দেশের বাজারে অবৈধভাবে মোবাইল ফোনের আমদানি বন্ধ, মোবাইল চুরি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সরকারের রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে গত ১ অক্টোবর ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) প্রযুক্তি চালু করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)। এনইআইআর ব্যবস্থা চালুর পর গত ৯ দিনে প্রায় ১১ লাখ হ্যান্ডসেট এই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, এনইআইআর সিস্টেমের অধীনে গত ৯ দিনে মোট ১০ লাখ ৯০ হাজার হ্যান্ডসেট নিয়ন্ত্রণে এসেছে। যার মধ্যে ৭ লাখ ১০ হাজার বৈধ, বাকি ৩ লাখ ৮০ হাজার হ্যান্ডসেট অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অবৈধ এসব হ্যান্ডসেটে ব্যবহৃত সিমে ইতোমধ্যেই বৈধ কাগজের মাধ্যমে নিবন্ধন করার বার্তা পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।
গ্রাহকের ভোগান্তি কমাতে চলছে ‘টোকেন বন্ধ’ কার্যক্রম, এই প্রক্রিয়ায় প্রতিদিন হাজার খানেক সেট লক করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি। এই কার্যক্রমে ক্রেতাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ায় বিক্রেতারাও এখন গ্রাহককে দেয়া ‘অবৈধ’ ফোন ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।
বিটিআরসির কমিশনার ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম শহীদুজ্জামান বলেন, আমরা আইডেন্টিফাই করেছি এ সেটগুলো বৈধ নয়। এগুলো যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কিছু কিছু হ্যান্ডসেট র্যানডমলি বন্ধ করা শুরু করেছি, যেন গ্রাহকরা সচেতন হন যে, অবৈধ সেট কেনা যাবে না। গ্রাহকরা যেন অসুবিধায় না পড়েন তাই সব সেট একসঙ্গে বন্ধ করছি না। তাদের সময় দিচ্ছি তারা যেন হ্যান্ডসেটটি দোকান থেকে পরিবর্তন করে আনতে পারেন। নতুবা টাকা ফেরত নিয়ে আসতে পারেন। কোনোভাবেই আমরা গ্রাহকের ভোগান্তি চাই না।
অবৈধ সনাক্ত ফোনের সংযোগ একের পর এক বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে জানিয়ে বিটিআরসির স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহিদুল আলম জানিয়েছেন, অবৈধ মেসেজ যাওয়া ফোন যদি কোনও মোবাইল বিক্রেতা ফেরত না নেন, বদলে না দেন বা টাকা ফেরত না দেন তবে বিটিআরসির কল সেন্টার, ১০০ নম্বরে ফোন দিয়ে জানাতে পারেন। বিটিআরসি এই বিষয়ে গ্রাহককে আইনগত সহায়তা দিচ্ছে।

বিটিআরসির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কর্মকর্তারা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে রাজধানীর কয়েকটি শপিং মলের মোবাইল ফোনের দোকানে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা অনিবন্ধিত ফোন ফেরত নেওয়ার জন্য চিঠি বিতরণ করেছেন। ওই চিঠি হাতে পেয়ে মোবাইল ব্যবসায়ীরা তা মানবে বলে সম্মতিও দিয়েছে বলেও জানিয়েছে বিটিআরসির।
এরআগে ৩ মাসের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে গত ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছিলো এনইআই আর বাস্তবায়নের কাজ। এই কার্যক্রম চলার সময়ে যারা সেটে ‘অবৈধ’ বার্তা পাবেন তাদেরকে বিক্রেতার কাছে মোবাইল ফোন ফেরত দিয়ে বৈধ ফোন সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। যেহেতু ৩০শে জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত বৈধ-অবৈধ সকল সেটই নিবন্ধিত হয়ে গেছে সেক্ষেত্রে মালিকানা হস্তান্তর কিংবা চুরি হয়ে যাওয়া ফোন সনাক্তেও বিশেষ ফিচার রাখা হয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্ট্রারে। সময় হলেই এই ফিচার চালু করবে বিটিআরসি। তবে গ্রাহক চাইলে neir.btrc.gov.bd ওয়েব লিংকে গিয়ে বিদ্যমান সিটিজেন পোর্টাল থেকেও মোবাইল সেটের মালিকানা হস্তান্তরের সুযোগ নেয়া যাচ্ছে। শুধু চুরি বা হারানো ফোনগুলোর ‘বৈধতা’য় আরো অপেক্ষা করতে হবে বলেও জানা গেছে।
ইত্তেফাক/আরকে
