ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌর শহরের গজারিয়া গ্রামে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার বিকেলে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা ওই সংঘর্ষে নারী, পুরুষ, শিশুসহ অন্তত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের ভাঙ্গা ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে। ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক এবং গ্রামজুড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বুধবার সন্ধ্যায় বাচ্চু মাতুব্বরের লোকজনের সঙ্গে রাজ্জাক ফকিরের লোকজনের কথা কাটাকাটি হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে উভয় গ্রুপের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সেসময় বেশ কয়েকজন আহত হয় এবং এবিষয়ে রাজ্জাক ফকিরের পক্ষ হতে বাচ্চুর মাতুব্বরের লোকজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। রবিবার বাচ্চু মাতুব্বরের লোকজন ফরিদপুর আদালত থেকে জামিনে এসে কয়েকশত লোক দেশি অস্ত্র নিয়ে রাজ্জাক ফকিরের লোকজনের বসত ভিটার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় রাজ্জাক ফকিরের লোকজন বাধা দিতে চাইলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে রাজ্জাক ফকিরের লোকজনের অর্ধশত বসত ঘর, ব্লিডিংসহ ঘরের ভেতরে থাকা আসবার পত্র ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং স্বর্ণ, নগদ টাকা দামি আসবাব লুট করে নিয়ে যায়। রাজ্জাক ফকিরের শতাধিক লোকজন গুরুত্বর আহত হওয়াতে গ্রাম ফাঁকা হয়ে যায়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাচ্চু মাতুব্বরের লোকজন প্রতিটা টিনের ঘরের চালা, টিভি, ফ্রিজ, বাথরুমের কমড, ব্রেসিং, ওয়াল সোকেজ, আলমারী, খাট, ডাইনিং টেবিল পর্যন্ত ভাঙচুর করে। প্রতিটি বাড়িতে ভাঙচুরের কারণে প্রায় কোটি টাকা সম্পদ নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজ্জাক ফকিরের স্ত্রী ঝর্না বেগম জানায়, আদিম যুুগের মানুষের মত বর্বর আচরণ করেছে বাচ্চু মাতুব্বরের লোকজন। অতর্কিত হামলা চালিয়ে শতাধিক বাড়ির নারীদের এলোপাথাড়ি কোপানোসহ কয়েক ঘণ্টা ধরে লুটপাট চালানো হয়। পুলিশ সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেও কোনো প্রতিবাদ করেনি বরং আমাদের গালিগালাজ করেছে। থানা সদর থেকে আমাদের গ্রামের দূরত্ব পাঁচ মিনিট হলেও পুলিশ দেরিতে আসে।
এব্যাপারে বাচ্চু মাতুব্বরে জানায়, আমার লোকজন জামিনে এসে বাড়ি ফিরছিল। তখন রাজ্জাক ফকিরের লোকজন খারাপ কথা বলায় সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় আমার পক্ষের ৮/১০ জন লোক আহত হয়েছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সফিকুর রহমান জানান, আধিপত্যের বিষয় নিয়ে পৌর কাউন্সিলর বাচ্চু মাতুব্বর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজ্জাক ফকিরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, পরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/এসি
