আর্মেনিয়া-আজারবাইজান যুদ্ধ ও ককেশাস অঞ্চলে অস্থিরতা

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:১৮

‘জোর যার মুল্লুক তার’—এই ছিল রাজরাজড়ার নীতি। শক্তি প্রয়োগই ছিল সীমানা নির্ধারণের একমাত্র পথ। সভ্যতা যতটা এগিয়েছে ততটাই পিছিয়েছে শক্তি প্রয়োগের অধিকার। ১৬৪৮ সালে জাতি রাষ্ট্রের উদ্ভবের একটি যৌক্তিক সীমান্তের সন্ধান করেছে রাজনৈতিক নেতৃত্ব। এর পরও রাজা-রাজ্য-রাজধানীতে ঘটেছে অনেক ওলটপালট। বিশেষ করে, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের অবসানে জাতিরাষ্ট্রের ‘দ্বিতীয় বিপ্লবের পর’ সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের বুক চিরে অথবা ভাগাভাগিতে যেসব দেশ জাতিরাষ্ট্র সৃষ্টি হয় সেখানে সীমানা নির্ধারিত হয় অনেকটাই ঔপনিবেশিক প্রভুর উত্তরাধিকারে। ককেশাস অঞ্চল তার থেকে ভিন্ন কিছু নয়। 

কৃষ্ণসাগর আর কাস্পিয়ান সাগরের মধ্যবর্তী আজারবাইজান, আর্মেনিয়া ও জর্জিয়া অধ্যুষিত এই ককেশাস অঞ্চল। মানবজাতির প্রাচীন বসতির শুরু এই অঞ্চলেই। সভ্যতায় যেমন প্রাচীন, দ্বন্দ্বেও তেমন প্রাচীন। আধুনিক যুগের শুরুতে রুশ সাম্রাজ্য এবং অটোমান সাম্রাজ্যের মধ্যে অব্যাহত যুদ্ধের কারণ হয়েছে এই অঞ্চল। একবিংশ শতাব্দীতে এসেও যুদ্ধবিগ্রহের অবসান হয়নি। সর্বশেষ এই সেদিন ২০২০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সেখানে আর্মেনিয়া-আজারবাইজান যুদ্ধ শুরু হয়। সমাপ্তি ঘটে ১০ নভেম্বর একটি শান্তিচুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে বলে যে কথাটি বলা হয়, এখানেও তার সাক্ষাত মেলে। সেই পুরনো ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় এ অঞ্চলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি—রাশিয়া ও তুরস্কের হস্তক্ষেপে স্বাক্ষরিত হয় এই চুক্তি। তুরস্ক হচ্ছে এককালের প্রবল পরাক্রমশালী উসমানীয় সালতানাতের অপভ্রংশ। আর রাশিয়া হচ্ছে বিশাল জার সাম্রাজ্যের আধুনিক প্রতিনিধি। বিরোধীয় অঞ্চল নাগার্নো-কারবাখ তথা আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের যুদ্ধটি সাম্প্রতিক কালের হলেও বিরোধের উৎস অতীতেই নিহিত।

নাগার্নো-কারবাখ হচ্ছে দক্ষিণ ককেশাসের একটি স্থলবেষ্টিত ভূভাগ। এটি একটি বিরোধীয় অঞ্চল। ইতিহাস পরম্পরার অনেক পঙ্কিল পথ অতিক্রম করে এটি আজারবাইজানের অংশ হিসেবে বিশ্বসমাজের স্বীকৃতি পেয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত ২০০৮ সালের একটি প্রস্তাবে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ঐ প্রস্তাবে নাগার্নো-কারবাখ থেকে আর্মেনীয় সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। 

উল্লেখ্য যে, এটি রাজনৈতিকভাবে আজারবাইজানের স্বীকৃত অংশ হলেও এখানের অধিকাংশ জনগণ খ্রিস্টধর্মাবলম্বী। এখানের প্রায় ১৫ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যা। খ্রিষ্টধর্মীয়রা সতত আনুগত্য পোষণ করে আর্মেনিয়ার প্রতি। অপরদিকে সংখ্যালঘিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর মমত্ব আজারবাইজানের প্রতি। আজারবাইজানের জনসাধারণ খুব স্বাভাবিকভাবেই সংখ্যালঘু মুসলিমদের মঙ্গল আকাঙ্ক্ষায় সম্পৃক্ত। এই এলাকাটি যে খুব বড় তা নয়। এর আয়তন মাত্র ১ হাজার ৭০০ বর্গমাইল। আমাদের একটা বিভাগের মতো। ২০১০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এর জনসংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ৪০০। এলাকার অধিকাংশ পাহাড় আর বনভূমি। কারবাখ অনেকটা ভারত-বাংলাদেশের অতীত ছিটমহলগুলোর মতো। আর্মেনিয়া-আজারবাইজান উভয় দেশই এর বৈধ কর্তৃত্ব দাবি করে আসছে। বিরোধের উত্সমূল সেই সে অতীতে।

নাগার্নো কথাটি রুশ শব্দ নাগোর্নি থেকে এসেছে। এর অর্থ পার্বত্য অঞ্চল। আজারবাইজান অথবা আর্মেনিয়া এই অঞ্চলকে তাদের নিজ নিজ ভাষা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন নামে ডাকে। অবশেষে রুশ প্রাধান্যের কারণে তাদের ভাষাই স্বীকৃত। তবে নাগার্নো-কারবাখের লোকেরা এর নাম দিয়েছে আর্টসাখ। প্রত্নতাত্ত্বিকরা বলেন, আর্মেনিয়রা খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতে এই অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিল। সপ্তম শতকের মাঝামাঝি সময়ে মুসলমানগণ কর্তৃক পারস্য বিজয়ের সুবাদে এই অঞ্চলটি আরব-মুসলিমদের হাতে আসে। পরবর্তীকালে এটি খেলাফত কর্তৃক অনুমোদিত স্থানীয় গভর্নরদের দ্বারা শাসিত হতো। 

দীর্ঘকাল এটি আর্টসাখ নামে কার্যত একটি স্বাধীন আধিপত্য হিসেবে বিদ্যমান ছিল। ১৫ শতাব্দীতে এটি তুর্কি শাসনের অধীন হয়। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ প্রান্তে এখানে রুশ সার্বভৌমত্ব স্বীকৃত হয়। সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে এই অঞ্চলটি পারস্য সম্রাট নাদির শাহের করায়ত্ত হয়। ১৫০১-১৭৩৬ সাল পর্যন্ত কারাবাখ প্রদেশটি সাফাভিদ সাম্রাজ্যের অধীন থাকে। অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে কারাবাখ এই অঞ্চলে রুশ প্রভুত্ব স্বীকৃত হয়। ১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লবের সময় কারাবাখ ট্রান্সককেশীয় গণতান্ত্রিক ফেডারেটিভ রিপাবলিকের অংশে পরিণত হয়। স্ট্যালিনের সময় সিদ্ধান্তহীনতার কারণে কারাবাখ আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের বিরোধীয় অঞ্চলে পরিণত হয়। ১৯১৮ সালে কারাবাখের জনগণ নিজেদেরকে স্বশাসিত ঘোষণা করে। তুর্কি সুলতান আজারবাইজানের সমর্থনে কারাবাখদের স্বাধীনতার দাবি অগ্রাহ্য করে তা দখল করে নেয়। 

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উসমানীয় সালতানাতের পরাজয়ের পর ব্রিটিশ সেনারা কারাবাখ দখল করে। বহুপক্ষীয় বিরোধের কারণে ১৯২০ সালের ভার্সাই চুক্তিতে নাগার্নো-কারাবাখ বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায়। ১৯২০ সালে আজারবাইজান নাগার্নো-কারাবাখ দখল করে নেয়। পরে আর্মেনিয়ার সঙ্গে চুক্তিবলে সেখানে বলশেভিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯২১ সালে বলশেভিকরা আর্মেনিয়া, আজারবাইজান ও জর্জিয়া দখল করে নেয়। তুরস্ককে কৌশলগত প্রশ্রয় দেওয়ার প্রয়োজনে বলশেভিকরা কারাবাখে আজারবাইজানের কর্তৃত্ব পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নেয়। ১৯৮৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নাগার্নো-কারাবাখের লোকেরা আর্মেনিয়ার সঙ্গে একীভূত হওয়ার লক্ষ্যে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। রুশ কর্তৃপক্ষ তাদের এ দাবি অগ্রাহ্য করে। সেই সময় থেকে নাগার্নো-কারাবাখের আর্মেনীয়পন্থি ও আজারবাইজানিপন্থি গ্রুপগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষ প্রবল হয়ে ওঠে।

১৯৯১ সালে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান উভয় সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর নাগার্নো-কারাবাখের কর্তৃত্ব নিয়ে লড়াই-যুদ্ধের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা রাশিয়া দৃশ্যত ঐ অঞ্চলকে স্বাধীনতা দিলেও মূল নিয়ন্ত্রণ প্রকারান্তরে তাদের হাতে রাখে। বিস্ময়ের ব্যাপার রাশিয়া আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান উভয় দেশকে সামরিক সহায়তা দেয়। ১৯৯৪ সালের মে মাসে আজারবাইজান কার্যত আর্মেনিয়ার কাছে পরাজিত হয়। এ সময়ে নাগার্নো-কারাবাখের ১৪ শতাংশ অঞ্চল আর্মেনিয়রা দখল করে নেয়। রাশিয়ার মাধ্যমে ১৯৯৪ সালের ১২ মে সাময়িক যুদ্ধ বিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। 

যুদ্ধ বিরতি সত্ত্বেও আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানীয় সেনাদের মধ্যে সশস্ত্র দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকে। ২০০৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট আজারবাইজানীদের বিরুদ্ধে কথিত জাতিগত নির্মূলের নিন্দা করে। অন্যদিকে ২০০৭ সালের মে মাসের মধ্যভাগে ইসলামি সম্মেলন সংস্থা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ আজারবাইজানের পক্ষে প্রস্তাব গ্রহণ করে। তারা আর্মেনিয়ার আগ্রাসনেরও নিন্দা করে। একই বছরের ১৪ মার্চ জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে গৃহীত প্রস্তাবে নাগার্নো-কারাবাখের ওপর আজারবাইজানের কর্তৃত্বের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একই ধরনের প্রস্তাব গ্রহণ করে। বিগত কয়েক বছর ধরে বিশ্বনেতারা আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের বিরোধ নিষ্পত্তিতে সহায়তা ও মধ্যস্থতা করেছেন। এই বিরোধ মেটাতে মিনস্ক গ্রুপ নামে একটি মধ্যস্থতাকারী দল কয়েক বছর ধরে আলোচনা চালিয়ে আসছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছিল রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সেসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার ফলে ২০১৬ সালে ২ এপ্রিল উভয় দেশের সেনাবাহিনী আবারও যুদ্ধে লিপ্ত হয়।

আগেই বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে তুরস্ক আজারবাইজানকে সরাসরি সর্বাত্মক সমর্থন দেয়। তুরস্কের বক্তব্য হচ্ছে, এত বছরের কূটনৈতিক চেষ্টা ও রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনার পরেও এই সংকটের কোনো সমাধান হয়নি। তাই তারা মনে করে নাগার্নো-কারাবাখের ওপর আন্তর্জাতিক স্বীকৃত আজারবাইজানীয় অধিকার প্রতিষ্ঠিত হওয়া দরকার। উল্লেখ্য যে, ভৌগোলিক কৌশলগত কারণে তুরস্ক আজারবাইজানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তুরস্ক তার জ্বালানি সরবরাহের জন্য আজারবাইজানের ওপর নির্ভরশীল। ২০১০ সালে তুরস্ক ও আজারবাইজান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। ২০২০ সালের জুলাই মাসে আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের মধ্যে ছোটখাটো যুদ্ধ ঘটে। এরপর থেকে তুরস্কের সঙ্গে আজারবাইজানের প্রতিরক্ষাবিষয়ক যোগাযোগ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যে দুটো দেশ যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করেছে।

