শমী হাসান চৌধুরী

ডায়ানা লেগেসি অ্যাওয়ার্ডে প্রথম বাংলাদেশি বিচারক

আপডেট : ২৫ জুন ২০২১, ০১:৩৯

প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ২০২১ সালের ডায়ানা লেগেসি অ্যাওয়ার্ডের বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশি তরুণী শমী হাসান চৌধুরী। চলতি মাসেই প্রিন্সেস ডায়ানার ভাই লর্ড স্পেন্সার-এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক নমিনেশন থেকে প্রথম ২০ জনকে বাছাই করতে কাজ করবেন শমি।

শতাধিক সমাজসেবী সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন ব্রিটিশ যুবরাজ চার্লসের প্রথম স্ত্রী প্রিন্সেস ডায়ানা। তাঁর স্মরণে সমাজসেবায় যুক্ত তরুণদের ২০ বছর ধরে দেওয়া হয় ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড। এই অ্যাওয়ার্ড প্রদানের ২০ বছরপূর্তিতে ২০১৭ থেকে প্রবর্তন করা হয় আরও একটি মর্যাদাপূর্ণ পুরষ্কার 'ডায়ানা লেগেসি অ্যাওয়ার্ড'। ডিউক অব ক্যামব্রিজ ও ডিউক অব সাসেক্স এসটি জেমস প্যালেসে এই অ্যাওয়ার্ডের প্রবর্তন করেন। ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তরাই প্রতি দুইবছর অন্তর অন্তর এতে অংশ নেন। 

আগামী ৯ ডিসেম্বর ‘আলথর্প হাউস’-এডওয়ার্ড অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন লর্ড স্পেন্সার। যেখানে সারা বিশ্ব থেকে মানবিক কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০ জন তরুণকে প্রদান করা হবে ডায়ানা লেগেসি অ্যাওয়ার্ড-২০২১।

২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের পেইন্টেড হলে লর্ড স্পেন্সার হতে প্রথম ও একমাত্র বাংলাদেশী হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেছিলেন শমী হাসান চৌধুরী। এছাড়াও ২০২০ সালের ডায়ানা অ্যাওয়ার্ডে বিচারক হিসেবেও কাজ করেছিলেন।

এ বিষয়ে শমী হাসান চৌধুরী বলেন, অসংখ্য যোগ্য তরুণ হতে ২০ জনকে বাছাই করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার। লর্ড স্পেন্সার ও অন্যান্য বিখ্যাত লোকদের সঙ্গে বিচারকের আসনে থাকতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান বোধ করছি।

পানি, পয়োনিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতা (ওয়াশ) বিষয়ক সচেতনতা তৈরির একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করছেন শমী হাসান চৌধুরী। কীভাবে পানি বিশুদ্ধ করতে হয়, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব কী, মাসিকসংক্রান্ত কুসংস্কার কোনগুলো, প্রায় ৯ বছর ধরে এমন আরও নানা সচেতনতার কথা তিনি পৌঁছে দিচ্ছেন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে। অ্যাওয়ারনেস ৩৬০ নামে একটি সেবামূলক সংস্থার সহপ্রতিষ্ঠাতা তিনি। 

প্রায়ই নানা দেশে নানা কাজে ও আমন্ত্রণে ছুটতে হয় এই তরুণীকে। এর আগে রানি এলিজাবেথের ৯২তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে লন্ডনে গেছেন। ব্রিটিশ অভিনেতা কেল স্পেলম্যানের সঙ্গে কো-হোস্ট করেছেন ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান! স্বীকৃতি পেয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা থেকেও। নিউ ইয়ার্ক সেন্ট্রাল পার্কে ৬০ হাজার দর্শকের সামনে বক্তৃতা দিয়েছেন। গ্লোবাল সিটিজেন ফেস্টিভাল কো-হোস্ট করেছেন হিউ জ্যাকম্যান, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এবং অন্যান্য হলিউড তারকাদের সঙ্গে। ২০১৮ সালে কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপের সঙ্গে গিয়েছেন পাকিস্তানে, দেশটির নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসোর্স নেটওয়ার্ক ২০১৮ সম্মেলন ও কানাডার ভার্জিনিয়ায় লিডারসটুডে গ্লোবাল ইয়ুথ সার্ভিস সামিটে অংশ নিয়েছেন একজন অন্যতম বক্তা হিসেবে।

২০১৪ সালে শমীর মা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এর আগেও সমাজ সচেতনতামূলক নানা কার্যক্রমের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। কিন্তু মাকে হারানোর পর পুরোদমে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন। কখনো ময়মনসিংহের পতিতাপল্লি, কখনো হরিজনপল্লি ঘুরে তিনি স্বাস্থ্য সুরক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন। সমাজসেবা কার্যক্রমের পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন নানা পুরস্কার। বিশ্বের ২৩টি দেশে তরুণেরা অ্যাওয়ারনেস ৩৬০ এর সঙ্গে কাজ করছেন। বাংলাদেশে টয়লেটের সমস্যার সমাধানের জন্য একটা সামাজিক ব্যবসার মডেল তৈরি করছেন।

 

ইত্তেফাক/এসটিএম