বড় ধরনের শাস্তি পেলো আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২১, ১৭:২০

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘকে দুই বছরের জন্য প্রথম বিভাগে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ক্লাবটির চারজন কর্মকর্তাকে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ডিসিপ্লিনারি কমিটি।   

আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের অনৈতিক কার্যকলাপের প্রমাণ পেয়েছিল এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও। এএফসির নির্দেশনা পেয়েই বাফুফে ক্লাবটির বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত করে। বাফুফের পাতানো খেলা সনাক্তকরণ কমিটি সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে নানা তথ্য-উপাত্ত এবং ক্লাবের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মোবাইল কথোপকথনের ফরেনসিক প্রতিবেদনে স্পট ফিকিংয়ের প্রমাণ পায়।

রবিবার (২৯ আগস্ট) বাফুফের ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘পাতানো খেলা শনাক্তকরণ কমিটি অনেকগুলো সভা করে। আমাদের কাছে তারা একটি রিপোর্ট দেয়। সেই রিপোর্ট এবং আমাদের ডিসিপ্লিনারি কোডের ভিত্তিতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ বাংলাদেশের ফুটবলে পাতানো ম্যাচের আগে শাস্তি হলেও বেটিং কিংবা ফিক্সিংয়ের জন্য এ রকম শাস্তি এবারই প্রথম। এএফসি’র তদারকির জন্য বাফুফে গুরুত্ব সহকারেই এই তদন্ত করেছে। 

                                No description available.

ক্লাবের সাবেক ফিজিও ভারতের সঞ্চয় বোস, প্লেয়ার এজেন্ট ভারতের আজিজুল শেখকে ফুটবল থেকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ক্লাবের খেলোয়াড় আপেল মাহমুদকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ৫ বছরের জন্য। এছাড়াও তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে খেলোয়াড় আবুল কাশেম মিলন, আল আমিন, মো. রকি, জাহিদ হোসেন, রাহাদ মিয়া, সৈকত, শামীম রেজা, অস্ট্রেলিয়ান স্মিথকে।

দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে ফুটবলার ওমর ফারুক, রাকিবুল ইসলাম, মেহেদী হাসান ফাহাদ, মিরাজ মোল্লা ও নাইজেরিয়ান চিজোবা ক্রিস্টোফারকে।

পাতানো খেলা শনাক্তকরণ কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে জমা দেয়ার পর ক্লাবটিকে পেশাদার ফুটবল লিগ থেকে বহিস্কার করে প্রথম বিভাগে নামিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রথম বিভাগে দুই বছর খেলার নির্দেশ দেয়। অবনমন ও নিষিদ্ধের পাশাপাশি ক্লাবকে পাঁচ লাখ টাকা আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে। সেই জরিমানার অর্থ আগামী এক মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

বাফুফে আরামবাগের চারটি ম্যাচ ও ব্রাদার্সের কয়েকটি ম্যাচে স্পট ফিক্সিংয়ের সন্দেহ করেছিল। পাতানো খেলা শনাক্তকরণ কমিটি অবশ্য ব্রাদার্সের ম্যাচগুলোতে সেভাবে সম্পৃক্ততা পায়নি। আরামবাগের ম্যাচগুলো নিয়ে তদন্ত শেষে রিপোর্টের ভিত্তিতে শাস্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিসিপ্লিনারি কমিটি। 

ইত্তেফাক/এসআই