চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের (২০২০-২১) শিক্ষাবর্ষের পরিবহন ফি এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে হলের বাসন-কোশন, সিট ভাড়া বাবদ নির্ধারিত ফি মওকুফ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেশিরভাগ শিক্ষার্থী চলতি বছরেই এই মওকুফের আওতাভুক্ত হতে পারবেন না। কেউ কেউ আগামী বছর আবার কেউ কেউ আরও ২ বছর পর এই মওকুফের আওতাভুক্ত হবেন।
কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে নাখোশ শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন সঙ্কট এ বছর আর মওকুফ আগামীতে হবে এমন সিদ্ধান্তের কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাদের দাবি সঙ্কট যেহেতু এ বছর তাই এ বছরই ফি মওকুফ করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মাসুদ রানা দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, করোনাকালীন এই সময়ে অনেক শিক্ষার্থী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তাই আমাদের চাওয়া হচ্ছে এ বছরের মওকুফটা এ বছরেই করা হোক। আগামী বছর করে তো আমাদের তেমন কোনো উপকারে আসবে না।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগ সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, করোনার কারণে এখন অনেক শিক্ষার্থীই আর্থিক সঙ্কটে আছে। এমন অবস্থায় মওকুফের বিষয়টি এ বছর থেকেই অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
শিক্ষার্থীদের এ দাবির পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকও। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক জাকির হোসেন দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, মওকুফের বিষয়টি যে সময় থেকে করোনা শুরু হয়েছে সে সময় থেকেই বিবেচনা করতে হবে। এতে করে যারা কষ্টে আছে তাদের তাদের সে কষ্ট লাঘব হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান বলেন, এ বিষয়টা আমরা আগামী সিন্ডিকেটে তুলবো। সিদ্ধান্ত তো আমি একা নিতে পারবো না। তাই সবাই যেটা মতামত দিবে সেটাই হবে।
তিনি বলেন, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে যদি এ বছরই মওকুফ করা হয় তাহলে যারা ইতোমধ্যে ফি দিয়ে দিয়েছেন তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/এমএএম