প্রায় দেড় মাসের যুদ্ধাবশেষে একটি যুদ্ধ বিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই স্বাক্ষরিত চুক্তির বিষয়বস্তু ১৯৯০ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তির বিপরীত বলে দৃশ্যমান হচ্ছে। ১৯৯০-এর চুক্তিতে জিতেছিল আর্মেনিয়া। আর হেরেছিল আজারবাইজান। ঐ চুক্তির ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তার ফলে সংঘটিত হয়েছে এবারের যুদ্ধ। এবারের যুদ্ধে জয়লাভ করেছে আজারবাইজান। আর মারাত্মকভাবে হেরেছে আর্মেনিয়া। নাগার্না-কারাবাখের প্রায় সম্পূর্ণ অংশ দখল করে নিয়েছে আজারবাইজান। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং মধ্যস্থতায় চুক্তির শর্তানুযায়ী সাম্প্রতিক যুদ্ধের ফলে বিজিত অঞ্চলে আজারবাইজানের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত থাকবে। বরং আজারবাইজানের দাবীকৃত কারাবাখের অন্যান্য অঞ্চলেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। অল্প কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বন্দি বিনিময় ঘটবে। আর এই যুদ্ধ বিরতি ও এলাকা প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করবে রাশিয়া। এই চুক্তিকে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পেশিয়ান বেদনাদায়ক ও দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এই শান্তিচুক্তি ছিল অনিবার্য। নাগার্নো-কারাবাখের দ্বিতীয় শহর সুশির পতনের পর সরকারের পক্ষে এছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না। 

রাজধানী স্টেপানাকার্টের আশপাশে যুদ্ধ চলছিল। যুদ্ধ অব্যাহত রাখলে গোটা নাগার্নো-কারাবাখ হারাতে হতো। চুক্তির পর আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে যখন চলছে আনন্দ-উল্লাস তখন আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভেন ফেটে পড়ছে প্রচণ্ড বিক্ষোভে। ২৪ ডিসেম্বর ২০২০ এএফপি পরিবেশিত খবরে বলা হয়, সেখানে প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনওয়ানের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। আর্মেনীয় সরকার এবং জনগণ যে পরাজয়কে মেনে নেবে না—এটাই স্বাভাবিক। অতীতে আজারবাইজানের চেয়ে অনেক শক্তিসম্পন্ন আর্মেনিয়া কৌশল ও সাহসিকতা দিয়ে এর আগের যুদ্ধগুলোতে জয়লাভ করেছিল। সুতরাং যুদ্ধের ভীতি থেকেই যাচ্ছে। আজকের বিশ্বে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে যে শান্তি ও স্বস্তি সম্ভব নয়, তা স্বতঃসিদ্ধ। আইনগতভাবে নাগার্নো-কারাবাখ আজারবাইজানেরই অংশ। কিন্তু আমরা রাষ্ট্র বলতে ভূখণ্ডকে বুঝি না। রাষ্ট্র মানেই হচ্ছে জনগণ। সেক্ষেত্রে আজারবাইজান সরকারের উচিত নাগার্নো-কারাবাখের জনগণের সঙ্গে একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো। 

জনগণের মতামতের প্রতিফলন হয় এবং আজারবাইজানের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব সংরক্ষিত হয়—এমন সমাধান রাজনীতি বিজ্ঞানে অসম্ভব নয়। আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করেছি যে, গোটা ককেশাস অঞ্চলে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর টানাপোড়েনে বিধ্বস্ত হয়েছে জনপথ। জনগণের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব পদদলিত হয়েছে রাশিয়া, ব্রিটেন এবং উসমানীয় সালতানাত দ্বারা। আঞ্চলিক শক্তি বা পরাশক্তিগুলো যেমন পৃথিবীর সর্বত্র তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যায়কে অস্বীকার করেছে এবং সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে ভূখণ্ডগুলোকে বিভক্ত করেছে, অনেকবার অনেক রকমে ককেশাস তথা আর্মেনিয়া-আজারবাইজান ও নাগার্নো-কারাবাখে তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এই পৃথিবীর এই সময়ে সেই বানরের পিঠা ভাগের গল্পকে অবশ্যই আমাদের না বলতে হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন