অফিসে বসেন না কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২০, ২০:১৫

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়টির কর্মকর্তারা ঠিকমতো অফিস না করার কারণে বেহাত হতে বসেছে সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি। কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারী অফিসটিতে না থাকার কারণে আবাসিক ভবনগুলোতে স্থানীয় লোকজন বসবাস করছে। গোটা অফিসটি জুয়ার আড্ডায় পরিণত হয়েছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে সেচ প্রকল্প। রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় কার্যালয়টিতে সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ ও রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের-১ এর অধীনে ২ জন এসডিও, ৬ জন এসও, ৪ জন অফিস সহকারী, ১৬ জন কার্যসহকারী, ১০ জন এমএলএসএস, ২ জন নাইটগার্ড ও ৪ জন সার্ভেয়ার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে অফিসটি শূন্য রয়েছে। কর্মকর্তারা ঠিকমতো অফিসে না আসার কারণে লুট হয়ে যাচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ। বর্তমানে কিশোরগঞ্জ উপ-বিভাগীয় কার্যালয়টি সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড ও রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে পরিচালিত হচ্ছে। 

বুধবার সকালে কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসটিতে গিয়ে দেখা যায়, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়টিতে কোন কর্মকর্তা কর্মচারী উপস্থিত না থাকার কারণে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আবাসিক ভবনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এমনকি উপ-বিভাগীয় কার্যালয়টির মূল দ্বিতল ভবনটিও হয়ে পড়েছে জরাজীর্ণ। ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায় ভবনের আসবাবপত্রগুলো ভেঙেচুরে গেছে। ভবনের ভেতর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর অফিস কক্ষগুলোতে ধুলোবালি জমে রয়েছে। এসময় কোন কর্মকর্তা কর্মচারীকে চোখে পড়েনি। অফিস কক্ষে তালা থাকায় অফিসের দরজার সামনে আয়েস করে ঘুমাচ্ছে কুকুর। 

আরও পড়ুন: ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার আধুনিক রূপই ডিজিটাল বাংলাদেশ’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অফিসের একজন এমএলএসএস বলেন, স্যারেরা মাঝে মাঝে অফিসে আসলেও দু-এক ঘণ্টা বসে থেকে চলে যান। অথচ আমাকে প্রতিদিন অফিসের তালা খুলে রাখতে বলেন। 

কিশোরগঞ্জ উপজেলা মোড়ের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, গত কয়েক মাস আগে প্রচণ্ড ঝড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের বেশ কিছু গাছ ঝড়ে উপড়ে পড়ে। গাছগুলো টেন্ডারের মাধ্যমে কর্তন করার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। টেন্ডারে কাজটি গাছগুলো কর্তনের দায়িত্ব পান রনি মিয়া নামে রংপুরের এক ঠিকাদার। কিন্তু অফিসে কোন কর্মকর্তা কর্মচারী উপস্থিত না থাকার সুযোগে শিডিউল এর বাইরে ঠিকাদার লাখ টাকার মেহগনি গাছ কর্তন করতে শুরু করে। পরে এলাকাবাসী বাধায় ঠিকাদার গাছ কাটা বন্ধ করে।  

কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ মো. আবুল কালাম বারী পাইলট বলেন, কিশোরগঞ্জ উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়টিতে যাতে করে কর্মকর্তারা বসেন সেজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলব। 

সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মোফাখারুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমি কোন কথা বলতে পারব না, আপনারা রংপুর বিভাগীয় কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন। 

রংপুর বিভাগের পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুস শহীদের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় কার্যালয়টিতে যাতে কর্মকর্তারা অফিস করেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

ইত্তেফাক/এএএম