বিশেষজ্ঞমত

কর্মসংস্থানই হোক অগ্রাধিকার

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২০, ১৭:৩৫

জাতীয় বাজেট পেশের আগে আলোচনা চলে- কেমন বাজেট চাই বিষয়ে। উন্নয়নের প্রশ্ন এলে গুরুত্ব পায়- কেমন উন্নয়ন চাই। কখনও অবকাঠামো খাত প্রাধান্য পায়। কখনও সামাজিক খাতে বেশি নজর পড়ে।

১৯৯৮ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যার পর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সামনে এসেছিল। সে সময় সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল এলাকার কয়েকটি বন্যা কবলিত চরে গিয়েছিলাম সাংবাদিকতার কাজে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দু’ বছর আগে সরকারের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি ভিজিএফ কার্ডে অতি দরিদ্রদের চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কারা পাবে এ কার্ড, সেটা নিয়ে খুব আলোচনা। এক বাজারে জমা হওয়া একদল লোককে জিজ্ঞেস করি- ভিজিএফ কার্ড পেয়েছেন কী-না। উত্তরে প্রায় সকলের ক্ষোভ। তারা জানায়- ‘আমাদের কাউকে দেয়নি। ভিখারি দেখে দেখে কার্ড দিয়েছে।’ উত্তরদাতাদের অসন্তোষ থেকে কিন্তু সত্যটা বের হয়ে আসে- প্রকৃতই যাদের কার্ড পাওয়ার কথা তারাই পেয়েছে। হয়তো এ ধরনের আরও অভাবী মানুষ ওই এলাকায় ছিল। সকলে হয়ত কার্ড পায়নি। কিন্তু যারা পেয়েছে, তারা পাওয়ার যোগ্য।

করোনা দুর্যোগ ঠেকাতে বাংলাদেশে ব্যাপক ত্রাণ কাজ চলছে। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১ লাখ কোটি টাকার বেশি অর্থনৈতিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। ত্রাণ যাদের প্রয়োজন, তাদের সকলে হয়ত পাবে না। কিন্তু এটা নিশ্চিত করতে হবে যে যারা পেয়েছে বা পাবে তারা যেন পাওয়ার যোগ্য হয়। এভাবে, প্রণোদনা যেন যাদের দরকার, তারাই পায়। প্রণোদনার বড় অংশই ঋণ, সুদের হার খুব কম। পরিশোধের শর্ত সহজ। এ ক্ষেত্রেও মনে রাখতে হবে- যারা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে আন্তরিক ও সক্রিয়, তারাই যেমন ঋণ পায়। আরও মনে রাখতে হবে- ঋণের অর্থ ফেরত দানে যাদের আগ্রহ, তারা যেন এ অর্থ পায়।

আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ- বেকারত্ব বাড়তে না দেওয়া ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এ কাজে যাদের মনোযোগ বেশি, তারা যেন অগ্রাধিকার পায়।

করোনায় লকডাউন হয়েছে দেশে দেশে। এ ছোঁয়াচে ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার ভয়েও অনেকে কাজ ছেড়েছে কিংবা কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামীতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে, এমন শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার প্রতিবেদনে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ দেশে বেকার সংখ্যা তিন কোটি, এ তথ্য সরকারি হিসাবেই বের হয়ে এসেছে। কানাডায় ৭২ লাখ মানুষ বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছে। ব্রিটেনে বেকার সংখ্যা বলা হচ্ছে ২০ লাখ। ফ্রান্সে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক কোটির বেশি নাগরিক সরকারের আর্থিক সমর্থন দাবি করেছে। পাকিস্তানে বেকার সংখ্যা ১ কোটি ২০ লাখ। ভারতে এ সংখ্যা ১২ কোটিরও বেশি।

বাংলাদেশে এ সংখ্যা কত? ইমরান আহমদ (উপ-নির্বাহী পরিচালক, শক্তি ফাউন্ডেশন ও সাবেক রিসার্চ ফেলো, ম্যাককিন্স গ্লোবাল ইনস্টিটিউট) এবং সৈয়দ মফিজ কামাল (সিনিয়র অ্যানালিস্ট, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন) স¤প্রতি লিখেছেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারী বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিপর্যস্ত করে চলেছে। বাধ্যতামূলক ছুটির কারণে অর্থনীতির গতি নিæমুখী। স্বল্প আয়ের এবং / অথবা শ্রমঘণ প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর সঙ্গে যুক্তরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এ সব চাকরির বড় অংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে যুক্ত। বলা যায়, এ সব খাতের কর্মজীবী ও উদ্যোক্তা- সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। কর্মীরা অস্থায়ী। অর্থনীতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলে তাদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে। অবশ্য, স্থায়ী ধরনের প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিতদের একটি অংশও চাকরি হারাবে। সিআরআইয়ের হিসেবে, চাকরিচ্যুতির ‘স্থায়ী’ প্রভাব পড়বে আনুমানিক ৬০ লাখ লোকের ওপর- যা বেকারত্বের হার প্রায় দ্বিগুণ করবে। মোট প্রায় ২ কোটি ৪০ লোক এর যন্ত্রণা ভোগ করবে।’

তারা আরও একটি বিষয়ের প্রতি নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন- ‘নব্য দরিদ্র’। কোভিড-১৯ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার কারণে উপার্জন হারিয়ে তারা দারিদ্র সীমার নিচে চলে এসেছে বা আসবে। এদের সংখ্যা দাঁড়াবে আনুমানিক ৩ কোটি ৮০ লাখ- গ্রামে ২ কোটি ৭০ লাখ ও শহরে ১ কোটি ১০ লাখ। এভাবে নব্য দরিদ্রের হার দাঁড়াবে ২২.৬ শতাংশ। বিদ্যমান ১৮.৯ শতাংশ দরিদ্রের সঙ্গে তারা যুক্ত হবে, মোট দরিদ্র হার দাঁড়াবে ৪১.৫ শতাংশ।

উদ্বেগজনক চিত্র সন্দেহ নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পদেক্ষপও উৎসাহব্যঞ্জক। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আর্থিক ও মুদ্রা প্রণোদনার ১ লাখ কোটি টাকার বেশি প্যাকেজ জিডিপির ৩.৭ শতাংশ। কিন্তু মনে রাখতে হবে, কর্মসংস্থানবিহীন পুনরুদ্ধার গত এক দশকে অর্জিত আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিকে চরম ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, বিশেষ করে আমাদের দেশে স্বাভাবিক সময়েই যখন তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার উচ্চমাত্রায়। এ অবস্থায় কম দক্ষ মানুষের জন্য আয় তুলনামূলক কম হলেও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সামনে রেখে আরও কিছু খাতভিত্তিক প্রণোদনা ও বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন, অন্তর্ভুক্তিমূলক বা সবার জন্য উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির জন্য যা অপরিহার্য। 

ইমরান আহমদ ও সৈয়দ মফিজ কামালের এ ক্ষেত্রে সুপারিশ হচ্ছে শ্রমঘণ উপখাতগুলোত বাড়তি প্রণোদনার ব্যবস্থা করা, যা  থেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ ও বাড়তি পণ্য রফতানি করতে পারে। কৃষি (গবাদিপশু ও মৎস্য উপখাতসহ) কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় খাত- যেখানে  শ্রমদানের উপযোগী মানুষের ৪১ শতাংশ নিয়োজিত। উচ্চ কর্মস্থান সৃষ্টির অন্যান্য সংশ্লিষ্ট খাত- যেমন, তৈরি পোশাক, চিকিৎসা সংক্রান্ত পণ্য ও সরঞ্জাম উৎপাদন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন ও লজিস্টিক, খুচরা ব্যবসা, নির্মাণ, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবার প্রতিও তারা নজর দিতে বলেছেন। 
আমাদের কয়েকটি মেগা প্রকল্প রয়েছে, যেমন পদ্মা সেতু, রাজধানীতে মেট্রোরেল প্রকল্প, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল। এ সব প্রকল্পে অনেক অদক্ষ ও কম দক্ষ কর্মীর কাজের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে পদ্মা সেতুর কাজ চলছে। স্বাস্থ্য বিধির প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অন্যান্য প্রকল্পের কাজ দ্রুত চালু করা প্রয়োজন। 

এমএসএমই-এর মতো অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে (যাদের ব্যাংক ঋণ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই) অর্থায়নেও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা চাই। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের অবদান বিপুল। দুঃসময়ে ব্যাংক ঋণ সহায়তা পেলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।   

আমরা এটাও জানি, ৬ কোটি শ্রমশক্তির ৮৪ শতাংশ কৃষি, দিনচুক্তি ভিত্তিক নির্মাণ কাজ, পরিবহন, কিংবা শহরের রাজপথে-ফুটপাতে হকারের মতো কোনো না কোনো ধরনের অনানুষ্ঠানিক খাত কিংবা ‘স্বল্প আয়ের’ শ্রমের সঙ্গে যুক্ত। এ সব খাতের কর্মীদের দক্ষতা কম, আয় কম। উদ্যোক্তাদের হাতে নগদ অর্থ কম থাকে। এদের দিকে তাকাতে হবে। ইমরান আহমদ ও সৈয়দ মফিজ কামাল আরও একটি বিষয়ের প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন- প্রবাস থেকে ফিরতে বাধ্য হওয়া কর্মীদের সদস্যা। প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ, যা গ্রামীণ পরিবারগুলোতে ভোগের চাহিদা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আরও অনেকে কাজ হারিয়ে দেশে ফিরতে পারেন। যারা কোনোভাবে প্রবাসে টিকে যাবে, তাদের আয় কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এ কারণে রেমিট্যান্স কমবে। রেমিট্যান্স কাজে লাগিয়ে তাদের পরিবার যে উৎপাদনমূলক কাজ করছে তাতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস, ২০২০ সালে রেমিট্যান্স প্রবাহ ২২ শতাংশ কমবে।

