কে হচ্ছেন জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী?

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২০, ০৪:৪৭

স্বাস্থ্যগত কারণে হঠাত্ করেই জাপানের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শিনজো আবের সরে দাঁড়ানোয় তার দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এলডিপি) এখন নতুন নেতা নির্বাচন করতে হবে। পরে পার্লামেন্টে ভোটের মাধ্যমে নতুন প্রধানমন্ত্রী বেছে নেওয়া হবে। জাপানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে এলডিপি সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হওয়ায় খুব স্বাভাবিকভাবেই দলীয় সভাপতিই পার্লামেন্টের ভোটে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।

নতুন প্রধানমন্ত্রী না পাওয়া পর্যন্ত আবের মন্ত্রিসভা-ই সরকার পরিচালনা করতে পারবে। কিন্তু তারা কোনো নীতি নির্ধারণ করতে পারবে না। নতুন প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থাত্ আবের মেয়াদ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবে। তারপর আবার নতুন করে জাতীয় নির্বাচন হবে। জাপানে সাধারণত কোনো দলকে অন্তত এক মাস আগে নতুন নেতা নির্বাচনের ঘোষণা দিতে হয়। পার্লামেন্টে দলের সদস্যরা ছাড়াও তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা দলীয় সভাপতি নির্বাচনে ভোট দেন। কিন্তু হঠাত্ পদত্যাগের ক্ষেত্রে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ ভোটের একটি তারিখ ঘোষণা করা যায়। কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে এলডিপি এখনো তার ঘোষণা দেয়নি। শনিবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন সভাপতি নির্বাচনের ভোট হতে পারে।

সভাপতি হওয়ার দৌড়ে যারা আছেন :

এলডিপিতে দারুণ জনপ্রিয় সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিগেরু ইশিবা। দলে বা দলীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের কাছে তাই ইশবা ততটা পছন্দের নেতা নন। কিন্তু ?অন্যান্য দলের পার্লামেন্ট সদস্যরা ইশিবাকে পছন্দ করায় সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রীর জরিপে তিনি সব সময়ই এগিয়ে থাকেন।

৬৩ বছরে ফুমিও কিশিদা ২০১২-২০১৭ মেয়াদে আবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। যদিও কূটনৈতিক নানা বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ আবে নিজের হাতেই রাখতেন। হিরোশিমা থেকে আসা কিশিদাকে নিজের উত্তরসূরি হিসেবে পছন্দ করেন আবে। কিন্তু ভোটের জরিপে কিশিদার অবস্থান বেশ পেছনে।

তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে আসা ৭১ বছরের ইওশিহিদে সুগা আবের প্রথম মেয়াদে (২০০৬-০৭) তার ?অনুগত লেফটেন্যান্ট ছিলেন। আবেকে যারা ২০১২ সালে পুনরায় সভাপতি হওয়ার দৌড়ে নামার অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন সুগা সেই দলের একজন। যদিও এখনো সুগা নতুন দলীয় প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নামবেন না বলছেন। কিন্তু নিজের প্রচার ঠিকই চালিয়ে যাচ্ছেন। গত সপ্তাহে তিনি ?অন্তত চারটি বড় মিডিয়া হাউজে সাক্ষাত্কার দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: সাইপ্রাসের কাছে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে তুরস্ক

৫৬ বছরের প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারো কোনোর খামখেয়ালী হিসেবে বদনাম আছে। কিন্তু তিনি আবের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলো সমর্থন করেছেন। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করা তারো কোনো ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে পারদর্শী। তিনি এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রশাসনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। রয়টার্স।

ইত্তেফাক/আরআই