ফুলবাড়ীতে বন্যার পানি বিপৎসীমার ওপরে, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২০, ১৮:২২

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে দ্বিতীয় দফায় কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢলে শিমুলবাড়ী এলাকার শেখ হাসিনা ধরলা সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া বারোমাসিয়া ও নীলকমল নদীর পানি হু হু করে বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের দুই হাজার পরিবার পানিবন্দী এবং ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের ৭’শ পরিবার আসবাবপত্র আর গৃহপালিত পশু নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে কোন রকমে উঁচু বাঁধে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন। এদিকে টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে তলিয়ে গেছে পাট, ভুট্টা, সবজি ক্ষেত, বীজতলা ও আউশ ধান।

উপজেলার ভাঙ্গামোড়,বড়ভিটা, ফুলবাড়ী, শিমুলবাড়ী ও নাওডাঙ্গা ইউনিয়নে সোমবার (১৩জুলাই) সকালে গিয়ে দেখা গেছে, পানিবন্দী ও বাঁধে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে জীবন-যাপন করছেন। এভাবে টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে ভারত থেকে পানি আসা অব্যাহত থাকলে আগামী দুই একদিনের মধ্যে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়বে। 

এদিকে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে তলিয়ে গেছে পাট, ভুট্টা, সবজি ক্ষেত,বীজতলা ও আউশ ধান। সেই সাথে তলিয়ে গেছে এ সব এলাকার গ্রামীণ রাস্তাসহ উঁচু এলাকার ও পাকা, আধাপাকা সড়কগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয় দফায় বন্যার আঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী।

কুড়িগ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, শিমুলবাড়ী এলাকায় শেখ হাসিনা ধরলা সেতু পয়েন্টে ধরলার নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আশা করছি আগামী দুই একদিনের মধ্যে ধরলার পানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: চিলমারীতে দ্বিতীয় দফা বন্যায় ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী

শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের সোনাইকাজী গ্রামের হযরত আলী ও মকিম উদ্দিনসহ অধিকাংশ পরিবার পানিবন্দী। তারা জানান,আমাদের সবার বাড়ি ও টিউওয়েল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। রান্না করা ও বিশুদ্ধ পানির সমস্যা থাকায় গত কয়েকদিন ধরে মানুষের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। এখন পর্যন্ত কেউ খোঁজখবর নেয়নি। 

ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বাবু জানান,তার ইউনিয়নের বানের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ১ হাজার পরিবার উঁচু বাঁধে ও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের খাবার,বিশুদ্ধ পানি ও পয় নিষ্কাশনের সমস্যাসহ নানা সমস্যা নিয়ে তারা বসবাস করছেন। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান জানান,উপজেলায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দী ও ৭’শ পরিবার উঁচু বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। ধরলার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সোমবার দুপুরে সব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সাথে জরুরি মিটিং করেছি। পানিবন্দী ও বানভাসীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। পানিবন্দী পরিবারগুলোর তালিকা করে জেলায় পাঠানো হয়েছে। তারপরেও প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। জিআররের ১২ মেট্রিক চাউল ও ৩০ হাজার টাকা মজুদ আছে। আগামীকাল থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে। উপজেলায় দুইটি আশ্রয় কেন্দ্রসহ মোট ৪১ টি স্কুল আশ্রয় কেন্দ্র হিসাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। 

ইত্তেফাক/এএএম