করোনায় বিপাকে কালাইয়ের ১২০০ দুগ্ধ খামারি

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২১, ১৪:০৯

দেশব্যাপী চলমান করোনা সংকটের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১২০০ দুগ্ধ খামারি। এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, হোটেল-রেস্তোরা, দোকানপাট বন্ধ এবং হাটবাজারে লোকজনের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় দুধ বিক্রি করতে পারছেন না খামারিরা। ফলে বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার দুধ পানির দামে বিক্রি হচ্ছে তাদের।

এতে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খামারিরা। দুধের দাম কমলেও অন্যদিকে বৃদ্ধি পেয়েছে সব ধরণের গো-খাদ্যসহ ঔষধের দাম। এতে করে এলাকার দুগ্ধ খামারিরা চরম বিপদে পড়েছেন।

No description available.

উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কালাই পৌরসভাসহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে প্রায় ১হাজার ২০০টি দুগ্ধ খামার রয়েছে এবং গাভী রয়েছে প্রায় ৩ হাজার। আর ঐসব গাভীরা খামারিদের প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার লিটার দুধ দিয়ে থাকে। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রভাব দুধের দরপতন হওয়ায় উপজেলার মাত্রাই হাট, বিয়ালা হাট, শাইলগুল বাজার, সমশিরা বাজার, বৈরাগী হাট, মোসলেমগঞ্জন হাট, নুনূজ বাজার, পুনটহাট, পাঁচগ্রাম বাজার, শান্তিনগর বাজার, মোলামগাড়ী হাট, মহেশপুর বাজার ও কালাই পৌর হাট-বাজারে সীমিত পরিসরে প্রতিদিন পানির দামে হাজার হাজার লিটার দুধ বিক্রি করছেন খামারিরা।

উপজেলার পুনট পূর্বপাড়া দুগ্ধ খামারি মো. কুদ্দুস মিয়া বলেন, আমার নিজের খামারে বর্তমানে ৩টি গাভী আছে। আমি পরিবারের অন্য কাজের পাশাপাশি গাভী পালন করি একটু সচ্ছল ভাবে জীবন যাপন করার জন্য। কিন্তু বর্তমানে আমিসহ এই এলাকার দুগ্ধ খামারিরা পানির দামে দুধ বিক্রি করছেন। যা দিয়ে গরুর খাবার জোগাড় ও পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

No description available.

উপজেলার পাঁচগ্রামের দুধ ব্যবসায়ী ছাইফুল বলেন, আমরা যেখানে প্রতিদিন এলাকার বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে প্রায় ১হাজার লিটার ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে কিনে নিতাম। সেখানে এখন ২০০ থেকে ৩০০ লিটার দুধ ২০ টাকার দরে কিনছি। কারণ, করোনা পরিস্থিতিতে হাটবাজার, দোকানপাট, লোক চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় দুধ কেনা-বেচা বন্ধ হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবু তালেব বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কারো অনুকূলে নেই। এ অবস্থায় খামারিদের উৎপাদিত দুধ বিক্রির ক্রেতা সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

ইত্তেফাক/এমআর