আমরা ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে নই --------মাওলানা মামুনুল হক

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২০, ২৩:০১

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, হেফাজতের যুগ্মমহাসচিব ও জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা শাইখুল হাদিস মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে একজন মরহুম মুসলিম নেতা হিসেবে শ্রদ্ধা করি এবং কখনো কোনোভাবেই প্রয়াত এ জাতীয় নেতার বিরুদ্ধাচারণ করি না ও করাকেও সমীচীন মনে করি না। আমাদের বক্তব্য ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে নয়। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা মামুনুল হক এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কিছুদিন ধরে ঢাকার ধোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ ইস্যুতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের ধর্মীয় অঙ্গন। স্বাভাবিকভাবেই ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষ কিংবা প্রাণীর ভাস্কর্য নির্মাণ ইসলামবিরোধী হওয়ায় আলেম সমাজ এর প্রতিবাদ করছে। সেই সূত্রে আমিও এর বিরুদ্ধাচারণ করে বক্তব্য দিয়েছি। এর জেরে বেশ কিছুদিন ধরে আমাকে মাহফিল করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারদলীয় কিছু সংগঠন আমার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন সংবাদ ও যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর কিছু তথ্য প্রচার হচ্ছে। মামুনুল আরো বলেন, আমি আশা করব, অনভিপ্রেত এসব অপতত্পরতা বন্ধ হবে। একই সঙ্গে আলেমদের বিরুদ্ধে কটূক্তি ও বিষোদগারের ব্যাপারেও প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

মামুনুল হক বলেন, আমার বাবা উপমহাদেশের প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ মরহুম শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক চারদলীয় জোটের শীর্ষ চার নেতার অন্যতম একজন ছিলেন এবং তার দেওয়া পাঁচ দফার সঙ্গে একমত হয়েই ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি সই করে। তিনি বলেন, কোনো ষড়যন্ত্র বা গোপন আঁতাঁতের মাধ্যমে দেশ, রাষ্ট্র কিংবা সরকারবিরোধী কোনো কর্মসূচি আমাদের নেই। একটি মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এজন্য জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অমূলক ও কল্পিত অভিযোগ আমার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমি এই ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। গত ২৭ নভেম্বর রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে আটক ২৩  মিছিলকারীকে অনতিবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী প্রমুখ।