও বাস করছেন পাহাড়ের গায়ে। প্রতি বছর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার কথা বলা হলেও কেউই তা মানছেন না।

এ ব্যাপারে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, দিনটির কথা স্মরণ করে এ বছর রাঙ্গামাটি জেলায় প্রাণহানি এড়াতে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাঙ্গামাটি জেলার অতি বর্ষণের কারণে

সম্ভাব্য পাহাড় ধস প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য জেলার সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৩৩টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ২৬টি আশ্রয় কেন্দ্রের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ের জন্য জেলার প্রশাসনের ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর রাঙ্গামাটিসহ ১০টি উপজেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসি