লোকবল সংকটে কর্মজটের কবলে সৈয়দপুর রেল কারখানা!

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৪২

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

প্রতিদিন কর্মজট সৃষ্টি হচ্ছে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়। দিনে তিনটি যাত্রবাহী কোচ ও দুটি মালবাহী ওয়াগন বের হওয়ার কথা থাকলেও বের হচ্ছে একটি কোচ আর একটি ওয়াগন। লোকবল সংকটের কারণেই এমনটি হচ্ছে। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা সূত্র জানায়, বর্তমানে ওই কারখানায় কর্মরত রয়েছেন তিন হাজার ১৭১ জনবলের অনকূলে মাত্র এক হাজার ৯৮ জন শ্রমিক-কর্মচারী। এর মধ্যে যান্ত্রিক বিভাগে ৯৫৭ ও বৈদ্যুতিক বিভাগে ১৪১ জন। ওই সামান্যসংখ্যক শ্রমিক-কর্মচারী দিয়ে চলছে কোচ ও ওয়াগন মেরামত এবং ১২ হাজার রকমের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরির কাজ। তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কোচ ও ওয়াগনের আউটটার্ন হচ্ছে না। এতে করে কর্মজট সৃষ্টি হচ্ছে কারখানায়। সরজমিনে দেখা যায়, অল্পসংখ্যক শ্রমিক দিয়ে চলছে কারখানার উত্পাদন ব্যবস্থা। কথা হয় ওই কারখানার ক্যারেজ শপের ইনচার্জ ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী দিলশাদ করীম আবু হেনার সাথে। তিনি জানান, লোকবল সংকটের কারণে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ৫০ জন শ্রমিক-কর্মচারীর কাজ চলছে মাত্র ১০ জন দিয়ে। এ অবস্থা চলছে সৈয়দপুর রেল কারখানার ২৮টি শপে উপ-কারখানা। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার কার্য ব্যবস্থাপক জহিরুল আলম জানান, সারাদেশে রেলের যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে রেলওয়ের মেরামত কাজ স্বাভাবিক গতি রাখতেই হবে। কিন্তু কমসংখ্যক লোকবল দিয়ে বেশি কাজ চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, অতীতে এখানে ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। তখন দুই শিফটে কাজ হতো। ১৯৯১ সালে তত্কালীন সরকার গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের কর্মসূচি ঘোষণা করলে এই কারখানার বিপুলসংখ্যক শ্রমিক-কর্মচারী স্বেচ্ছায় অবসরে চলে যান। এরপর থেকে স্বাভাবিক অবসর ও মৃত্যুজনিত কারণে লোকবল কমে গেছে।

রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়ন কারখানা শাখার সম্পাদক শেখ রোবায়েতুর রহমান জানান, বর্তমান সরকার রেলওয়েবান্ধব। অথচ রেলওয়ের লোকবল সংকট নিরসন হচ্ছে না। এ অবস্থায় রেলওয়ে কারখানার উত্পাদন মুখ থুবড়ে পড়বে বলে আশঙ্কা তার।

এ নিয়ে কথা হয় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক মুহাম্মদ কুদরত-ই খুদার সাথে। তিনি কারখানায় কর্মজটের কথা স্বীকার করে বলেন, লোকবল সংকটের কারণে এমনটি হচ্ছে।