মো. শফি আলম, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
স্বামী পরিত্যক্তা সুফিয়া আক্তার মরতে মরতে বেঁচে গেছেন । মৃত্যুর দুয়ার থেকে বেঁচে এলেও জীবনের ভার বয়ে বেড়ানো এখন তার জন্য নিদারুণ কষ্টের। রোগাক্রান্ত, জীর্ণশীর্ণ দেহের সুফিয়া আক্ষেপ করে প্রায়ই বলেন ‘মরণই ছিল তার জন্য ভালো।’ বেঁচে অসহায় বৃদ্ধ বাবার গলগ্রহ হয়েছেন তিনি । ঘিওরের বানিয়াজুরী ইউনিয়নের তরা (মির্জাপুর) গ্রামের এক ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করেন বাবার সংসারে। কিশোরী বয়সে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই তার বিয়ে হয় । সে সময় বিয়েকে তিনি ভেবে নিয়েছিলেন নতুন স্বপ্ন, নতুন জীবনের মোহ। কিন্তু তার সে স্বপ্ন, দুঃস্বপ্ন হতে সময় নেয়নি। শ্বশুর বাড়ির লোকজনের অত্যাচারে তিনি আজ স্বামীহারা গৃহহীন। স্বামীর কাছে আশা করেছিলেন অন্ন-বস্ত্রের-নিরাপত্তা। জীবনের ভারও সপে দিয়েছিলেন তার হাতে। সেই নিষ্ঠুর পাষাণ হূদয়ের স্বামীই একদিন মেতে ওঠে জীবন কেড়ে নেওয়ার পৈশাচিক খেলায়।
বছর সাতেক আগের ঘটনা। বেড়িয়ে আসার কথা বলে এক রাতে সুফিয়াকে তার স্বামী নিয়ে যায় কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে। তারা সেতুর মাঝামাঝি রেলিং ধরে খোশ গল্পে মেতেও ওঠেন। এক পর্যায়ে আচমকা তাকে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় স্বামী। পর দিন মাছ ধরার জেলেরা তাকে অর্ধমৃত অবস্থায় উদ্ধার এবং স্থানীয় লোকজন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিত্সকদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। সেই রাতের ঘটনার দাগ আজও রয়ে গেছে তার মনে। বেঁচে আছেন মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায়। বাবা আবুল কাশেম এক সময় পত্রিকার হকারি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বয়স এখন আশির ঊর্ধ্বে। কোনো কাজ করতে পারেন না। সহায়সম্বল বলতে এক চিলতে বসতভিটা। ঘর বলতে পাখির বাসার মতো একটু ঠাঁই। ভাঙা টিনের সেই ছাপরা ঘরে আবুল কাশেম স্ত্রীসহ এই মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়েকে নিয়ে থাকেন। সম্প্রতি পড়ে গিয়ে ভেঙে গেছে সুফিয়ার হাত। অর্থাভাবেই চিকিত্সা করাতে পারেনি। ভাঙা হাত নিয়েই জীবনযাপন করছেন। এমনিতেই তাদের দিন কাটে অনাহার-অর্ধারে। করোনাকালে দুর্ভোগ বেড়েছে আরো। এমন পরিস্থিতিতে তাদের সহায়তায় হাত বাড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দিশারী। সম্প্রতি এ সংগঠনের ঘিওর শাখার সভাপতি মোহম্মদ রাতুল শেখ ও কয়েক জন সদস্য তাদের বাড়ি পৌঁছে দেন ইফতারি ও খাদ্যসামগ্রী। তারা সুফিয়ার পরিবারকে বড় ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।
