অনাবাসিকদের দখলে বেরোবির আবাসিক হল

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৬:২১

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও শহীদ মুখতার ইলাহী হল অনাবাসিকদের দখলে থাকায় বৈধভাবে বরাদ্দ পাওয়া শিক্ষার্থীরা তাদের সিটে উঠতে পারছে না।

হল প্রশাসন দফায় দফায় অনাবাসিকদের হল ছাড়ার নির্দেশ দিলেও তা মানছে না অনাবাসিকরা। এতে, হলের ফান্ড শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ফলে, ৪/৫ মাস যাবত বেতনবঞ্চিত আছেন হলের কর্মচারীরা।

জানা যায়, বেগম রোকেয়া বিশ্বিবদ্যালয়ের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ৩টি আবাসিক হল। শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে কোনো সমস্যা না থাকলেও দীর্ঘদিন থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও শহীদ মুখতার ইলাহী হলে অকল্পনীয় নৈরাজ্য বিরাজ করছে। ইতিপূর্বে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় হলের অধিকাংশ বৈধ শিক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে বের করে দেওয়া হয়েছে। এরপর আর বৈধভাবে হলে উঠতে পারেনি কোনো শিক্ষার্থী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৭ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু হল এবং একই বছরের ২৮ অক্টোবর শহীদ মুখতার ইলাহী হল উদ্বোধন করা হয়। ওই বছর পুরো মেধার ভিত্তিতে দুই হলে প্রায় ৭শ শিক্ষার্থীকে আবাসিকতার সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে হলে বিশৃংখলা সৃষ্টি করে বৈধ শিক্ষার্থীদের মারধরসহ বিভিন্নভাবে হল থেকে বের করে দেয় কতিপয় ছাত্রনেতা। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও নতুন করে আসন বরাদ্দ দেয়নি হল প্রশাসন। 

খাতা-কলমে দুই হলে প্রায় ৪শ আসন ফাঁকা থাকলেও বাস্তবে আসন সংখ্যার চেয়ে ওই দুই হলে অবস্থানকারীর সংখ্যা দ্বিগুনেরও বেশী। সর্বশেষ গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শহীদ মুখতার ইলাহী হলে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে আসন বরাদ্দ দেয়া হয়।

 তবে, অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা আসন ছেড়ে না দেওয়ায় নতুনভাবে আবাসিকতার সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরা অধিকাংশই হলে উঠতে পারেনি। বর্তমানে ওই হলের মোট ২শ ৪০টি আসনে ১শ ৫০ জন শিক্ষার্থী বৈধভাবে অবস্থান করছে। 

বঙ্গবন্ধু হল সূত্রে জানা যায়, ওই হলে ৩শ ৫৫টি আসনের মধ্যে মাত্র ৩২ জন বৈধভাবে অবস্থান করছেন। আর নতুন করে বরাদ্দ দেয়া ৬৯ জনের মধ্যে ভর্তি হয়েছেন ২৩ জন। 

বিশ্বিবদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, তারা ভর্তির সময় আবাসিক ফি জমা দিয়েও আবাসিক সুবিধা পাচ্ছে না। অতি দ্রুত হলে নতুন করে আসন বরাদ্দের দাবি জানায় তারা।

এদিকে, হলগুলোতে বৈধ শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় হলের ফান্ড শূন্য হয়ে গেছে। এতে, ৪/৫ মাস যাবৎ বেতন বঞ্চিত রয়েছেন ২৫ জন কর্মচারী। বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। 

এ বিষয়ে  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের কর্মচারী বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘হল থেকে যে বেতন দেয় তার ওপর আমার পরিবারের ব্যয়ভার নির্ভর করে। দীর্ঘ ৪ মাস বেতন না পাওয়ায় আমার পরিবারকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। বিশ্বিবদ্যালয় হল প্রশাসন এ ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করলে আমার জন্য অনেক ভালো হয়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট (চলতি দায়িত্ব) তাবিউর রহমান প্রধান বলেন, ‘যাদের মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হয়েছে অথবা ছাত্রত্ব নেই তাদের হল ছাড়ার জন্য ইতিপূর্বে তিনবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, মাত্র ২০ জন শিক্ষার্থী এ নির্দেশনা মানলেও বাকিরা অবৈধভাবে হলে অবস্থান করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত সপ্তাহে সর্বশেষ একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ৭ দিনের মধ্যে অনাবাসিকদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা এ নির্দেশ অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

শহীদ মুখতার এলাহী হলের প্রভোস্ট ফেরদৌস রহমান জানান, ‘অনাবাসিকদের কারণে নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের আন্তরিকতা ও বিশ্বিবদ্যালয় প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপ ছাড়া এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনাবাসিকদের কারণে দীর্ঘ ৫ মাস থেকে হলের কর্মচারীদের বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’ 

আরও পড়ুনঃ কলেজ ছাত্রী মুক্তার ঘাতক গ্রেফতার

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবু কালাম মো: ফরিদ উল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বৈধভাবে হলে আবাসিক সুবিধা দেওয়ার জন্য হল প্রোভোস্টগণ যেভাবে চাইবে আমরা সহযোগিতা করব।’

ইত্তেফাক/নূহু