দেশে আবারও করোনার সংক্রমণ দ্রুত বাড়ায় ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়িয়ে গণবরিবহনকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। নির্দেশ মেনে রাজধানীর বাসগুলো অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ঠেলাঠেলি করে গাড়িতে উঠতে হয়েছে অনেককে।
আজ বুধবার (৩১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় দেখে গেছে এমন দৃশ্য। বাস থামার সঙ্গে সঙ্গে ঠেলাঠেলি করে উঠতে গিয়ে হেল্পারের বাঁধায় পড়েছেন অনেকেই। বাসে তুলতে রাজি না হলেও জোর করে উঠতে দেখা গেছে যাত্রীদের।
মিরপুর থেকে ছেড়ে আসা বিআরটিসির দ্বিতল একটি বাসে চোখে পড়েছে নির্দেশনা না মানার দৃশ্য। স্বাস্থ্যবিধি মানা তো দূরে থাক, সিট ফাঁকা না রেখেই গুলিস্তানের যাত্রা করছিলো বাসটি। ফার্মগেট এসে থামলে দেখা যায় ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে আছে যাত্রীরা। নিয়ম না মেনে কেনো চলছেন জানতে চাইলে গাড়িটির হেল্পার রসূল মিয়া বলেন, বারবার মানা করার পরও যাত্রীরা ঠেলাঠেলি করে গাড়িতে উঠতেছে। আমরা কোনোভাবেই মানাতে পারছিন তাদেরকে।
ঠেলাঠেলি করে গাড়িতে উঠা একজন যাত্রী বলেন, ভাই গাড়ি পাচ্ছি না। এভাবে না উঠে তো উপায় নেই।
বুধবার সকালে একই দৃশ্য চোখে পড়েছে রাজধানীর কল্যানপুর। শ্যামলী, কলেজগেট, ধানমন্ডি, খিলগাঁও, ফার্মগেট, মগবাজার, কাওরানবাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকায়। অর্ধেক যাত্রী বহন করায় রাজধানীতে তৈরি হয় কৃত্রিম যান সঙ্কট। যেকোনো উপায় অফিসে পৌঁছাতে হবে, এমন চিন্তা থেকেই তাই জোর করেই গণপরিবহনে ওঠার চেষ্টা করেছেন অনেকে। অনেকে আবার খুঁজে নিয়েছেন বিকল্প ব্যবস্থা। আবার অনেকে হেঁটেই রওনা হয়েছেন গন্তব্যের দিকে। উদ্দেশ্য একটাই, যেকোনো উপায়ে অফিসে পৌঁছাতে হবে।
দেশে গত বছর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চালানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছিল সরকার। দুই মাস সেভাবে চলেছিল গণপরিবহন। তখনো বাসভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। চলতি বছরের মার্চ থেকে আবার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গতকাল ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এতে গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে এবং ধারণক্ষমতার অর্ধেকের বেশি যাত্রী পরিবহন না করার নির্দেশনা রয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য গণপরিবহনে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে যাত্রী পরিবহন করতে হবে।
ইত্তেফাক/কেএইচ
