সাভারের আশুলিয়ায় ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ না পেয়ে বাড়ির মালিকের ১০ বছরের স্কুলপড়ুুয়া ছেলেকে হত্যা করেছে তারই বাসার এক ভাড়াটিয়া। ঘটনাটি ঘটেছে গত রবিবার রাতে বঙ্গবন্ধু রোডের চৌরাস্তা এলাকার আবুল কালাম আজাদ মাদবরের বাড়িতে। নিহত ঐ স্কুলছাত্রের নাম রাজা। সে স্থানীয় একটি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। এ হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ঐ ভাড়াটিয়া আরিফুল ইসলাম পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী লিজা আক্তারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে রাজাকে অপহরণের কথা জানিয়ে তার পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন ভাড়াটিয়া আরিফুল ইসলাম।
অভিযুক্তরা হলেন—পাবনার সুজানগর থানার ভাতশালা গ্রামের তফিজ উদ্দিনের ছেলে আরিফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী লিজা। তারা এক মাস আগে এই বাসায় একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে পার্শ্ববর্তী পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার সন্ধ্যায় চা খাওয়ার কথা বলে বাড়ির মালিকের ছেলে রাজাকে ডেকে নিয়ে যায় ঐ বাসার ভাড়াটিয়া আরিফুল ইসলাম। এরপর রাজার বাবা কালাম মাদবরের কাছে সে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে । কিন্তু তিনি টাকা দিতে না চাইলে আরিফুল ক্ষিপ্ত হয়ে রাজাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার লাশ বস্তাবন্দি করে বাসার বারান্দায় রেখে পালিয়ে যায়। পরে রাজার বাবাকে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা নিয়ে উত্তরায় যেতে বলেন আরিফ।
রাজার বাবা আবুল কালাম আজাদ বলেন, সন্ধ্যা থেকে আমার ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজাখুঁজি করে জানতে পারি আরিফ চা খাওয়ার জন্য রাজাকে নিয়ে গেছে। এরপর রাজা আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা দিতে না চাইলে সে আমার ছেলেকে হত্যা করবে বলে জানায়। ঘটনাটি আমি আশুলিয়া থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ আরিফুলের স্ত্রীকে আটক করে। পরে সে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেয় রাজার বস্তাবন্দি লাশটি বারান্দায় রাখা আছে। পরে পুলিশ সেখান থেকে আমার ছেলের লাশ উদ্ধার করে। এ সময় রাজার মুখের ভেতরে পুরোনো সাদা কাপড় ছিল। রশি দিয়ে পা ও গলা বাঁধা ছিল। আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করি। একই সঙ্গে আরিফের স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত স্কুলছাত্রের বাবা বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। আরিফকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।
