তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান সেই দেশের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলের ইউরোপীয় অংশকে দুই ভাগ করে একটি খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন, যার লক্ষ্য হচ্ছে করে কৃষ্ণ সাগর এবং মারমার ও ভূমধ্যসাগরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা। সুয়েজ বা পানামা খালের আদলে কৃত্রিমভাবে খনন করা এই ‘ক্যানাল ইস্তান্বুল’ বা ইস্তান্বুল খালের লক্ষ্য হচ্ছে বসফরাস প্রণালির বিকল্প তৈরি করে ওই দুই সাগরের মধ্যে আরো বেশিসংখ্যক জাহাজ চলাচলের পথ সুগম করা।
বসফরাসের বিকল্প একটি খাল খনন নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছিল বেশ অনেক আগে, সেই ওসমান বংশীয় সুলতান ‘সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্টের’ আমলে। তুর্কি পত্রিকা হুরিয়াতের খবর অনুযায়ী, তার আর্কিটেক্ট মিমার সিনান এই পরিকল্পনাটি তৈরি করলেও অজ্ঞাত কারণে তা বাতিল করা হয়। সুলতান তৃতীয় মুরাদের আমলে ১৬৯১ সালের ৬ মার্চ এই খাল খননের জন্য একটি রাজকীয় ফরমান জারি করা হয়, কিন্তু সেটিও পরে বাদ হয়ে যায়। এভাবে মোট সাতবার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কখনোই বাস্তবে পরিণত হয়নি।
বসফরাস প্রণালি সামরিক এবং বাণিজ্যিক দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র পথগুলোর অন্যতম। এই প্রণালীকে, কীভাবে ব্যবহার করতে পারবে, তার জন্য রয়েছে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যাকে মন্ট্রো চুক্তি বলা হয়। এরদোয়ান সরকার মনে করছে, পশ্চিমা কিংবা রাশিয়া কোনো পক্ষেরই তল্পিবাহক না হয়ে তুরস্ক এখন নিজের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভূ-রাজনৈতিক খেলায় একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। সে জন্যেই তারা এমন একটি বিকল্প জলপথ তৈরি করতে চায়, যা মন্ট্রো চুক্তির শর্তেও জালে আবদ্ধ থাকবে না। এদিকে ইস্তান্বুল খাল খনন পরিকল্পনা নিয়ে তুরস্কের পরিবেশবাদীরা শুরু থেকেই বেশ সন্দিহান ছিলেন, এর বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। আর এই সমালোচকদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত যিনি, তিনি হলেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে পরাজিত করা ইস্তান্বুলের মেয়র একরাম ইমামোগলু। তিনি বলেন, ‘এই সিমেন্ট প্রকল্পের কথা ভাবলে আমি রাতে ঘুমাতে পারি না। এই প্রকল্প শেষ হওয়ার পর প্রথম যে ভাবনা সবাইকে ভাবিয়ে তুলবে তা হলো, স্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভবিষ্যত্ প্রজন্মের বেঁচে থাকার অধিকার। অর্থের মূল্যে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যাবে না।’
