দূষণে অস্তিত্বসংকটে হবিগঞ্জের সুতাং নদী

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ২১:২৬

শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে নির্গত দূষিত বর্জ্যে কালো হয়ে গেছে পানি

মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জে শিল্প প্রতিষ্ঠানের দূষিত বর্জ্যে অস্তিত্বসংকটে পড়েছে সুতাং নদী। গত এক দশকে বেসরকারি উদ্যোগে জেলার অলিপুর এলাকায় গড়ে উঠা ছোট-বড় অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে নির্গত দূষিত বর্জ্যে সুতাং নদীর পানি কালো রং ধারণ করেছে। নদী তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ, যারা এই পানি ব্যবহার করছেন তারা চর্মরোগ, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগের শিকার হচ্ছেন।  এই নদীর পানি পান করে গবাদি পশু, হাঁস মুরগিও মারা যাচ্ছে। নদী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মাছ। সেচের কাজেও এই নদীর পানির করা নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। লাখাই উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিক আশিষ দাশ গুপ্ত জানান, বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে নির্গত বর্জ্য শৈলজুড়া খাল হয়ে সুতাং নদীতে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের শেষে সুতাং নদীর বেলেশ্বরী নামক স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী পুন্যস্নান অনুষ্ঠান করাও এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল লাখাই উপজেলায় সুতাং নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা সফর করে এসে জানান, অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান অপরিকল্পিতভাবে এবং গোপনে বর্জ্য নদীতে ফেলায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। জেলা বাপা সভাপতি অধ্যক্ষ ইকরামুল ওয়াদুদ বলেন, সংকটে পড়া সুতাং নদীকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে না আনতে পারলে বিস্তীর্ণ এলাকার পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্যে দীর্ঘ মেয়াদি বৈরী প্রভাব পড়বে।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক মো. এমরান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সীমানার বাইরে গোপনে খালে কিংবা নদীতে কেউ যাতে বর্জ্য ফেলতে না পারে সে ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। পরিবেশ  অধিদপ্তর এ ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছে।