অনল কুমার দে, শরীয়তপুর প্রতিনিধি
পদ্মা ও মেঘনা নদীতে পানি বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে স্রোতের তীব্রতা। আর তীব্র স্রোতের কারণে চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌপথে ফেরি চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। এ কারণে তিনটি ফেরি ১২-১৫ ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অন্য ফেরিগুলোও পারাপারে দ্বিগুণ সময় লাগছে। রবি ও সোমবার সড়ক ও ফেরিঘাটের টার্মিনালে অন্তত তিন শতাধিক গাড়ি আটকা পড়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিটিসি) সূত্র জানায়, চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌপথে যানবাহন পারাপারের জন্য সাতটি ফেরি রয়েছে। মেঘনা নদীতে স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় ফেরি কিশোরী, কামিনি ও কস্তুরি চলাচল করতে পারছে না। আর শরীয়তপুরের নরসিংহপুর থেকে ফেরিগুলো ছেড়ে চাঁদপুরের বহরিয়ারটেক হয়ে উজানে গিয়ে মেঘনা পাড়ি দিতে হচ্ছে। এ কারণে পাঁচ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলতে হয়। এখন ওই নৌপথ পাড়ি দিতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগছে। আর গাড়ি পারাপার করা যাচ্ছে ২৫০-৩০০টি। নরসিংহপুর ফেরিঘাট থেকে চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাটে পৌঁছতে আগে এক ঘণ্টা সময় লাগত। প্রতি দিন ৪৫০ থেকে ৫০০ যানবাহন পারাপার করা যেত।
যশোর-চট্রগ্রামে যাতায়াতকারী ট্রাকচালক আব্দুর রহিম বলেন, বাংলাবাজার ঘাট থেকে ফেরি ছাড়ছে না। দৌলদিয়ায় গাড়ির জট। আর নরসিংহপুর ঘাটে স্রোতে ফেরি চলতে পারছে না। কখন ফেরিতে উঠতে পারব তা বুঝতে পারছি না। আল্লাহই জানেন আমাদের এ দুর্ভোগের শেষ কোথায়। ফেরি ‘কিশোরী’র চালক গোলাম সারওয়ার বলেন, নদীতে প্রচণ্ড স্রোত আর কচুরিপনা। যার কারণে ফেরি চালাতে পারছি না। দিনের বেশির ভাগ সময়ই ঘাটে বসে থাকতে হচ্ছে। জোয়ারের সময় নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে স্রোত কিছুটা কমে আসে তখন ফেরি চালাতে পারি। নরসিংহপুর ফেরিঘাটের ইজারাদার ও চরসেন্সাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিতু মিয়া ব্যাপারী বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের জন্য পদ্মা ও মেঘনা নদীর ফেরিঘাটগুলো গুরুত্বপূর্ণ। এ নৌপথে অনেক পুরোনো দুর্বল ফেরি চলাচল করে। যার কারণে বর্ষা এলেই ফেরি চলালে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিটিসি) নরসিংহপুর ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুল মোমেন বলেন, স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রতি ৬ ঘণ্টা পরপর জোয়ার-ভাটা হয়। তখনই নদীতে স্রোত বেশি থাকে, আর ফেরি চলাচল করতে পারে না। এ কারণে এ নৌপথের তিনটি ফেরি দিনে অন্তত ১২-১৫ ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হয়। স্রোত কমে গেলে পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
