দুর্বৃত্তের হামলায় চোখ হারাতে বসেছেন প্রতিমা রাণী

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১৫:২৫

কেন্দুয়া পৌর শহরের আইথর গ্রামের প্রতিমা রাণী (৪৫) অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হামলায় মারাত্মক আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।

জানা গেছে, দুর্বৃত্তরা হামলা চালানোর সময় তার চোখে দাহ্য তরল পদার্থ মিশ্রিত কাপড় চেপে ধরেছিল। যে কারণে এক সপ্তাহ ধরে তিনি চিকিৎসাধীন থাকলেও এখনো দুই চোখে কিছুই দেখতে পারছেন না তিনি।

এ ঘটনায় দুই যুবককে আটক করলেও পরে স্থানীয়দের জিম্মায় ছেড়ে দেয় পুলিশ। স্থানীয় মাতব্বররা এ ঘটনার বিচার করার আশ্বাস দিয়ে ঘটনাটি জানাজানি করার কথা বারণ করে। তাই সংসদ নির্বাচনের আগেরদিন রাতে (২৯ ডিসেম্বর) এ ঘটনা ঘটলেও তা জানাজানি হয়নি। প্রতিমা রাণী আইথর গ্রামের নারায়ণ সূত্রধরের স্ত্রী।

খবর পেয়ে গত শুক্রবার  কেন্দুয়া উপজেলা মানবাধিকার ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নারীকর্মীরা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে গেলে ঘটনাটি জানাজানি হয়। 

প্রতিমা রাণীর পরিবার ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ২৯ ডিসেম্বর প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে গেলে পূর্ব থেকে ওঁৎপেতে থাকা অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে জাপটে ধরে। তারা চোখে-মুখে দাহ্য তরল মিশ্রিত কাপড় চেপে দিয়ে চলে যায়। পরে তার দুই চোখে ব্যাপক জ্বালা-যন্ত্রণা শুরু হলে পরিবারের লোকজন দ্রুত প্রতিমাকে প্রথমে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে তার অবস্থার অবনতি দেখে তাকে রাতেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

আহত প্রতিমা রাণীকে দেখতে গত শুক্রবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান কেন্দুয়া উপজেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক কল্যাণী হাসান, মানবাধিকার নারী সমাজের সভাপতি মেহেরুন্নেছা নেলি, রেহেনা বেগম ও রিপন আক্তার।  
নারীনেত্রী কল্যাণী হাসানের মাধ্যমে কথা হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৮ নাম্বার ওয়ার্ডের ২৯ নাম্বার বিছানায় শুয়ে থাকা প্রতিমা রাণীর সঙ্গে।

প্রতিমা রাণী জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তুলসি তলায় তিনি ধূপবাতি দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পান একটি সাদা কাগজ। তাতে লেখা ছিল, ‘আপনার শ্বশুর স্বাধন চন্দ্র সুত্রধর ছিলেন আমাদের লোক। তাই আমাদের কথায় চলতে হবে। যদি ভালো চান তবে আগামিকাল (৩০ডিসেম্বর) কেউই ভোট কেন্দ্রে যাবেন না। গেলে পরিবারের সকলের ক্ষতি হবে। অসিম কুমার উকিল বাঁচাতে পারবেন না।’ এ রকম চিরকুট তাদের গোত্রীয় আরো তিনজনের ঘরের দরজায়ও দুর্বৃত্তরা রেখে যায় বলেও জানান তিনি।

ওই চিরকুট নিয়ে প্রতিমা এলাকার সাবেক কাউন্সিলর মো. আব্দুস সেলিমের কাছে যান এবং তাকে চিরকুটটি দেখিয়ে ঘটনাটি অবহিত করেন। 

পরে বাড়িতে ফিরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে বসতঘরের পাশে থাকা বাথরুমে যাওয়ার পথে ওঁৎপেতে থাকা অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা দাহ্য তরল মিশ্রিত কাপড় দিয়ে প্রতিমা রাণীর চোখে-মুখে জাপটে ধরে পালিয়ে যায়। এ সময় তার চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন ছুটে গিয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ অ্যাসিডিটি থেকে আরাম দেবে লবঙ্গ

প্রতিমা আরো বলেন, 'আমাদের কোনো শত্রু নেই। কিন্তু আমার ওপর এ ধরনের অত্যাচার কেনো হলো তা বুঝতে পারছি না।'

স্বামী নারায়ন চন্দ্র সুত্রধর জানান, এ ঘটনার পর মহল্লার লোকজন বিচারের জন্য দায়িত্ব নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ খোঁজ খবর নেয়নি।'

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে নাবিল ও তাহসিন নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করলেও পুলিশ পরে তাদের ছেড়ে দেয়।

এ বিষয়ে সাবেক কাউন্সিল আব্দুস সেলিম বলেন, 'আমি প্রতিমার কাছ থেকে চিরকুটের বিষয়টি জেনেই থানায় অবহিত করি। এর কয়েক ঘন্টা পরেই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। এটা খুবই দুঃখজনক!'

বিচারের দায়িত্ব নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'রোগীর চিকিৎসা করাতে দেরি হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রতিমার স্বামীকে চিকিৎসার জন্য ৫ হাজার টাকাও দেওয়া হয়েছে।'

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ওসি ইমারত হোসেন গাজী জানান, 'ঘটনাটি সর্ম্পকে অবহিত থাকলেও মহল্লার মাতব্বরদের হস্তক্ষেপে ও আহত নারীর চিকিৎসার কারণে কোনো ধরনের অভিয়োগ না পওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। তবে তদন্ত চলছে।'

ওই দুই যুবককে আটকের পর ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে ওসি বলেন, 'তাদের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার কোনো ধরনের অভিযোগ না থাকায় স্থানীয় লোকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।'

ইত্তেফাক/নূহু