গর্ভবতী স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী-শাশুড়ি গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২০, ১৭:৩২

নওগাঁর পত্নীতলায় গর্ভের সন্তান নষ্ট না করায় গর্ভবতী স্ত্রী হালিমা খাতুন (২১) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ স্বামী হাফিজুর রহমান ও শাশুড়ি হাজেড়া খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  উপজেলার মাটিন্দর ইউনিয়নের দক্ষিণরামপুর গ্রামে সোমবার এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় নিহত হালিমার বাবা হারুন রশিদ বাদি হয়ে হালিমার স্বামী, শ্বাশুড়িসহ পাঁচজনকে আসামী করে পত্নীতলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।  এ মামলার আসামী উপজেলার দক্ষিণরামপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের স্ত্রী হাজেড়া খাতুন ও ছেলে হাফিজুর রহমান।  নিহত হালিমা মহাদেবপুর উপজেলার চকচকি গ্রামের হারুন রশিদের মেয়ে।

মামলা ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বছর খানেক পূর্বে হালিমার সঙ্গে বিয়ে হয় হাফিজুরের। এরপর তাদের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব
দেখা দেয়। এসময় হালিমা প্রায় ৩ মাস আগে গর্ভবতী এমন খবর পায় তার স্বামীর পরিবার। এরপর হঠাৎ করে কয়েক দিন থেকে স্বামী হাফিজুর ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অন্ত:সত্ত্বা হালিমার গর্ভের সন্তানকে নষ্ট করার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। 

মামলা সূত্রে আরও জানা যায়, সোমবার সকালে তারা আবারো গর্ভের সন্তানকে নষ্ট করার জন্য চাপ দিলে হালিমা তাতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী, শ্বাশুড়িসহ পরিবারের সদস্যরা তাকে নির্যাতন করে।  পরে একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং হালিমা আত্মহত্যা করেছে বলে অপপ্রচার করেন। স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ হালিমার মৃতদেহ উদ্ধার করেন।

নিহত হালিমার বাবা হারুন রশিদ জানান, তার মেয়েকে নির্যাতন করে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে তার স্বামী, শ্বশুড়িসহ স্বামীর পরিবারের লোকজন। দ্রুত অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি এই হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

আরও পড়ুন: মুজিব বর্ষে ১৫০ কিলোমিটার পায়ে হেটে বাংলাবান্ধায় তিন রোভার 

পত্নীতলা থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) শামসুল আলম শাহ জানান, ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিহতের ময়না তদন্ত করা হয় এবং হত্যার অভিযোগে নিহতের স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীরা পলাকত থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।  তবে তাদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


ইত্তেফাক/আরআই