শ্রীপুরের গড়াই নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন 

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২০, ১৩:৩০

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার গড়াই নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হতে চলেছে নদী পাড়ের  অসংখ্য ফসলী জমি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারী বিধি নিষেধ থাকা সত্ত্বেও দিনের পর দিন দ্বারিয়াপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিহাবুল ইসলাম সিহাবের নেতৃত্বে এক শ্রেণির অসাধু বালু ব্যবসায়ী ও ড্রেজার মালিক প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে এ বালু উত্তোলন করছে। ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি দোকানঘর নির্মাণের জন্য বালু ভরাট করে গোয়ালদহ বাজার উন্নয়নের নাম ভাঙাচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়নের ঘসিয়াল ও গোয়ালদহ খেয়াঘাট সংলগ্ন নদীবক্ষে অবৈধ ড্রেজার লাগিয়ে পার্শ্ববর্তী গোয়ালদহ বাজার সংলগ্ন এলাকায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে  ডোবা, খানাখন্দ ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ফসলী জমি ভরাটের কাজ করছে ড্রেজার মালিক দারিয়াপুর ইউপি সদস্য মো. জামাল হোসেন বিশ্বাস। বালু উত্তোলন বন্ধে এর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরিমানা করা হলেও অবৈধ ড্রেজারের মালিক আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেই চলেছে।

ভূ-গর্ভস্থ বা নদীর তলদেশ হতে বালু বা মাটি উত্তোলন সংক্রান্ত বিশেষ আইনের ৫ এর (১) ধারায় দেখা যায়, পাম্প, ড্রেজিং মেশিন বা অন্য কোন মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ হতে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। অথচ ড্রেজার মালিকরা এ আইনকে তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়তই বালু উত্তোলন করেছে।

এ ব্যাপারে দ্বারিয়াপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিহাবুল ইসলাম সিহাব জানান, গোয়াদলদহ বাজার উন্নয়নের স্বার্থে ক্রয়কৃত ঘাট থেকে বালু উঠায়ে ওখানে ফেলা হচ্ছে। তবে যেখানে বালু ফেলা হচ্ছে ওই জমির মালিক ৪০-৫০ জন হতে পারে।

তারা গোয়ালদহ বাজারের দোকান করবে। অবৈধ ড্রেজার চালানোর বিষয়ে কি আইন আছে তা সিহাবুল ইসলাম সিহাব কিছু জানেন না বলে জানান।

তবে গোয়ালদহ বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহেশপুর গ্রামের আবদুস সামাদ, কামরুল ইসলাম, হামিদুল, তপন ও ইলিয়াসসহ এলাকার ১১-১২ জন ব্যক্তি এলাকার নিখিল মাস্টার, নিরোধ ভাদুড়ী, তন্ময় ভাদুড়ীসহ আরো কয়েকজনের কাছ থেকে তাদের নিজেদের নামে প্রায় ৬০ শতাংশ জমি ক্রয় করে ওখানে ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে ড্রেজার মালিক ইউপি সদস্য জামাল হোসেনের সাথে কথা বলার জন্য একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন কানন বলেন, যেখানে ভাঙনরোধের জন্য, মন্ত্রী, এমপি মহোদয় ছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা এসেছিলেন বাঁধ নির্মাণের জন্য সেখানে আমার দলের সেক্রেটারি কিভাবে অবৈধ ড্রেজার চালিয়ে বালু উত্তোলন করছে তা আমার বোধগম্য নয়। আমি এর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করি।

এ ব্যাপারে শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিনা মমতাজ জানান, নদীগর্ভ থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু বা মাটি উত্তোলনের কোন সুযোগ নেই। একটি বিশেষ সূত্রে সংবাদ পেয়ে তিনি অবৈধ ড্রেজার চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে গোয়ালদাহ বাজারে গিয়েছিলেন এবং ঘটনার সত্যতা পেয়ে ড্রেজার বন্ধের নির্দেশনা দিয়ে এসেছিলেন। যদি কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আবারও সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ড্রেজার চলার অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে আইন ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এমআর