স্যাটেলাইট যন্ত্রযুক্ত আরও একটি কচ্ছপ সুন্দরবনে জেলের জালে

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:৩২

সুন্দরবনে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার যুক্ত করে ছেড়ে দেওয়া বিরল প্রজাতির আরও একটি কচ্ছপ (বাটাগুর বাসকা) জেলেদের জালে ধরা পড়েছে। আনুমানিক ৪০ বছর বয়সের এই কচ্ছপটির ওজন প্রায় ১০ কেজি। বুধবার পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের সুতারখালী নদীতে মাছ ধরার সময় কুলসুম নামে এক নারীর জালে ধরা পড়ে এ কচ্ছপটি।

এ ঘটনার মাত্র এক দিন আগে সোমবার সকালে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার মিঠাখালী এলাকার পুটিমারী খালে আরেক জেলের জালে ধরা পড়ে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার যুক্ত আরেকটি কচ্ছপ।

স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার যুক্ত উদ্ধার হওয়া কচ্ছপ দুটিকে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (সিএফ) আমির হোসাইন চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুনঃ দুর্নীতি নির্মূলের জন্য প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থান নিয়েছেন: হানিফ

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও পর্যটন কেন্দ্রের বাটাগুর বাসকা প্রজেক্টের স্টেশন ম্যানেজার আ. রব জানান, ‘স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার যুক্ত করে গত বছর সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিলো উদ্ধার হওয়া বিরল প্রজাতির এই কচ্ছপ দুটি। বিগত বছরগুলোতে দুই দফায় স্যাটেলাইট জিপিএস ট্র্যাকিং ট্রান্সমিটার সিস্টেম সংযোজিত করে ৫টি বাটাগুর বাসকা সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় ছেড়ে দেওয়া হয়। সুন্দরবনে বসবাস করা বিরল প্রজাতির এই কচ্ছপে স্যাটেলাইট জিপিএস ট্র্যাকিং ট্রান্সমিটার সিস্টেম সংযোজিত করে ছেড়ে দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল ওদের বিচরণক্ষেত্র, স্বভাব, পানির ওপর রোদ পোহানো ও পানির নিচের অবস্থান নির্ণয়সহ প্রজনন ক্ষেত্র সম্পর্কে গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করা। আর এই বাটাগুর বাসকা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা জু, টিএসএ আমেরিকা ও বাংলাদেশ বন বিভাগ। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজলে এ প্রজেক্টের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এছাড়া স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যাদি সংগ্রহ করা হয়ে থাকে দেশ-বিদেশের কন্ট্রোল রুম থেকেই। এ প্রজেক্টের মুল উদ্দেশ্য হলো বিরল প্রজাতির বাটাগুর বাসকা কচ্ছপের প্রজনন বৃদ্ধির মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার করা।’

ইত্তেফাক/নূহু