হবিগঞ্জে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের অভিযোগ বিএনপির নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পৃথক ২টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এছাড়া আওয়ামী লীগের আরো দুই কর্মী পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেছেন। এই ৪টি মামলায় বিএনপির ৭ শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শহরের গরুর বাজার এলাকায় সওদাগর কৃষ্ণধন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বাচনী কাজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বাঁধা প্রদান ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার ডিবি পুলিশের এসআই ইকবাল বাহার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কোহিনুর আলমসহ বিএনপির ৫৩ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত প্রায় ২’শ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অপরদিকে শহরতলীর তেতৈয়া এলাকায় ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও পুলিশের কাজে বাঁধা দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার রাতে সদর থানার এএসআই রিপন বাদী হয়ে উক্ত মামলাটি দায়ের করেন। এতে ইউপি মেম্বার বাছিত মিয়াসহ ৯৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও প্রায় ৩শ’ জনকে আসামি করা হয়।
আরো পড়ুন: ভোটের জেরে ধর্ষণ, আরও একজন গ্রেপ্তার
মামলায় উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনের দিন সওদাগর কৃষ্ণধন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নির্বাচনী কাজে বাধা দেয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। পরে তাদের সাথে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি মানিকুল ইসলাম ও এসআই ইকবাল বাহারসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
এছাড়া তেতৈয়া এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়। পরে এ ঘটনায় পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে এএসআই রিপনসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে তাদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। উক্ত মামলায় তেতৈয়া গ্রামের ইদ্রিছ আলীর ছেলে সাবাজুল ইসলাম ও আব্দুল কবিরের ছেলে হাবিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/বিএএফ
