চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় করোনা সংক্রমণ দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও প্রায় প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল ও সরঞ্জামাদির সংকটের কারণে একদিকে রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্জিত হচ্ছেন,অন্যদিকে কর্মরত চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
জেলার ৪টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রয়েছে জনবল সংকট। সেই সঙ্গে রয়েছে চিকিৎসা সামগ্রীর স্বল্পতা। জেলার নাচোলে ৮ জন চিকিৎসকের স্থলে আছেন ৪ জন। ভোলাহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২ চিকিৎসকের স্থলে আছেন মাত্র ৩ জন।
তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে জনবল সংকট না থাকলেও, মাঠ কর্মীর সংকট রয়েই গেছে। জেলার সবচেয়ে বড় শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৯ লাখ জনগনের জন্য মাত্র ১টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকলেও নানা সমস্যায় জর্জরিত। এখানে অনুমোদিত পদে ২১ জন চিকিৎসকের স্থলে আছেন ১২ জন। মাঠ কর্মীর ক্ষেত্রে ৮০ জনের স্থলে রয়েছেন ৫৪ জন। এ্যাম্বুলেন্স রয়েছে মাত্র ১টি। তাও আবার চালক অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকায় হয়রানীর শিকার হচ্ছে রোগীরা।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে নেই কোনো ডিজিটাল এক্সরে মেশিন। সাধারণ এক্সরে মেশিন থাকলেও জনবল সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে। শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার সায়রা খান জানান, গত বছর থেকে এ পর্যন্ত শিবগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৫ জন, নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ২৬ শ জনের, শনাক্ত হয়েছে ৬১৯ জন, সুস্থ হয়েছে ৫২৭ জন।

বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৯২ জন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান সদর হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসক সংকট নেই, তবে মাঠ কর্মীর সংকট রয়েছে। রবিবার ৬ জনসহ গতবছর থেকে মোট মারা গেছে ১৯১ জন। তার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের ৮১ জন, নাচোলে ৪ জন, ভোলাহাটের ২ জন, গোমস্তাপুরের ৭ জন ও শিবগঞ্জের ২৫ জন।
তিনি আরো জানান, এ পর্যন্ত জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৩৫৪ জন, সুস্থ হয়েছে ৩ হাজার ৪৭৩ জন, বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৩ জন। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় করোনা শনাক্তের হার নিম্নমুখী। জনগণ স্বাস্থ্য বিধি মেনে চললে খুব শীঘ্রই করোনা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
ইত্তেফাক/এসআই
