আজারবাইজান সীমান্তে ইরানের সামরিক মহড়া 

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২১, ০২:৫৭

অবশেষে আজারবাইজান সীমান্তে সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইরান। তেহরান এর আগে ঘোষণা দিয়েছিল, তারা ঐ সীমান্তে বৃহৎ পরিসরে সামরিক মহড়া করবে। আর সে অনুযায়ীই গতকাল থেকে সীমান্তে সামরিক মহড়া শুরু হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখা গেছে, ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে ট্যাংক, হেলিকপ্টার, কামান নিয়ে মহড়া চালাচ্ছে সেনারা।

আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে জানায় ইরানের দাবি, প্রতিবেশী আজারবাইজান সীমান্তে ইসরাইল এবং জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই মহড়ায় নেমেছে তারা। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই অঞ্চলে প্রথম বারের মতো নিজেদের তৈরি দূরপাল্লার ড্রোন এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। তেহরান জানিয়েছে, তার চিরশত্রু ইসরাইলের সঙ্গে আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক নিয়ে উদ্বিগ্ন। তেলআবিব আজারী সেনাবাহিনীকে উচ্চ প্রযুক্তির অ্যাসল্ট ড্রোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে বলে দাবি ইরানের। 

এর আগে ইরানের স্থলবাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিয়োমারস হায়দারি বলেন, যুদ্ধের প্রস্তুতির লক্ষ্যে এই মহড়া। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘খাইবার বিজয়’। হিজরি সপ্তম সনের (৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে) মুহরম মাসে মুসলিমদের সঙ্গে ইহুদিদের খাইবার প্রান্তে সংগঠিত যুদ্ধের নামে ইরান মহড়ার এই নামকরণ করেছে। এদিকে বৃহস্পতিবার তেহরানে আজারবাইজানের নতুন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমিরাবদুল্লাহিয়ান। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইরান তার জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে জায়নবাদী শাসনের উপস্থিতি এবং কর্মকাণ্ড সহ্য করবে না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য থাকবে ইরান।

গত বছর আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলাকালে কিছু আইএসের যোদ্ধাদের ডাকা হয়। এ বিষয়ে ইরানের সেনাবাহিনীর কমান্ডার জানান, ‘আমরা নিশ্চিত না আজারবাইজান সীমান্ত থেকে আইএসের সদস্যরা ফিরে গেছে কি না। কিন্তু তাদের অবশ্যই এই এলাকা ত্যাগ করতে হবে।’ সীমান্তে সামরিক মহড়ায় ইরানের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ। তিনি বলেন, প্রত্যেক দেশ তাদের নিজস্ব অঞ্চলে মহড়া চালাতে পারে, এটা তাদের সার্বভৌম অধিকার। কিন্তু ইরান কেন এ সময় আমাদের সীমান্তে মহড়া চালাচ্ছে! কেন তারা আর্মেনিয়া সীমান্তে মহড়া চালাচ্ছে না!

ইরান ও আজারবাইজানের প্রায় ৭০০ কিলোমিটার সীমান্ত আছে। এছাড়া ইরানে অনেক আজেরি নৃগোষ্ঠীগত জনসংখ্যা রয়েছে যারা দেশটির উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে বসবাস করে।

ইত্তেফাক/এএইচপি