বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ সমান্তরাল

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:০৭

মুক্তিযুদ্ধের ৪৯ বছরে জনসংখ্যাভিত্তিক ছোট রাষ্ট্রটির অনেক ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। নারী শিক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচনসহ দেশের সার্বিক উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে এ বছর পদ্মা সেতুর নির্মাণ আমাদের সামনে এক বিরল দৃষ্টান্ত নিয়ে হাজির হয়েছে।

এর বিপরীতে, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য যেভাবে ভাঙচুর করা হলো, যেভাবে মৌলবাদী উগ্র গোষ্ঠী জাতির পিতাকে অগ্রাহ্য করার স্পর্ধা দেখাল সেটা চরম ধৃষ্টতা। মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহিদের বিনিময়ে পাওয়া এই বাংলাদেশে জাতির পিতাকে এভাবে অবমূল্যায়ন করা আমাদের দেখতে হবে সেটা কল্পনার অতীত। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ হবে আগামী বছর। এই সময় দাঁড়িয়ে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এই স্পর্ধা দেখাচ্ছে। আমি বলব, আমাদের রাষ্ট্রের চেতনাবিরোধী এই শক্তির বাংলাদেশে থাকার অধিকার নেই। কারণ, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একই। একই সমান্তরালে এ নাম দুটি উচ্চারিত হয়। তিনি না জন্মালে আমরা এই স্বাধীন দেশ পেতাম না। পূর্ব পাকিস্তানের সেই অপমানকর জীবন ঝেড়ে ফেলে আজকের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের মর্যাদার জায়গায় আমরা পৌঁছাতে পারতাম না। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি এই যে অসম্মান প্রদর্শন করার সাহস তারা দেখাল এদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। তাদের প্রতি নমনীয় আচরণ করা যাবে না। এ ধরনের ঘটনা আমাদের বিব্রত করে, মর্মাহত বোধ করি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনালালিত বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।

বিশ্ব জুড়ে ভাস্কর্য রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতেও রয়েছে। আজকের স্বাধীনতার ৪৯তম বছর পেরিয়ে এসে কেন আমাদের এই দিন দেখতে হবে। এই অপশক্তিকে যে কোনো মূল্যে প্রতিরোধ করতে হবে।

আমার মনে হয়, রাষ্ট্রের উন্নয়নে অনেক সফলতা আমরা দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু এর বিপরীতে মৌলবাদী শক্তিকে দমনে ব্যর্থতাও রয়েছে। এই মৌলবাদী শক্তিকে প্রতিহত করতে হবে, তাদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে—এটাই হোক আজকের এই বিজয়ের দিবসের প্রতিজ্ঞা।

স্বাধীনতা লাভের প্রায় ৪৯ বছর পর তাই মনে হয় আমরা ভূমি পেয়েছি, পতাকা পেয়েছি। দেশ উন্নয়নের পথে রয়েছে। কিন্তু আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ এখনো অধরা রয়ে গেছে।

ইত্তেফাক/এসি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন