তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সঙ্গে ‘অনুকূল পরিস্থিতিতে’ আফগান সংকট নিয়ে বৈঠকের জন্য তালেবান নেতৃত্ব আগ্রহী বলে জানিয়েছেন আফগানিস্তানের সশস্ত্র দলটির এক মুখপাত্র।
সম্প্রতি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান রাজধানী কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও তালেবান এর বিরোধিতা করছে।
গত ছয় বছর কাবুল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর পরিচালনায় তুরস্ক নিরাপত্তা ও লজিস্টিক সহায়তা দিয়ে আসছে।
বুধবার সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে এরদোগান জানিয়েছিলেন, আফগানিস্তানের অস্থিতিশীল অবস্থার অবসানে তিনি তালেবান নেতার সাথে সাক্ষাতে প্রস্তুত রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ব্রিটেনভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের কাছে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে এই কথা জানান তালেবান মুখপাত্র মোহাম্মদ নাইম।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'সকলেই চায় আমাদের নেতার সাথে বৈঠক করতে। অপরদিকে আমরাও তাই চাই তবে তা অনুকূল পরিস্থিতিতে। বর্তমানে দোহায় তুর্কি দূতাবাস ও আমাদের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে। সাথে সাথে আমরা সবদেশের সাথেই সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী।'
বিবৃতিতে একইসাথে তিনি কাবুল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়ে তুরস্কের সংশ্লিষ্টতাকে ইঙ্গিত করে বলেন, 'কাবুল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সম্পর্কে আমরা তুরস্ককে সরাসরি স্পষ্টভাবে আমাদের কথা জানিয়ে দিয়েছি। সব বিদেশী বাহিনীকে অবশ্যই আমাদের দেশ ছাড়তে হবে।'
২০২০ সালে কাতারে স্বাক্ষরিত এক চুক্তি অনুযায়ী আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সামরিক জোটভুক্ত দেশগুলোর সৈন্য প্রত্যাহারের মধ্যে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেয়া শুরু করে তালেবান। চুক্তি অনুযায়ী আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তালেবানের অংশ নেয়ার কথা থাকলেও সরকারের সাথে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় তালেবান আফগানিস্তানের প্রদেশগুলোর দখল নিতে শুরু করে।
সমঝোতা না হওয়ার জন্য আফগান সরকারকে অভিযুক্ত করছে তালেবান।
ইত্তেফাক/এফএস
