রাজশাহীর বাঘা উপজেলা ভূমি অফিসকে দুর্নীতি মুক্ত করতে সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) মোট ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এক যোগে বদলি করা হয়েছে। একই স্থানে দীর্ঘদিন কর্মরত এবং অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসায় জেলা প্রশাসক এ বদলির আদেশ দেন।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জেলার মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হয়। ২৭ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক এ বদলির আদেশ দেন।
বদলিকৃতরা হলেন- উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইমরুল কায়েস, জমা সহকারী, অফিস সহকারী, ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী, সার্ভেয়ার, সার্টিফিকেট সহকারী, নাজির, অফিস সহায়ক, চেইনম্যান ও নৈশ প্রহরীসহ মোট ১৮ জন।
আরো পড়ুন: ৩০ মিনিট পর ফটোকপি প্রশ্নে পরীক্ষা, দেওয়া হয়নি অতিরিক্ত সময়
বাঘা রেনেসা ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন সোহাগ বলেন, একই স্থানে একাধিক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন চাকরির সুবাদে তারা অনেকটা লাগামহীন হয়ে পড়ে। জমির দলিল খারিজ, নামজারি, রেকর্ড সংশোধন ইত্যাদি কাজ নিয়ে মানুষ ভূমি অফিসে এলে ইদানিং অনেকটা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। এদিক থেকে জেলা প্রশাসক বদলি ব্যবস্থা চালু করায় অনেক ভাল একটা কাজ করেছেন।
আরো পড়ুন: ঢাকার ময়লা দূর করতে কলকাতায় সাঈদ খোকন
আড়ানী ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী নওশাদ আলী বলেন, আমরা সরকারি চাকরি করি। একই স্থানে চাকরি করতে হবে এ বিধান নেই। এছাড়া আড়ানীতে বেশ কিছুদিন হয়ে গেছে। আমি নিজেও বদলির জন্য চিন্তা করছিলাম। সেটা নিয়মের মধ্যে হয়েছে। তবে আমার চাকরি জীবনে এই প্রথম একসঙ্গে এতো কর্মচারী বদলি করা হয়েছে। ভূমি অফিসের বদনাম লাঘব করার লক্ষে জেলা প্রশাসক এ বদলির আদেশ দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, কর্মচারীরা দীর্ঘদিন থেকে একই স্থানে কর্মরত থাকলে বিভিন্ন ধরনের সিন্ডিকেটে জড়িয়ে পড়ে। এ সিন্ডিকেট থেকে দূরে রাখতে জেলা প্রশাসক বদলির আদেশ দিয়েছেন।
সার্বিক বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক এসএম আবদুর কাদের বলেন, গোটা রাজশাহী জেলাতেই বদলি করা হয়েছে। কাজের গতি ফিরিয়ে আনা, সেবার মান বৃদ্ধি, অনিয়ম দুর্নীতি মুক্ত করার লক্ষে এ বদলি করা হয়।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
