সাভারে ঋণের সুদ দিতে না পারায় মহাজন ও তার লোকজনের কাছে মারধর ও অপমান সইতে না পেরে এক হোটেল ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত ওই ব্যবসায়ীর নাম মো. হারুনুর রশিদ (৪৫)। বুধবার (৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার আশুলিয়া ইউনিয়নের ধলপুর এলাকার নিজ ভাড়া বাড়ি থেকে ওই ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত হারুনুর রশিদ মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর থানার রাধাকান্তপুর গ্রামের মৃত জমির উদ্দিনের ছেলে। সে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ধলপুর এলাকার জান্নাতুল ফেরদৌসের বাড়িতে একটি কক্ষ নিয়ে ভাড়া থেকে হোটেল ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, ফিরোজা বেগম নামে এক নারী ধলপুর এলাকায় চড়া সুদে বিভিন্ন মানুষকে টাকা ধার দিয়ে মহাজনী ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কিছুদিন আগে হোটেল ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদও ফিরোজা বেগমের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা ধার নেন। কিন্তু করোনার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য খারাপ হওয়ায় ঠিকমতো সুদের টাকা দিতে পারছিলেন না তিনি। এর ফলে পাওনা টাকা দিতে না পারায় ফিরোজা বেগমের ছেলে সাকিল ও ভাই কামাল, জামাল, আফাজ এবং ভাতিজা মনির মিলে ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদকে বেধড়ক মারধর করেন। এঘটনায় তাদের মারধর এবং অপমান সহ্য করতে না পেরে মঙ্গলবার ভোররাতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন হোটেল ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদ।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইউনুস জানান নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই বোঝা যাবে কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/এসজেড
