যুক্তরাষ্ট্রের রোড শো’তে বক্তারা

বাংলাদেশে বিনিয়োগের বড় সুযোগ রয়েছে

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২১, ২১:১৪

নতুন ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। গত ১২ বছরে বাংলাদেশের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। সত্যিকারের পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশে স্থানীয় বাজারে বিনিয়োগেরও বড় ধরনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের শেয়ারবাজারের ব্যাপ্তি এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রে সপ্তাহব্যাপী ‘রোড শো’ শুরু হয়েছে গত সোমবার। নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের ইন্টারকন্টিনেন্টাল বার্কলের বলরুমে এ রোড শো’র উদ্বোধনী পর্বে বক্তারা এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, আমাদের ইউনিয়ন পর্যায়ে চাইনিজ রেস্টুরেস্ট, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, বিউটি পার্লার, জিম, পোষা প্রাণীর বাজার গড়ে উঠেছে। শুধু তাই নয় স্থানীয় পর্যায়ে ট্যুরিজম মার্কেটও গড়ে উঠেছে। এভাবেই বাংলাদেশের অগ্রগতি হয়েছে। এদেশের স্থানীয় বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। প্রবাসীরা  দারুণভাবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ট্রেড পলিটিক্স রয়েছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের পথকে সুদৃঢ় করেছে। সালমান এফ রহমান বলেন, আমি যখন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি ছিলাম, তখন দেশের অবস্থা রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল ছিল না। হরতাল হতো প্রায় সময়। কিন্তু বর্তমানে বিদেশি নতুন প্রজন্মের বিনিয়োগকারীরা জানেন না হরতাল কী। বিনিয়োগের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতিতে একটা স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছেন। 

তিনি বলেন, রাজনীতি যে দেশে স্থিতিশীল নয়, সে দেশে উন্নতি সহজ নয়। বাংলাদেশে বর্তমানে বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। 

বিদেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি অনেক ভালো। সরকারের ভিশন ২০৪১ আছে। এ সময়ের মধ্যে গড়বে উন্নত সম্মৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ব বলে লক্ষ্য আছে। সরকারের ডেল্টা প্ল্যানও আছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে সরকারি, বেসরকারি ইকোনমিক জোন রয়েছে। এর মধ্যে মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরী অন্যতম। ইকোনমিক জোনগুলোতে এক সঙ্গে অনেক সুবিধা আছে। ইউনিলিটি থেকে নিয়ে সব ধরনের সুবিধা এক জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে।  তাতে ব্যবসা আরও সহজ হয়ে গেছে। কোনো কাজের জন্য ভোগান্তি নেই। এছাড়া এখনো কৃষিতে আমাদের বড় ধরনের সাফল্য রয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগের স্থানীয় নানা ধরনের বাজারে সম্ভাবনা রয়েছে। এসব খাতে বিনিয়োগ করা যায়।

অনুষ্ঠানে বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জ্যাকসন হাইট ও জ্যামাইকায় ব্রোকারেজ হাউজের শাখা হিসেবে শিগগিরই ডিজিটাল আউটলেট বা বুথ চালু করা হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে পৃথিবার সব দেশেরই ডিজিটাল আউটলেট বা বুথ স্থাপনের মাধ্যমে রিয়েল টাইমে ট্রেড করার সব ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। সমস্যা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে বা অন্যান্য দেশগুলোতে ডিজিটাল আউটলেট স্থাপনের ক্ষেত্রে সেখানকার রেগুলেটরির পারমিশন লাগে। সেজন্য একটু সময় লাগছে। আমাদের পক্ষ থেকে আবেদন করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডিজিটাল আউটলেটের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রেগুলেটরির  পারমিশন পেলে জ্যাকসন হাইট ও জ্যামাইকায় ডিজিটাল আউলেট পেয়ে যাবেন। তখন এখন থেকে রিয়েল টাইম ট্রেড করতে পারবেন। তবে দুই দেশের সময়ের ব্যবধানের কারণে একটু কষ্ট হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজিটাল আউটলেট স্থাপনের জন্য ৪টি কোম্পানি আবেদন জানিয়েছে। আমরা বিশ্বের যে কোনো দেশে ডিজিটাল আউটলেট খোলার জন্য ধারাবাহিকভাবে অনুমতি দিয়ে দিচ্ছি।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনাকীদের সংগঠন এএএমসিএমএফ’র সভাপতি ড. হাসান ইমাম বলেন, আমেরিকার বেশ কিছু বিনিয়োগকারী বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে বাংলাদেশে সাসটেইনেবল বিনিয়োগের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সুযোগ সুবিধার কারণে তারা এ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বেসরকারি এনটিটিসহ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সকল আদর্শ ব্যবস্থা এখন বাংলাদেশে বিরাজমান। এজন্য আমেরিকান বাংলাদেশীরা (এনআরবি) দেশের পুঁজিবাজারে আস্থা পাচ্ছেন।

উদ্বোধনী রোড শো অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল নজরুল ইসলাম, বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বিএসইসির কমিশনার ড. মিজানুর রহমান, ওয়ালটন হাইটেকের এমডি প্রকৌশলী গোলাম মুর্শেদ, শান্তা অ্যাসেটের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ খান প্রমুখ।

ইত্তেফাক/এসআই