তালেবান আফগানিস্তানে সরকার গঠনের দুই দিনের মাথায় জম্মু-কাশ্মিরের সুরক্ষা ব্যবস্থার বিশদ পর্যালোচনা করতে বৈঠক করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, কাবুলে তালেবান সরকার গড়ায় উপত্যকা নিরাপত্তার দিক থেকে কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে চলেছে, মূলত তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে গতকালের বৈঠকে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
বিচ্ছিন্নতাবাদ কমিয়ে উপত্যকার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে ৮০ হাজার কোটি রুপির প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, তার আওতায় থাকা সমস্ত প্রকল্পের কাজে যাতে গতি আসে, তার ওপরেও জোর দেওয়া হয় বৈঠকে। কাবুলে ক্ষমতার পালাবদলের পরে সে দেশের মাটি যে ভারতবিরোধী কার্যকলাপে ব্যবহার হবে, সেই বিষয়ে প্রায় নিশ্চিত দিল্লি। উপত্যকায় বরফ পড়ার আগে জঙ্গি অনুপ্রবেশ বাড়বে বলেও আশঙ্কা।

যাদের একটি বড় অংশ এই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর লঞ্চ প্যাডগুলোতে অপেক্ষায় বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা। এদের সঙ্গে এবার তালেবান জঙ্গিদের একাংশও ভারতে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এখন কাশ্মিরে প্রায় শ’ দুয়েক জঙ্গি সক্রিয়। যাদের অধিকাংশ উপত্যকার বাসিন্দা। কিন্তু আফগানিস্তানে তালেবান জঙ্গিদের একটি বড় অংশ এখন কর্মহীন হয়ে পড়ায় তাদের পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মির দিয়ে ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে বলে খবর।
বৈঠকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হুরিয়ত নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানির মৃত্যুর পরে উপত্যকায় হুরিয়তের ভূমিকা কী হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়। অমিত শাহের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ঐ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, সেনাপ্রধান এম এম নরবণে, আইবি ও র-এর প্রধান। ছিলেন বিএসএফ ও সিআরপিএফের ডিজি। বৈঠকের শেষ ভাগে যোগ দেন লাদাখের উপরাজ্যপাল আর কে মাথুরও। উপত্যকায় উগ্রপন্থা নিয়ন্ত্রণে উন্নয়নকে হাতিয়ার করার কৌশলে জোর দেওয়া হয়েছে বৈঠকে।
প্রধানমন্ত্রীর প্যাকেজের প্রকল্পে গতি আনা এবং তাতে স্থানীয়দের চাকরি দেওয়ার বিষয়টিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য জম্মু-কাশ্মিরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিন্হাকে নজর দিতে অনুরোধ করেন অমিত শাহ।
ইত্তেফাক/টিআর

