ছাতকে একটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিকে গ্রেফতারের পর থানায় জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও প্রচারের ঘটনায় এলাকা জুড়ে তোলপাড় চলছে। খোদ ওসির কক্ষে ধারণ করা এই ভিডিও পরবর্তী সময়ে ‘ছাতক টু সুনামগঞ্জ’ নামে একটি ফেসবুক পেজে লাইভে প্রচার ও ইউটিউবের ‘নান্দনিক সংলাপ’ নামে চ্যানেলে আপলোড করা হয়। ভিডিও আপলোড দেওয়ার পরমুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটে ‘ছাতক টু সুনামগঞ্জ’ নামে ফেসবুক পেজে লাইভটি প্রচারের পর প্রায় ৫ হাজার মানুষ ভিডিওটি দেখেন। পরে ঐ ভিডিও ‘নান্দনিক সংলাপ’ নামে ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করা হয়। এটা পুলিশের খামখেয়ালি ও দায়িত্বে অবহেলা বলে লাইভ চলাকালে অনেকেই মন্তব্য করেন। জিজ্ঞাসাবাদের গোপন এই ভিডিও কীভাবে ফেসবুক ও ইউটিউবে চলে গেল, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
প্রায় এক ঘণ্টা পর ‘ছাতক টু সুনামগঞ্জ’ পেজ থেকে ভিডিওটি ডিলিটও করে দেওয়া হয়। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইউটিউব চ্যানেলে এখনো ভিডিওটি দেখা যাচ্ছে। ভিডিওতে গ্রেফতার ব্যক্তিসহ ছাতক থানার ওসি নাজিম উদ্দিন, গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমানসহ কয়েক জন পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়।
ইউটিউব চ্যানেলে সংবাদ হিসেবে ভিডিও আপলোড করেছেন শামীম তালুকদার নামের একজন। ‘ছাতক টু সুনামগঞ্জ’ পেইজে সংবাদ আকারে ভিডিওটি আপলোড করে আবার পরে ডিলিট করে দেন ফয়সল আহমদ।
এ ব্যাপারে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখছেন। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, প্রথমে তিনি এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না। এ ব্যাপারে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ছাতক থানার ওসি নাজিম উদ্দিন বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তিনি এসব করেননি। জিজ্ঞাসাবাদের পর কেউ হয়তো ভিডিওটি অন্যভাবে সংগ্রহ করেছে। ফেসবুকে লাইভ প্রচার করা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে ওসি জানান, এ ব্যাপারে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফেসবুক পেজের চেয়ারম্যান দাবিদার ফয়সাল আহমদ এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেলেই ফোন কেটে দেন। হত্যামামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহিন উদ্দিন জানান, ভিডিওটি তার কাছে নেই। তবে কে কীভাবে এটি প্রচার করেছে, তা-ও তিনি বলতে পারেননি।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে আখলাকুর রহমান ওরফে আখলাদ (৩৫) নামে এক ব্যবসায়ী উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ বাজার থেকে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তের হাতে খুন হন। রাতেই গ্রামের মাঠের খেতের জমি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। আখলাদ গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের মোল্লাআতা গ্রামের জাহির আলীর ছেলে ও গোবিন্দগঞ্জ বাজারের একজন ব্যবসায়ী।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ একই ইউনিয়নের গোবিন্দনগর গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে আবু সুফিয়ান সোহাগকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করেছে। তার দেওয়া তথ্যমতে দীঘলি-চাকলপাড়া গ্রামের আশরাফুল আলমের ছেলে আলীম উদ্দিনকে নিজ বাড়ি থেকে বুধবার রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। থানায় সোহাগকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিওটিই প্রচারিত হয়েছে।
0
