৮৭ সালের পর ২০২১

আপডেট : ২৬ জুন ২০২১, ২২:২৮

দর্শকবিহীন মোহামেডান-আবাহনী ফুটবল ম্যাচ আজ

 সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

করোনায় অনিশ্চয়তার পথে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ। জাতীয় দলের খেলা থাকার কারণে স্থগিত ছিল গতকাল পুনরায় শুরু হয়েছে। তবে করোনায় শেষ পর্যন্ত কয়দিন খেলা হবে তা নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও অন্তত আজকের ম্যাচটি হচ্ছে বলে বাফুফে জানিয়েছে। আজ বিকাল ৫টায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে মোহামেডান-আবাহনী মুখোমুখি হবে। লিগের পর্বে মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচ হয়েছিল মোহামেডানের ভেন্যু কুমিল্লায়। সেই ম্যাচে মোহামেডান ২-১ গোলে জিতেছিল। এবার ঢাকায় ফিরতি ম্যাচ। করোনার কারণে এবার এই ম্যাচে দর্শক প্রবেশ করতে পারবে না। স্বাস্থ্যগত কারণে এই বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিককালে মোহামেডান-আবাহনী ফুটবল ম্যাচ কখনো দর্শকবিহীন হয়নি। যতদূর মনে পড়ে ১৯৮৭ সালে মোহামেডান-আবাহনী লিগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ হয়েছিল দর্শক ছাড়া। এরশাদ আর্মি স্টেডিয়ামে খেলা হয়েছিল।

৮৭ প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগ, ঢাকা স্টেডিয়ামে লিগের শেষ খেলায় মোহামেডান-আবাহনী মুখোমুখি। শিরোপা জিততে হলে আবাহনী ড্র করলেই চলবে। তখন জিতলে ২ পয়েন্ট। মোহামেডানকে জিতলে রিপ্লে ম্যাচ হবে। মোহামেডান জিতল ২-১ গোলে। গ্লানি গায়ে মেখে আবাহনী ছেড়ে আসা মিডফিল্ডার খুরশিদ বাবুল আবাহনীর পাকির আলীর অফসাইড ভেঙে ঢুকে পড়েন এবং গোল করেন খুরশিদ বাবুল। আবাহনীর সব ফুটবলার অফসাইড, অফসাইড আওয়াজ তুলে লাইন্সম্যান মুনিরুল ইসলামকে ঘিরে ধরলেন। তাতে কাজ হলো না। আবাহনী ম্যাচ হারল কয়েক দিন পর ঢাকা স্টেডিয়ামে মোহামেডান-আবাহনীর রিপ্লে ম্যাচ। সেই ম্যাচে গোল হলো না। ৯০ মিনিট শেষ। স্টেডিয়াম ভরা দর্শক। লিগ কমিটির সম্পাদক মো. নুরুল্লাহ মাঠে ঢুকলেন। আলোচনা করে ফিরে এলেন তার রুমে। এরই মধ্যে আবাহনীর অধিনায়ক শেখ মো. আসলাম এবং মোহামেডান অধিনায়ক রনজিত কুমার নিজেদের যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে দুই দলের খেলোয়াড়দের হাত ধরাধরি করে মাঠ প্রদক্ষিণ করলেন। গ্যালারির দর্শকও উঠে দাঁড়িয়ে করতালি দিলেন। সবাই হাসি মুখে চলে গেলেন। আসলাম সেদিন বলেছিলেন কেউ খেলতে পারছে না। মাঠের যা পরিস্থিতি কেউ হারলেই দর্শকের মধ্যে রক্তারক্তি পরিস্থিতি হয়ে যাবে। একদিন পরই বাফুফে ঘোষণা দিল আসলাম-রনজিত এক বছরের জন্য সাসপেন্ড। মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচ পুনরায় হবে, আর্মি স্টেডিয়ামে খেলা। দর্শক ঢুকতে পারবে না। বিটিভি খেলা দেখাবে। সেই ম্যাচে আসলাম সাইড লাইনে স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড়দের সঙ্গে দাঁড়িয়ে খেলা দেখেছেন। মোহামেডান জিতল, লিগ চ্যাম্পিয়ন হলো। রেফারি এহসান খেলা পরিচালনা করলেও তার অলক্ষ্যে খেলা চলাকালীন মোহামেডানের নাইজেরিয়ান ফুটবলার এমেকা ইউজেগো কুনই মেরে আবাহনীর মিডফিল্ডার নাবিবের নাক ভেঙে দিয়ে রক্তাক্ত করে দিলেন। নাবিবের নাক-মুখ বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ল আকাশী নীল জার্সির বুকে। অনেক স্মৃতির সেই ম্যাচ এখনো এদেশের ফুটবল দর্শকের কাছে আলাদা স্থান করে নিয়েছিল। আসলাম-রনজিতের সাসপেনশন প্রত্যাহার করার জন্য রাস্তায় আন্দোলন হয়েছিল। খেলোয়াড়দের সমিতি আন্দোলনে নেমেছিল। স্মারকলিপি দেওয়া হতে শুরু করে এই দুই ফুটবলারকে দুয়ারে দুয়ারে যেতে হয়েছিল। কিন্তু কাজ হয়নি। ঐ বছর ফুটবল লিগও মাঠে গড়ায়নি। এরই মধ্যে আসলাম, রনজিতের সাসপেনশনের এক বছর কেটে গেছে। লিগও মাঠে গড়িয়েছে। তারাও আবার জার্সি গায়ে মাঠে খেলেছেন।