ট্রাম্পের আইনি চ্যালেঞ্জের সময় ফুরিয়ে এসেছে!

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:২৪

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এক মাস পেরিয়েছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন জয়ী হয়েছেন। তিনি ৩০৬টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেয়েছেন। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ২৩২টি। কিন্তু ট্রাম্প এখনো পরাজয় মেনে নেননি। তার দাবি, নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা বড় ধরনের জালিয়াতি করে তার জয় চুরি করেছে। ডাকযোগে অবৈধ ভোটের মাধ্যমে তারা এই জালিয়াতি করেছে। 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করে ছয়টি অঙ্গরাজ্যে কয়েক ডজন মামলা করেছেন। বেশির ভাগ মামলা আদালত খারিজ করে দিয়েছে। একের পর এক মামলায় হারলেও দমেননি তিনি। বরং নতুন করে আরো মামলা করছেন। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের সব আইনি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে চলেছে। ইতিমধ্যে অনেক সময় পেরিয়ে গেছে। ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সব অঙ্গরাজ্যকে নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন করতে হবে। এর আগে আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হবে। ফল প্রত্যয়নের পর আগামী ১৪ ডিসেম্বর মনোনীত ইলেকটোরাল কলেজ ভোটাররা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টকে নির্বাচিত করবেন।

বিবিসির এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, বিভিন্ন রাজ্যে একের পর এক হারের পর ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে তারই অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য। অ্যাটর্নি উইলিয়াম বার গত সপ্তাহে বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা এমন কোনো ভোট জালিয়াতির প্রমাণ পাইনি, যা নির্বাচনের ফলকে প্রভাবিত করতে পারে। শেষ সময়ে এসে ট্রাম্পের আইনি চ্যালেঞ্জের আর কি বাকি আছে? সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে বিবিসি। 

আরো পড়ুন: চরম দারিদ্র সীমায় প্রবেশ করবে আরো ২০ কোটি মানুষ

এখন পর্যন্ত পেনসিলভেনিয়ায় সবচেয়ে বেশি মামলা করেছে ট্রাম্পের প্রচারণা টিম। এই অঙ্গরাজ্যে ৮০ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন বাইডেন। ইতিমধ্যে তার জয় প্রত্যায়ন করেছে রাজ্য কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ট্রাম্প টিমের দাবি, পেনসিলভেনিয়ার ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত এলাকায় ভোটারদের ভুল সংশোধনের সুযোগ বেশি দেওয়া হয়েছে। যা বাইডেনের জয়ে ভূমিকা রেখেছে। তবে এই অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারেনি ট্রাম্প টিম। নিম্ন আদালতে হারার পর তারা ফেডারেল আপিল কোর্টেও হেরেছে। বিচারক বলেছে, অন্যায্যতার এই অভিযোগ খুবই ভয়ানক। কিন্তু অভিযোগের সঙ্গে প্রমাণও দরকার হয়।

ট্রাম্প টিম জানিয়েছে, তারা এই অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাবে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এমন অভিযোগের শুনানি করবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। পেনসিলভেনিয়ায় নির্বাচনের তিন দিন পরও ডাকযোগের ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। রিপাবলিকানরা এই ভোট বাতিলের আবেদন জানিয়ে মামলা করেছিল। কিন্তু আপিল আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট এখনো এই অভিযোগের শুনানি করতে পারে। পেনসিলভেনিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনের তিন দিন পর্যন্ত তারা প্রায় ১০ হাজার ডাকযোগের ভোট গ্রহণ করেছে। চলমান আইনি লড়াইয়ের কারণে এসব ভোট আলাদা রাখা হয়েছে। পেনসিলভেনিয়ায় আরো কিছু অভিযোগে করা মামলার যৌক্তিকতা না থাকায় আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে মিশিগান, উইসকনসিন, নেভাদা, জর্জিয়া এবং অ্যারিজোনাতে জয়ী হয়েছেন বাইডেন। এসব রাজ্যেও নির্বাচনের ফল সরকারিভাবে প্রত্যয়ন করা হয়েছে। এসব রাজ্যে বেশির ভাগ মামলায় হেরেছে ট্রাম্প টিম।

এখন পর্যন্ত কোনো রাজ্যের আদালতে নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় জিততে পারেনি ট্রাম্প টিম। এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টে তাদের অভিযোগের শুনানি হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এমন সংশয় স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই প্রকাশ করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করে প্রথমে মামলা করতে হয় রাজ্য আদালতে। রাজ্য আদালতে এসব মামলা বহাল রাখতে হয়। এরপরই সুপ্রিম কোর্টে মূল্যায়নের জন্য যাওয়া হয়। কিন্তু রাজ্য আদালতে সামান্য সফলতার পর সেই অভিযোগের শুনানি সুপ্রিম কোর্টে হবে কি না, সেটা নিশ্চিত নয়।

আরো পড়ুন: করোনা প্রকল্পে দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতার ইন্দোনেশিয়ার মন্ত্রী 

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ল’ স্কুলের অধ্যাপক রিচার্ড ব্রিফফল্ট বলেন, নির্বাচনের বিরোধ সুপ্রিম কোর্টে আনার মানসম্মত কোনো প্রক্রিয়া নেই। এক্ষেত্রে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থাকতে হবে। ২০০০ সালের নির্বাচনের ফল মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে নির্ধারিত হয়েছিল। ঐ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল গোর ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে মাত্র ৫৩৭ ভোটের ব্যবধানে হেরেছিলেন। ঐ রাজ্যে ৬০ লাখের বেশি ভোট পড়েছিল। এক মাসের বেশি সময় ধরে গণনা চলছিল। গণনার প্রক্রিয়া ছিল খুবই বিতর্কিত হওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট গণনা বন্ধ করে জর্জ ডব্লিউ বুশকে জয়ী ঘোষণা করে। 

কিন্তু দেখার বিষয় হলো, এবারের নির্বাচন ২০০০ সালের মতো নয়। এবার ছয়টি অঙ্গরাজ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বাইডেন স্পষ্ট ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। জর্জিয়াসহ কয়েকটি রাজ্যে একাধিকবার ভোট গণনা হয়েছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে এসব রাজ্যের কয়েকটিতে আরো কম ব্যবধানে জিতেছিলেন ট্রাম্প। তখন ডেমোক্র্যাটরা আপত্তি করেনি। আর ট্রাম্প পেয়েছিলেন ৩০৬টি ইলেকটোরাল ভোট। এবার বাইডেনও তাই পেয়েছেন। সব হিসেবে ট্রাম্পের আইনি চ্যালেঞ্জ ব্যর্থ হচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইত্তেফাক/এএইচপি