তালিকা হচ্ছে নিম্নবিত্তদের

আপডেট : ১৯ জুন ২০২০, ০১:২৫

রাজধানীর রেড জোন ঘোষিত বিভিন্ন এলাকায় লকডাউন শুরু হতে পারে যে কোনো সময়। ভেতরে ভেতরে ওয়ার্ড কাউন্সিলর আর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে চলছে প্রস্তুতি।

কয়েক জন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা নিজ এলাকার নিম্নবিত্তদের তালিকা তৈরি করছেন। যাতে লকডাউন করা হলে তাদের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছানো যায়।

পাশাপাশি লকডাউন এলাকায় যারা দায়িত্ব পালন করবেন সেই স্বেচ্ছাসেবকদেরও তালিকা করে প্রস্তুত করা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণও। ইতিমধ্যে সিটি করপোরেশন থেকে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড (ওয়ারী এলাকা) কাউন্সিলর আহমেদ ইমতিয়াজ মন্নাফী বলেন, রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত তার এলাকায় যদি জোনভিত্তিক লকডাউনের ঘোষণা আসে সেজন্য তিনি আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিম্নবিত্ত মানুষের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছেন, যাতে ত্রাণ দিতে বেগ পেতে না হয়। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুত করছেন তিনি।

ওয়ারী বিভাগের একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পূর্ব রাজাবাজারের সঙ্গেই ওয়ারী জোনভিত্তিক লকডাউন শুরুর কথা তিনি গণমাধ্যমে জেনেছিলেন। তবে এখনো লকডাউনের সিদ্ধান্ত তারা পাননি।

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, জোনভিত্তিক লকডাউনের বিষয়ে সিটি করপোরেশন থেকে এখনো কিছুই জানানো হয়নি। তবে লকডাউন কার্যকর করতে পুলিশ প্রস্তুত আছে। সিটি করপোরেশন যখনই চাইবে তখনই পুলিশি সহায়তা পাবে। পুলিশের পক্ষ থেকে নানা ধরনের প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি।

এলাকাভিত্তিক সংক্রমণ হারে রেড, ইয়োলো ও গ্রীন—এই তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। ঢাকার দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪৫টি এলাকাকে রেড জোন বা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭টি এবং দক্ষিণ সিটির ২৮টি এলাকা রয়েছে। এসব এলাকা জোনভিত্তিক লকডাউন করা শুধুই আলোচনাতেই আছে। কার্যকরের কোনো লক্ষণই এখনো নেই ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় কারিগরি কমিটি এলাকা ম্যাপিং করে সিটি করপোরেশনকে নকশা জমা দেবে। এরপর মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি নিতে সিটি করপোরেশন সময় নেবে বলছে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা। কিন্তু এখনো কোনো কোনো এলাকা লকডাউন করা হবে সেই নকশায় দেয়নি সিটি করপোরেশনকে। কতদিন সময় লাগবে সেটিও নিশ্চিত নয়।

রেড জোন চিহ্নিত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে লকডাউন নিয়ে সংশয় থাকলেও কোনো প্রকার স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করে রাস্তায় চলাচল করছে অনেকে। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মুখের মাস্ক পর্যন্ত পরছেন না অনেকেই। অলিগলিতে আড্ডা, মহল্লার বাজার ও দোকানপাটে ভিড় আগের সময়ের মতোই।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এক নম্বর ওয়ার্ড (খিলগাঁও এলাকা) কাউন্সিলর মাহবুবুল আলম বলেন, তিনি পত্রিকায় দেখেছেন খিলগাঁও রেড জোনের মধ্যে আছে। তার এলাকা লকডাউন কবে হবে বা কোন এলাকা হবে তার তিনি নির্দিষ্ট কিছুই জানেন না। সিটি করপোরেশন থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে লকডাউনের আওতায় আসতে পারে এজন্য তিনি নিজ উদ্যোগে আগাম কিছু প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বলেন, লকডাউন কার্যকর করতে প্রচুর সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক প্রয়োজন। এজন্য এলাকার বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

কলাবাগান এলাকাটিও রেড জোনের আওতায় পড়েছে। লকডাউন শুরু না হলেও স্থানীয় কাউন্সিলর ও পুলিশ আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে কিছু এলাকায়। মঙ্গলবার এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়—সিআরদত্ত রোড থেকে কাঁঠালবাগান হয়ে গ্রীন রোডে যাওয়ার সড়কটি একমুখী করা হবে। কাঁঠালবাগান এলাকার গাড়ি বের হবে গ্রিনরোডে। ভূতেরগলির গাড়ি গ্রীন রোডে বের হবে। তবে ভূতেরগলি এলাকায় প্রবেশ করতে হবে হাতিরপুল-সেন্ট্রাল রোড হয়ে। কাঁঠালবাগানে প্রবেশ করবে সিআরদত্ত রোড হয়ে। ভিড় কমানোর জন্য প্রাথমিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ এলাকা লকডাউনের আওতায় পড়লে পরবর্তীতে যেভাবে সিদ্ধান্ত আসবে সেভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