অন্যের হয়ে জেল খাটা সেই নারীর ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২১, ০০:৫১

অন্যের হয়ে তিন বছর সাজা খেটে কারাগার থেকে বের হয়ে আসার ১২ দিনের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন সেই মিনু আক্তার। একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া এক আসামির পরিবর্তে জেল খাটছিলেন এই হতদরিদ্র নারী।

উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত ১৬ জুন তিনি চট্টগ্রাম কারাগার থেকে মুক্তি পান। পুলিশের দাবি, গত ২৮ জুন ভোরে নগরীর বায়েজিদ-ভাটিয়ারি লিংক রোডে ট্রাকের ধাক্কায় মিনু আহত হয়ে মারা গেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত হতে না পারায় তাকে শনাক্ত করা যায়নি। অজ্ঞাত পরিচয় লাশ হিসেবে তাকে দাফন করে আনজুমানে মুফিদুল ইসলাম। দুর্ঘটনার চার দিন পর গত শনিবার (৩ জুলাই) পুলিশের কাছে ছবি দেখে মিনুকে শনাক্ত করেন তার ভাই রুবেল।

বায়েজিদ থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, দ্রুতগামী ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত মিনু আক্তারকে চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকটি দ্রুত পালিয়ে গেছে। আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে ট্রাক ও চালককে আটক করার চেষ্টা করছি। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনায় মিনুর মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করলেও ঘটনাটিকে ‘রহস্যজনক’ উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন তার আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ। তিনি জানান, ২০০৬ সালে নগরের কোতোয়ালি থানার রহমতগঞ্জ এলাকায় এক গার্মেন্টস কর্মীকে গলা টিপে হত্যার ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান কুলসুমি নামে এক নারী। ২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় দেড় বছর কারাগারে কাটানোর পর আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

No description available.

২০১৭ সালের নভেম্বরে মামলার রায়ে কুলসুমির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। ২০১৮ সালের ১২ জুন কুলসুমি সেজে আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যান মিনু। ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল কুলসুমির নামে মিনুর টিপসই নিয়ে হাইকোর্টে আপিল করা হয়। ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট আপিল গ্রহণ করে। কয়েক দফা শুনানির পর নিম্ন আদালতের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে মিনুকে জামিনে সাময়িক মুক্তির নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এরপর ১৬ জুন মিনু মুক্তি পান।

ইত্তেফাক/এসজেড