মদনপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় বন্দর থানার ওসি প্রত্যাহার

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৩

বন্দরের মদনপুরে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ওসি আজহারুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপার এ নির্দেশ দেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, বন্দরের সংঘর্ষের ঘটনায় তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে থানার ওসি আজহারুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়েছে। গত শনিবার রাতের ওই সংঘর্ষের ঘটনায় আহত বন্দর থানার এস আই মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে ২৪ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ৩শ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা রুজু করেন।

পুলিশের দাবি, মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার করার পর আসামিপক্ষের লোকজন তাদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত শনিবার রাতে বন্দর থানা পুলিশের একটি দল উপজেলার মদনপুরের চাঁনপুর এলাকায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার করতে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশ স্থানীয় ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান সমর্থক দিপু ও সুজন নামের দুই আসামিকে আটক করে। খবর পেয়ে দিপু ও সুজনের সহযোগীসহ এলাকার লোকজন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিদের ছিনিয়ে নেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের সময় পুলিশের দুইটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও আত্মরক্ষার্থে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে।

সংঘর্ষের মাঝে পড়ে আশিকুর রহমান নামের গার্মেন্টস কর্মী নিহত ও বাবুল নামের এক গুলিবিদ্ধ যুবককে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সংঘর্ষের সময় পুলিশের এসআই মোহাম্মদ আলী, কনস্টেবল দেবাশীষ, কনস্টেবল মনোয়ার, মোহনসহ অন্তত অধর্শত আহত হয়। এ সময় পুরো এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায় এবং রিফাত ও নুরনবী নামের দুইজনকে গ্রেফতার করে। 

আরও পড়ুনঃ দিঘীর মাছে গ্রামে উৎসব

নিহত আশিক লালমনিরহাট জেলার শহীদুল ইসলামের ছেলে। সে বন্দর উপজেলার চাঁনপুর এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। গুলিবিদ্ধ আহত বাবুল কুমিল্লার বাইতোলা গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে বলে জানা গেছে।

ইত্তেফাক/নূহু