ক্যান্টিন না খোলায় খাবারের ভোগান্তিতে ঢাবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২১, ১৬:১৪

করোনা ভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের কার্যক্রম চললেও করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বন্ধ রাখা হয় রেজিস্ট্রার ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ব্যবহার হওয়া ক্যান্টিন। কিন্তু গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরোদমে অফিস খুললেও খোলা হয়নি প্রশাসনিক ভবনের ক্যান্টিনটি।

কর্মকর্তাদের দাবি, কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানালেও খোলার অনুমতি দেয়া হয়নি। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্যান্টিন চালু করার অনুমতি অনেক আগেই দেয়া হয়েছে। কিন্তু কেন খুলছে না তারা জানেন না। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের কর্মকর্তারা জানান, ক্যান্টিন খোলা থাকলে করোনার সংক্রমণ হতে পারে এমন কারণে প্রথম দিকে ক্যান্টিন বন্ধ রাখা হয়। বিষয়টি সবাই মেনেও নিয়েছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে পুরোদমে অফিসের কার্যক্রম শুরু হলেও ক্যান্টিন বন্ধ রাখা হয়। নিরাপদ সামাজিক দূরত্বের যে কথা বলা হয়েছিলো তাও মানছে না কেউ। এখন শুধু ক্যান্টিন বন্ধ রেখে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা হয়েছে। তারা জানান, ক্যান্টিন না খোলার কারণে ৯টায় অফিসে আসার পর সারাদিন উপোস থেকে কাজ করতে হয়।

ক্যান্টিনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ক্যান্টিনটি না খোলার কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা খাবারের জন্য ভীষণভাবে ভুগছে। তিনি দাবি করেন, কোষাধ্যক্ষ স্যার ক্যান্টিন খোলার জন্য চিঠি লিখে দিয়েছেন। কিন্তু উপাচার্য স্যারের সম্মতি না থাকার কারণে ক্যান্টিন খোলা সম্ভব হয়নি। 

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান জানান, ক্যান্টিনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এর জন্য একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। কমিটিই সব ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনিক ভবনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটির পক্ষ থেকে উপাচার্য বরাবর আবেদনও করা হয়েছিলো। এটি সিন্ডিকেট সভায় আলোচিত হয়েছিল। কিন্তু কিছু কর্মকর্তার বিরোধীতার মুখে ক্যান্টিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বহাল রাখে কর্তৃপক্ষ। 

তারা জানান, সকালের বাসে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসা হয়। এখানে আশেপাশে কোথায় খাবারের কোন দোকান নেই। প্রথমদিকে কয়েকটি চায়ের দোকান আশে-পাশে থাকলেও সেখানে কর্মকর্তারা খাবার খেতে যায়, জটলা হয়, আড্ডা হয় এমন কারণে সে দোকানগুলোও তুলে দেয়া হয়। এখন খাবারের জন্য আমাদের হয় নীলক্ষেত যেতে হয়, না হয় বাসা থেকে খাবার খেয়ে আসতে হয়। আর যাদের আর্থিক সংকট রয়েছে তারা দুপুরে না খেয়েই কাজ করে, বিকেলে বাসায় গিয়ে খাবারের চিন্তা-ভাবনা করে। 

রেজিস্টার ভবনের এ ক্যান্টিনের আহ্বায়কের দায়িত্বে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কথা বিবেচনা করে তিনটা পর্যন্ত অফিস শুরু করার সময়ে  ক্যান্টিন খোলার অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু কি কারণে ক্যান্টিন খুলছে না তা জানেন না তিনি।
ইত্তেফাক/এমএএম