চট্টগ্রামের কুখ্যাত ডাকাত সর্দার, খুন-ডাকাতি-ঘর পোড়ানোসহ ৫ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও ৭ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাউজানের আতঙ্ক সেলিম বাহিনীর প্রধান মো. সেলিম মিয়া ওরফে ডাকাত সেলিম (৩৪) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
২৮ জুন (সোমবার) বিকাল ৩ টায় আদালতে মাধ্যমে এই দূর্ধর্ষ ডাকাতকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

জানা যায়, গত (২৭ জুন) রাতে চট্টগ্রামের এএসপি (রাউজান- রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেন শামীম'র নেতৃত্বে রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল হারুন, পরিদর্শক তদন্ত মো. কায়সার হামিদসহ পুলিশের একটি দল লুঙ্গি পরিধান করে কামলা/দিন মজুর ছদ্মবেশ ধারণ করে রাউজানের কদলপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় পলায়নরত অবস্থায় সেখান থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ ডাকাত মো. সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার বসতবাড়ির রান্নাঘরে লাকড়ির ভেতর লুকানো অবস্থায় একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক, ১ টি খেলনা রিভলবার ১ টি রামদা, ২ টি ছোড়া এবং ১ টি কিরিচ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটকের পর ডাকাত সেলিম তার অপকর্মের খতিয়ান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি মূলত ২০০০ সাল থেকেই অপরাধ কর্মের সঙ্গে যুক্ত হন। প্রথমে ছোটখাট ছিনতাই, ভাড়াটে সন্ত্রাসী প্রভৃতি হিসেবে কাজ করলেও মূলত ২০১৫ সালের পর তিনি নিজেই একটি ডাকাত দল গঠন করে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি শুরু করেন। আটককৃত সেলিম রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নস্থ দক্ষিণ শমশের পাড়া গ্রামের মৃত আমির হোসেনের পুত্র। তার বিরুদ্ধে রাউজান থানায় খুন, ডাকাতি ছিনতাইসহ নানান অপরাধে পাঁচটি মামলা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে অভিযানের নেতৃত্বে থাকা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, আমরা অনেকবার চেষ্টা করেও অত্যন্ত ধূর্ত স্বভাবের এই ডাকাত সর্দারকে ধরতে পারছিলাম না। তাই এবার আমরা লুঙ্গি পরে গ্রামবাসীর ছদ্মবেশ নিয়েছিলাম। তার অন্য সহযোগীদেরকেও আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ইত্তেফাক/এনএ
