রয়টার্সের প্রতিবেদন

প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজ প্রণালির ট্রাফিকের নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে ইরান

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০০

হরমুজ প্রণালি নিয়ে প্রস্তাবিত চুক্তি বাস্তবায়িত হলে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোকে ইরানি জলসীমা এবং বহির্গামী জাহাজগুলোকে ওমানের জলসীমা ব্যবহারের নিয়ম চালুর মাধ্যমে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ অর্জন করবে তেহরান। সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে এটি ইরানের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ছাড়গুলোর একটি হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছেন, চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা বাকি রয়েছে। এক আঞ্চলিক সূত্র রয়টার্সকে বলেন, হরমুজে কোনো না কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ ইরানকে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত ছাড় ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। অন্য এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানান, নিয়ন্ত্রণ বলতে কী বোঝাবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। উপসাগরীয় দেশগুলো চাইছে, জাহাজ পরিদর্শনের তদারকি আঞ্চলিক দেশগুলোর হাতে থাকুক এবং যে কোনো ফি স্বেচ্ছাভিত্তিক হোক।

এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার টেবিলে থাকা খসড়া চুক্তিতে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি রয়েছে। তবে উপসাগর থেকে বেরিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে ইরানের ভূমিকা কী হবে, সেটিই এখন প্রধান অমীমাংসিত বিষয়। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাত্ক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 

আলোচনার বিষয়ে অবগত ইরানি ও মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার অধীনে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজ ইরানের উপকূলসংলগ্ন একটি নৌপথ ব্যবহার করবে, যা ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। অন্যদিকে, উপসাগর থেকে বেরিয়ে যাওয়া জাহাজ ওমানের উপকূলঘেঁষা পথ ব্যবহার করবে। ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, কোনো টোল আরোপ করা হবে না। তবে পরিবেশ সংরক্ষণ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মালবাহী ও তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা এবং পরিচালনাগত ব্যয় মেটাতে একটি পরিষেবা মাসোহারা নেওয়া হবে। দুই জন ইরানি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ থেকে প্রাপ্ত আয় ইরান ও ওমান সমানভাবে ভাগ করে নেবে।

ইত্তেফাক/এএম