কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী এবং কেন?

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২১, ২২:০৬

মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তাশক্তিকে কৃত্রিম উপায়ে প্রযুক্তি নির্ভর করে যন্ত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলে। এটি কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি শাখা, যেখানে মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তাশক্তিকে কম্পিউটার দ্বারা অনুকৃত করার চেষ্টা করা হয়ে থাকে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এখন হয়ে উঠেছে একটি একাডেমিক শিক্ষার ক্ষেত্র, যেখানে পড়ানো হয় কীভাবে কম্পিউটার এবং সফটওয়্যার তৈরি করতে হয় যা বুদ্ধিমত্তা প্রদর্শন করবে। কম্পিউটারকে মিমিকস কগনেটিক এককে আনা হয়, যাতে করে কম্পিউটার মানুষের মতো ভাবতে পারে। যেমন, শিক্ষা গ্রহণ এবং সমস্যার সমাধান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো মেশিন দ্বারা প্রদর্শিত বুদ্ধি।

কম্পিউটার বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণার ক্ষেত্রটি ‘বুদ্ধিমান এজেন্টের’ অধ্যয়ন হিসেবে নিজেকে সংজ্ঞায়িত করে: ‘যে কোনো যন্ত্র যা তার পরিবেশকে অনুধাবন করতে পারে এবং এমন কিছু পদক্ষেপ নেয় যা কিছু লক্ষ্য অর্জনে তার সাফল্যকে অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে নেয়[’। ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ শব্দটি প্রয়োগ করা হয় তখন, যখন একটি মেশিন তার জ্ঞানীয় ফাংশনগুলোকে কার্যকর করে, যেখানে অন্যান্য মানুষের মনের সঙ্গে মিল থাকে, যেমন, ‘শিক্ষা গ্রহণ’ এবং ‘সমস্যা সমাধান’। আন্দ্রেয়ার কাপলান এবং মাইকেল হেনলিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংজ্ঞায় বলেন ‘এটি একটি সিস্টেমের বহির্ভূত তথ্য সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারার ক্ষমতা, এমন তথ্য থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং ঐ শিক্ষা ব্যবহার করে অভিযোজনের মাধ্যমে বিশেষ লক্ষ্য ঠিক করা’।

মেশিন যখন ক্রমবর্ধমানভাবে সক্ষম হয়ে উঠে, তখন মানসিক সুবিধার জন্য বুদ্ধিমত্তাকে সংজ্ঞা থেকে সরিয়ে ফেলার প্রয়োজন হয়। বর্তমানে যে সক্ষমতাগুলোকে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে সেগুলো মানুষের বক্তব্যকে সফলভাবে বুঝতে পারে, কৌশলগত গেম সিস্টেম যেমন: দাবা বা উচ্চতর স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি চালাতে পারে, সামরিক সিমুলেশন এবং জটিল উপাত্ত ব্যাখ্যা করতে পারে। এআই গবেষণাকে কতগুলো উপশাখায় বিভক্ত করা যেতে পারে যা নির্দিষ্ট সমস্যা, দৃষ্টিভঙ্গি, বিশেষ সরঞ্জামের ব্যবহার বা নির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশনগুলোর দিকে ফোকাস করে।

কম্পিউটারে দ্রুতই উন্নত পরিসংখ্যান কৌশল, বড় পরিমাণে তথ্যের মধ্যে প্রবেশ এবং শিক্ষা ও উপলব্ধির ক্ষেত্রে অগ্রগতি লাভ করে। ২০১০-এর মাঝামাঝি পর্যন্ত, সারা পৃথিবীতে মেশিন লার্নিং অ্যাপ্লিকেশনগুলো ব্যবহার করা হতো। ২০১৫ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য একটি মাইলফলক বছর ছিল। গুগলের মধ্যে এআই ব্যবহার করার জন্য ২৭০০-এরও বেশি প্রকল্পে ‘স্পোরাইডিক ব্যবহার’ বৃদ্ধি পেয়েছে। এক্ষেত্রে ত্রুটির হার ২০১১ সাল থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। ক্লাউড কম্পিউটিং অবকাঠামোর উত্থানের ফলে এবং গবেষণা সরঞ্জাম ও ডাটাসেটগুলোর বৃদ্ধির কারণে সাশ্রয়ী মূল্যের স্নায়ুবিক নেটওয়ার্কগুলো বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যান্য উদাহরণের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মাইক্রোসফটের স্কাইপে সিস্টেমের ডেভেলপমেন্ট যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ভাষা থেকে অন্য ভাষায় অনুবাদ করতে পারে এবং ফেইসবুক সিস্টেম অন্ধ মানুষদের কাছে চিত্রের বর্ণনা করতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সামগ্রিক গবেষণার লক্ষ্য হচ্ছে প্রযুক্তি তৈরি করা যার মাধ্যমে কম্পিউটার এবং মেশিন বুদ্ধিমান পদ্ধতিতে কাজ করতে সক্ষম হবে। বুদ্ধিমত্তার উত্পাদন বা তৈরির ক্ষেত্রে সাধারণ সমস্যাগুলোকে কয়েকটি উপসমস্যায় বিভক্ত করা হয়েছে। যে বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা ক্ষমতা রয়েছে তা একটি বুদ্ধিমান সিস্টেম প্রদর্শন করবে বলে গবেষকরা আশা করেন। প্রাথমিক গবেষকরা অ্যালগরিদম বিকশিত করেছেন যা ধাপে ধাপে যুক্তিযুক্ত করে, যেমন করে মানুষ সমস্যা সমাধান বা যুক্তি খণ্ডনের জন্য সেগুলো ব্যবহার করে। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে এআই গবেষণাকে উন্নত করা হয় মূলত অনিশ্চিত বা অসম্পূর্ণ তথ্য, সম্ভাবনা এবং অর্থনীতি থেকে ধারণা করার জন্য।

কঠিন সমস্যা সমাধানের জন্য অ্যালগরিদমগুলোর প্রচুর গণনীয় তথ্য প্রয়োজন। এছাড়া সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞতা সংযুক্ত করতে সক্ষম মেমরি বা কম্পিউটারের নির্দিষ্ট সময় প্রযোজন একটি নির্দিষ্ট আকারের সমস্যা সমাধানের জন্য। এ কারণে আরো দক্ষ সমস্যা-সমাধানের অ্যালগরিদম অনুসন্ধান অনেক বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। মানুষ ধাপে ধাপে করার পরিবর্তে প্রাথমিকভাবে দ্রুত, স্বনির্ধারণী সিদ্ধান্ত ব্যবহার করেছে এবং  প্রাথমিক এআই গবেষণা সেই মডেলটিকে একটি রূপ দিতে পেরেছে। এআই ‘সাব-সিম্বোলিক’ সমস্যা সমাধান ব্যবহার করে অগ্রগতি অর্জন করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অঙ্গবিন্যাসকারী এজেন্ট উচ্চতর যুক্তি থেকে দক্ষতার ওপর জোর দেয়, যা মস্তিষ্কের ভেতরকার কাঠামোর অনুকরণে গবেষণার প্রচেষ্টা করে। কারণ এআইয়ের প্রধান উদ্দেশ্য  হলো মানুষের ক্ষমতা অনুকরণ করা।

n লেখক :সাবেক শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়