মানিকগঞ্জের ঘিওরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন জায়গা দখল করে কৃষি জমির মাটি ভেকু, ড্রেজার দিয়ে কেটে বিভিন্ন জায়গা ভরাট ও ইট ভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। বিক্রি করছে বানিয়াজুরি ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোক্তারুজ্জামান বাবু, ড্রেজার মালিক মিরন মিয়া ও আওয়ামী লীগ নেতা খলিলুর রহমান, বুলবুল, রুবেল, এলোয়ার মিয়া গং।
অপর দিকে নালী ইউনিয়নের উভাজানী চকে ফসলি জমি কেটে পুকুর তৈরি করছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদ হোসেনসহ কতিপয় ব্যক্তি। প্রতিদিনই লাখ টাকার মাটি বিক্রি করতে বসানো হয়েছে ড্রেজার ও ভেকু। যেন ক্ষমতা যার পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা তার।
জানা যায়, উপজেলার বানিয়াজুরি ইউনিয়নের নয়াচর, তাড়াইল, কাকজোড় গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন একটি সরকারি বেড়ি বাঁধ রয়েছে। এসব এলাকায় কতিপয় চিহ্নিত ভূমিদস্যুর দাপটে অসহায় হয়ে পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলাকাবাসী। কোন সুফল পাচ্ছে না ভূক্তভোগীরা। জোরপূর্বক ফসলি জমির ওপর দিয়ে ফসল নষ্ট করে ট্রাক চালিয়ে দিচ্ছে। উল্টো ভূমি দস্যুদের দাপটে মামলা-হামলার ভয়ে কেউ কথা বলতে সাহস পাচ্অছে না। আবার লিজের নাম করে পাউবো ও পার্শ্ববর্তী কৃষকদের মালিকানাধীন জায়গা থেকে জোরপূর্বক ভেকু ও ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে কয়েক লাখ টাকার মাটি বিক্রি করে আসছে।

ওই সব জমির মাটি কেটে ৮ থেকে ১০ ফুট গভীর গর্ত করা হচ্ছে। এতে ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে আশপাশের এলাকা। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে কৃষি ও ফসলি জমি। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মচারীর সহযোগীতায় এভাবে সরকারি মাটি বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর কোন অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন।
সরজমিনে জানা যায়, উপজেলার বানিয়াজুরি ইউনিয়নের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক থেকে নয়াচর তাড়াইল হয়ে সরুপাই পর্যন্ত প্রায় ৭১.২৬ একর ভূমি (৬৪/৭০-৭১ইং সালে এল.এ. কেস নং) বেড়িবাঁধের প্রয়োজনে পানি উন্নয়ন বোর্ড অধিগ্রহণ করে। কিন্তু পরবর্তিতে বাঁধের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জমিগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। এ সুযোগে ভূমিদস্যুরা দখলদারী ও ভেকু, ড্রেজার দিয়ে কেটে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকার মাটি।
ভূক্তভোগী নয়াচর এলাকার জমির মালিক মোঃ নবীন মিয়া ও আঃ সাত্তার বলেন, ‘যে জমিটি পুকুর তৈরি করছে তার পাশের জমিটি আমার। জোর করেই আমার জমির মাটি কাটবে। না করেছি দেখে আমাকে মারার হুমকি দিচ্ছে। জোরপূর্বক আমার ফসলি জমির ওপর দিয়েই ফসল নষ্ট করে ট্রাক চালাচ্ছে। মানা করলেই মারতে আসে।’
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুস ও ড্রেজার মালিক মিরণ মিয়া ড্রেজারের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা জমির মালিকদের কাছ থেকে মাটি কিনে নিয়েই বিক্রি করছি। এখন আপাতত বন্ধ আছে। আমরা সবাইকে ম্যানেজ করেই মাটি কাটবো। আর আমরা সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার জন্য বার হাজার টাকা দিয়েছি।’
ঘিওর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী সরকার রাখী জানান, ‘দ্রুতই ভূমিদস্যু ও অবৈধ মাটি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুনঃ মৃত্যুর সঙ্গে ১২ দিন লড়ে চলে গেলেন চবি শিক্ষার্থী নুসরাত
এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবে মওলা মোঃ মেহেদী হাসান জানান, ‘জমি সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে দ্রুতই আমাদের কর্মকর্তারা গিয়ে ব্যবস্থা নেবেন এবং পাউবোর আওতাধীন জায়গার মাটি ভেকু ও ড্রেজার দিয়ে কেটে বিক্রি করার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ইত্তেফাক/নূহু
