মির্জাপুরে বন্যার অবনতি,আঞ্চলিক সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২০, ০৯:২০

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বন্যার মারাত্মক অবনতি হয়েছে। উপজেলা সদরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। পৌরসভা থেকে ১১ ইউনিয়ন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরায় বিশুদ্ধ পানিসহ খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

যমুনা ও ধলেশ্বরীর শাখা নদী বংশাই-লৌহজং নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রায় দুই লাখ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছেন।  

মঙ্গলবার মির্জাপুর পৌরসভা এবং ১১ ইউনিয়নের বন্যা দুর্গত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিনে রাতে পানির চাপ বাড়তে থাকায় নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে তারা পরিবার নিয়ে বিভিন্ন ব্রিজ-কালভার্ট, উচু রাস্তায় অবস্থান করছেন। পৌরসভা এবং ১১ ইউনিয়নের অধিকাংশ আঞ্চলিক রোড বন্যার পানিতে ডুবে গিয়ে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিচ্ছিন্ন রয়েছে বিদ্যুৎ যোগাযোগ।

উপজেলা সদরের কলেজ রোডে মির্জাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটি, কুমুদিনী হাসপাতাল, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামসহ অধিকাংশ রাস্তা বন্যা কবলিত। কুমুদিনী হাসপাতালের রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় চিকিৎসা সেবা মারাত্মক ব্যহত হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এক দিকে করোনা পরিস্থিতি এবং অপর দিকে টানা বৃষ্টিসহ বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে কোরবানীর পশু নিয়ে চরম বিপাকে খামারী এবং বেপারিগণ বলে জানিয়েছেন।

ভাওড়া  ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন ও ভাতগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজাহারুল ইসলাম জানান, ১৯৮৮ সালের পর এবারই ভয়াবহ বন্যা। পৌরসভা, ফতেপুর, লতিফপুর, মহেড়া, জামুর্কি, বহুরিয়া, ভাওড়া, ভাদগ্রাম, ওয়ার্শি, বানাইল এবং আনাইতারা ইউনিয়নের আঞ্চলিক সড়কগুলো তলিয়ে গেছে। রাস্তা-ঘাটের পাশাপাশি মৎস্য খামার, ফসলি জমি, সবজি, গাছপালা, গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুন অর রশিদ ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, বংশাই ও লৌহজং নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দুই শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যা কবলিত।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা,. মাকসুদা খানম জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং স্বাস্থ্য উপ কেন্দ্রগুলো বন্যা কবলিত হওয়ায় চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, উপজেলার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ৪০০শ কি. মি. পাকা-আধা পাকা আঞ্চলিক সড়ক তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকার রাস্তার তালিকা তৈরী করা হচ্ছে।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক মোস্তাকিম এবং সহকারী কমিশনার (ভুমি) মীর্জা মো. জুবায়ের হোসেন জানিয়েছেন,  বন্যা কবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. এশাব্বর হোসেন এমপি এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে দরিদ্রদের ত্রাণ সহায়তা বাড়ানোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

ইত্তেফাক/এমআরএম