বাংলাদেশে অর্থনীতিতে আরও একটি খাত রয়েছে- মাইক্রো এসএমই। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান প্রায় এক কোটি, যেখানে কাজ করে প্রায় প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ লোক। ২০১৫ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বলেছিল, জিডিপিতে এ খাতের অবদান ২৫ শতাংশের মতো। মোট উৎপাদনের ৪০ শতাংশ আসে এ খাত থেকে। এসএমই ফাউন্ডেশন-এর হিসাব অনুযায়ী বেসরকারি খাতের প্রতি তিনটি চাকুরীর ক্ষেত্রে মাইক্রো এসএমই-এর অবদান দুটি। লাইটক্যাসল পার্টনারস দেখিয়েছে, কৃষিতে মোট কর্মসংস্থানের ৭০-৮০ শতাংশ সৃষ্টি করছে এই খাত। 

উচ্চ উৎপাদনশীল ম্যানুফাকচারিং থেকে আসে জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশ। মোট কর্মসংস্থানে এ খাতের অবদান ১৪ শতাংশ, কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে কর্মসংস্থানে এ খাতের গুণিতক অবদান রয়েছে। অর্থনীতিবিদ জায়েদি সাত্তারের এক নিবন্ধে বলা হয়েছে- তৈরি পোশাক শিল্প, নিটিং, ফার্নিচার, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত ও হাল্কা প্রকৌশল-এর মতো ম্যানুফ্যাকচারিং খাত চাকরির রয়েছে গুণিতক প্রভাব। একটি উদ্যোগ নতুন উদ্যোগের কারণ হয়। কিন্তু বিশ্বব্যাপী মন্দার যে শঙ্কা তাতে রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প বিশেষভাবে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বাণিজ্য (পাইকারি ও খুচরা), পরিবহন ও লজিস্টিক এবং নির্মাণের মতো খাত অভ্যন্তরীণ চাহিদার দ্বারা পরিচালিত হয়। এ সব খাতেও নজর না পড়লে কর্মসংস্থানে বিরূপ প্রভাব পড়বে। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রণোদনা প্যাকেজ সুসমন্বিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং এর লক্ষ্য অর্থনীতির সব গুরুত্বপূর্ণ শাখার পুনর্গঠন ও সক্রিয় করার জন্য অতি প্রয়োজনীয় অর্থের জোগানদান। একসঙ্গে আর্থিক ও মুদ্রা প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদ্দেশ্য স্পষ্ট- অপরিহার্য ভোগের সামগ্রীর সংস্থানের জন্য শিল্প ও সেবা খাতের কর্মীরা যেন বেতন এবং স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো ন্যূনতম উপার্জন বা খাদ্য সরবরাহ পায়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রণোদনা প্যাকেজ যথেষ্ট বড় আকারের এবং অন্য কোথাও এ ধরনের নজিরও মিলবে না। বাংলাদেশ ম্যাক্রোইকোনমিক স্থিতিশীলতার কারণে (ঋণ হার কম, কম বাজেট ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারা এবং বৈদেশিক মুদ্রার মজুত- বর্তমানে এর পরিমাণ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি, পাকিস্তানে যা ১০ বিলিয়ন ডলার, ভাল অবস্থানে থাকা) বাংলাদেশ স্বল্প মেয়াদে ঋণগ্রহণ এবং তা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যবহার করার মতো সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ইকোনমিস্ট ইন্টালিজেন্স ইউনিটের মূল্যায়ন অনুযায়ী ৬৬ টি উদীয়মান অর্থনীতির মধ্যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশের অবস্থান নবম। কর-জিডিপি অনুপাতের নিæ হার (বর্তমানে ১০ শতাংশের নিচে) থাকার পরও এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। 

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও সতর্কতামূলক জীবনধারার নতুন যুগে আমাদের যেতেই হবে। এর ফলে অনেক ধরনের সেবা বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় উদ্যোগ বাড়ানোর বিপুল সুযোগও কিন্তু সামনে এসেছে। বিকেন্দ্রীকরণ এজেন্ডা অগ্রসর করে নেওয়া প্রণোদনা প্যাকেজের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে। অনলাইন ও ডিজিটাল খাতকে অগ্রাধিকার দিতেই হবে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে। সেবা খাত ডিজিটালাইজ করার এ এক বড় সুযোগ। এর পরে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বিভিন্ন খাত থেকে রাজস্ব আয় বেশি হবে। 

ইমরান আহমদ ও সৈয়দ মফিজ কামাল বলেছেন, চাকুরিবিহীন প্রবৃদ্ধি অনেক অর্জনকে ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে। তদুপরি, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের যে সুফল আমরা ভোগ করছি তা ডেমোগ্রাফিক বোঝায় পরিণত হতে পারে। বৈষম্যের ব্যবধান বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এখন দুঃসময় চলছে, এটাই বাস্তবতা। এ জন্য সরকারের দায় নেই। কিন্তু তারা দুঃসময় কাটিয়ে ওঠার জন্য যথার্থ পদক্ষেপটিই নিয়েছে- ঘুরে দাঁড়ানো। এখন চ্যালেঞ্জ গৃহীত কর্মসূচির বাস্তবায়ন। স্বাস্থ্যসেবার কাজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এটা করতে হবে। এ জন্য অপরিহার্য হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা। পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করারও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবেই।

ইত্তেফাক/আরএ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন