১৯৪৯ সালে পূর্ব তুর্কিস্তানকে জিনজিয়াং প্রদেশ বলে ঘোষণা করে চীন। মূলত আঠার শতকে চিং রাজবংশের সময় থেকেই জিনজিয়াংয়ের এর উপর চীনের সার্বভৌমত্ব পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশ স্বীকার করেছিল।
চীন পূর্ব তুর্কিস্তানকে পুরো বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। এর ফলে পূর্ব তুর্কিস্তান শুধু স্বাধীনতাই হারায়নি এটি ধীরে ধীরে নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলছে।
চীনের অভিধানে উপনিবেশবাদের অর্থ হচ্ছে জনসংখ্যার প্রজনন বা বৃদ্ধি"। জিনজিয়াংয়েও চীন ঠিক এই কাজটি করেছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৯ সালে পূর্ব তুর্কিস্তান দখল করার পর চীনের মাত্র ২ শতাংশ নাগরিক সেখানে ছিল। আর এর মধ্যে ছিল চীনের সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং সরকারি কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবার। তবে তখন জিনজিয়াংয়ের চীনের কোনো কৃষক অথবা পশুপালক ছিল না।
এখন ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেসসহ পূর্ব তুর্কিস্তানের স্বাধীনতাকামীদের সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দিয়ে থাকে চীন সরকার। তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানি ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেসকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।
পূর্ব তুর্কিস্তান সরকারের নির্বাসিত প্রেসিডেন্ট ঘুলাম ওসমান চীনের বিরুদ্ধে উইঘুর, কাজাখাস্তান, কিরগিজ, উজবেক এবং তাতারিদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছে। বিশ্বের উন্নয়নশীল বিভিন্ন দেশকে চীন যে সাহায্য দিচ্ছে তা নিয়েও সতর্ক করে দিয়েছে ঘুলাম ওসমান। তার শঙ্কা যে চীনের ঋণ শোধ না করতে পারলে চীন ওই দেশগুলোর জমি নিজেদের বলে দাবি করবে।
ওসমান দাবি করেন চীন নিজেদের অভিবাসী ব্যাপকভাবে পাঠিয়ে দখল করে। সেই ক্ষেত্রে তিনি সিঙ্গাপুরের উদারহণ তুলে ধরে। সেখানে বলা হয় সিঙ্গাপুর যখন মালয়েশিয়ার অংশ ছিল তখন চীন তাদের অভিবাসী পাঠিয়ে সেটিকে দখল করে নেয়। নিজেদের জনগণ পাঠিয়ে কোনো রকম সেনা হস্তক্ষেপ ছাড়াই তখন সিঙ্গাপুর দখল করে চীন
পূর্ব তুর্কিস্তান ন্যাশনাল এওয়েকেনিং মুভমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, চীন প্রায় ৩০ লাখ উইঘুর, কাজাখ, কিরগিজ, উজবেক, তাতারি এবং তুর্কি জনগণকে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে।
গত কয়েক দশক ধরে চীন তিব্বত দখল করে রেখেছে। এখন গোপনে পূর্ব তুর্কিস্তানকে দখলের পাঁয়তারা করছে চীন।
ইত্তেফাক/এআর
