সীতাকুণ্ডে একের এক খুন-ডাকাতি-ধর্ষণ করেও ধরাছোঁয়ার বাইরে ডাকাত শহীদ। ফলে তার বাহিনীর উৎপাতে আতংকে আছে চন্দ্রনাথ ধাম এবং ইকোপার্ক। স্থান দুটি এখন পর্যটকশূন্য বলা যায়। পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সাধারণ মানুষ। সর্বশেষ এক যুবলীগ নেতাকে প্রকাশ্য দিবালোকে নির্মমভাবে হত্যা করে ডাকাত শহীদ এলাকায় বহাল তবিয়তে রয়েছে। রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ।
সরেজমিনে পর্যটন এলাকা ঘুরে জানা যায়, গত এক দশক ধরে পৌরসদরের বাসিন্দা ডাকাত শহীদ ও তার বাহিনীর একের পর এক খুন রাহাজানি, ডাকাতি, ছিনতাই, অস্ত্র লুট, চাঁদাবাজি এবং নারী ধর্ষণ বেড়েই যাচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ ডাকাত শহীদ কতিপয় রাজনৈতিক ব্যাক্তির ছত্রছায়ায় থেকে এ সমস্ত অপকর্মগুলো দিনের পর দিন করে যাচ্ছে। উপ-মহাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম মহাতীর্থ ও পর্যটকদের জন্য বিখ্যাত দর্শনীয় স্থান চন্দ্রনাথ পাহাড়ে আসা দর্শনার্থী এবং পর্যটকরা ডাকাত শহীদ ও তার বাহিনীর প্রধান টার্গেট। তাদের কাছ থেকে সব কিছু কেড়ে নেওয়াসহ খুন ধর্ষণ করতেও দ্বিধা করে না ডাকাত শহীদ।
জানা গেছে অপকর্ম করার পর পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে তার তৈরি করা কয়েকটি ডেরাতে আত্মগোপন করে থাকে ডাকাত শহীদ। তার এ সমস্ত অপকর্মের প্রতিবাদ করতে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দাউদ সম্রাট যুব সমাজকে সচেতন করার চেষ্টা করে। তার এই তৎপরতার ফলে গত ৩১ ডিসেম্বর ঘাতক ডাকাত শহীদ নির্মমভাবে সম্রাটকে খুন করে।
ডাকাত শহীদের হুমকিতে পৌর ২টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা পর্যন্ত সবসময় আতংকের মধ্যে থাকে। তার বিরুদ্ধে পৌরসদরের আল মদিনা টাওয়ারের মালিক তাহেরের লাইসেন্স করা অস্ত্র লুটের অভিযোগ এলাকার জনগণের মুখে মুখে। হিন্দুদের বিখ্যাত বিদ্যাপীট রামকৃষ্ণ মিশনের জন্য রড ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাত শহীদ চাঁদা দাবি করে ট্রাক আটকে দেয়। তার বেপরোয়া উৎপাতের ফলে এখন চন্দ্রনাথ ধাম ও ইকোপার্ক পর্যটন স্পট পর্যটকশূন্য হয়ে যাচ্ছে। এমনকি সি-বিচগুলোতেও তেমন পর্যটক দেখা যায় না। পৌরসভা সদরের হোটেলগুলোতেও পর্যটকদের ভিড় নেই। বিধায় অলস সময় কাটান হোটেল মালিকরা।
অভিজ্ঞ মহল এবং এলাকাবাসীর দাবি ডাকাত শহীদকে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে তার ও তার বাহিনীর উৎপাত আতংক থেকে বাঁচানো। তারা আরো অভিযোগ করেন, পুলিশ ইচ্ছা করলে তাকে ধরতে পারে।
থানা সূত্রে জানা যায়, ডাকাত শহীদের বিরুদ্ধে ৩টি ডাকাতি, ১টি অস্ত্র, ১টি খুন ও ১টি নারী ধর্ষণসহ ১২টি মামলা সীতাকুণ্ড থানায় আছে।
আরও পড়ুনঃ লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসা ছাত্রকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন
এ ব্যাপারে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, ডাকাত শহীদকে ধরার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
ইত্তেফাক/নূহু

